পাবিপ্রবিতে আবারও র্যাগিং, নবীন শিক্ষার্থী হাসপাতালে ভর্তি
Advertisement
পাবনা ও পাবিপ্রবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) আবারো র্যাগিংয়ের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার বিকালে পাবিপ্রবির ফার্মেসি বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের (১৭তম ব্যাচ) কয়েক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের (১৮তম ব্যাচ) নবীন শিক্ষার্থীদের র্যাগিংয়ের অভিযোগ উঠেছে। র্যাগিংয়ে এক নবীন শিক্ষার্থী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভুক্তভোগী ওই নবীন শিক্ষার্থীর নাম মুশফিকুর রহমান তুহিন। অভিযুক্ত সিনিয়র শিক্ষার্থীরা হলেন ফার্মেসি বিভাগের সোহানুর, সাকিব, জাহিদ, তানিম, ইউনুস, মুশফিক ও সাইদুরসহ আরও কয়েকজন। ক্যাম্পাস সূত্র ও অভিযোগে জানা গেছে, মঙ্গলবার ১৭ ব্যাচের অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা ১৮ ব্যাচের সব ছেলে শিক্ষার্থীকে বিকাল সাড়ে ৩টার মধ্যে বাংলা ক্লিনিক এলাকার একটি মেসে উপস্থিত হতে নির্দেশ দেন। নবীন শিক্ষার্থীরা সেখানে উপস্থিত হলে ১৭ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা নবীন শিক্ষার্থীদের নানাভাবে ভুল ধরতে থাকেন এবং অভিযোগ তুলে তাদের সঙ্গে উচ্চস্বরে কথা বলেন, গালাগাল করেন এবং মানসিক নির্যাতন করেন। মানসিক নির্যাতনে মুশফিকুর রহমান তুহিন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ সময় তিনি প্রচণ্ড ঘামতে থাকেন এবং এক পর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। প্রথম দিকে সিনিয়ররা বিষয়টি গুরুত্ব দেননি। কিন্ত দ্রুত তার অবস্থার অবনতি হলে রাত ৮টার দিকে তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসক র্যাগিংয়ের ঘটনা শুনে তাৎক্ষণিক পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে রাতেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, বিভাগের চেয়ারম্যান ও শিক্ষকরা হাসপাতালে যান ওই শিক্ষার্থীকে দেখতে।
এদিকে ওই শিক্ষার্থীর অবস্থার উন্নতি না হলে রাত ১১টার দিকে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ১৮ ব্যাচের একাধিক নবীন শিক্ষার্থী জানান, সিনিয়ররা তাদের মেসে ডেকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং মানসিক চাপ সৃষ্টি করেন। কমপক্ষে ৭ শিক্ষার্থী র্যাগিংয়ের শিকার হন। কিন্তু অধিকাংশই ভয়ে চেপে যান। মুশফিক শারীরিকভাবে দুর্বল হওয়ায় মানসিক চাপের কারণে তিনি আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত সিনিয়র ব্যাচের একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদেরকে পাওয়া যায়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান খান বলেন, আমরা হাসপাতালে এসে প্রাথমিকভাবে র্যাগিংয়ের ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। এদিকে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার আলমগীর হোসেন জানান, র্যাগিংয়ের অভিযোগ তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বুধবার বিজ্ঞান অনুষদের ডিনের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করেছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দফতরের পরিচালক এবং প্রক্টর। কমিটিকে আগামী ৭ কর্ম দিবসের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রসঙ্গত : পাবিপ্রবিতে এর আগেও ধারাবাহিক র্যাগিংয়ের ঘটনা ঘটেছে। র্যাগিংয়ে নির্যাতন ও অপমান সহ্য করতে না পারায় আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটে। কিন্ত সেসব ঘটনার অধিকাংশই ধামাচাপা পড়ে যায়।
