জাতীয় সংসদ অধিবেশন
বিমান ও নৌবন্দরে স্ক্যানার বসবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
Advertisement
সংসদ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে আগামী ৫ বছরের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসাবে বিমানবন্দর, নৌবন্দর (মোংলা) ও বাসটার্মিনালে স্ক্যানার এবং এক্সরে মেশিন স্থাপন করা হবে। এছাড়া ডগ স্কোয়াড, ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব এবং সাইবার সিকিউরিটি ইউনিটের মাধ্যমে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে মো. তাজউদ্দীন খানের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এদিন প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ : সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে শক্তিশালী করার জন্য জনবল বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
ইতোমধ্যে উপজেলা পর্যায়ে সার্কেল স্থাপনের জন্য সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং জেলা পর্যায়ে অফিস ভবন নির্মাণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করতে অতিরিক্ত যানবাহন, বডি ওর্ন ক্যামেরা এবং আধুনিক সরঞ্জাম কেনা হবে। সারা দেশে রাসায়নিক পরীক্ষাগার স্থাপনের কাজ দ্রুত শুরু করা হবে। পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং মাদক চোরাকারবারিদের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং অভিযান জোরদার করা হচ্ছে।
কোনো নিরাপরাধ বিডিআর সদস্যকে চাকরিচ্যুত করা হয়নি : কোনো নিরাপরাধ বিডিআর সদস্যকে চাকরিচ্যুত করা হয়নি বলে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ কারণে চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের চাকরিতে পুনর্বহালের সুযোগ নেই। তিনি বলেন, ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত বিদ্রোহ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন বিডিআরের আইন ও বিধি অনুযায়ী গঠিত বিভাগীয় স্পেশাল কোর্ট এবং প্রশাসনিক বিচারব্যবস্থায় সংশ্লিষ্ট বিডিআর সদস্যদের বিভিন্ন ইউনিট কর্তৃক গঠিত তদন্ত পর্ষদের মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়।
বিডিআর সদস্যকে চাকরি থেকে বরখাস্ত : মন্ত্রী বলেন, ৬ হাজার ২৮৬ জন বিডিআর সদস্যকে চাকরি থেকে বরখাস্ত (বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডসহ) এবং প্রশাসনিক বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে দুই হাজার ৫১০ জন বিডিআর সদস্যকে পেনশন সুবিধাসহ চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান করা হয়েছে। অর্থাৎ সর্বমোট আট হাজার ৭৯৬ জন বিডিআর সদস্যকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের মধ্য থেকে ৮৫০ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা এবং ৮৩৪ জনের বিরুদ্ধে একটি বিস্ফোরক মামলা দায়ের করা হয়। হত্যা মামলায় নিম্ন আদালত কর্তৃক অভিযুক্ত বিডিআর সদস্যদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এই মামলা সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে আপিল চলমান রয়েছে। এ ছাড়া বিস্ফোরক মামলায় ৮৩৪ জন বিডিআর সদস্যের বিরুদ্ধে নিম্ন আদালতে বর্তমানে বিচারকাজ চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।
সাজা শেষ হলে অন্য মামলা না থাকলে বিডিআর সদস্যদের খালাস : মো. ফজলে হুদার এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিডিআর বিদ্রোহে সাজাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি সাজা ভোগ শেষ করার পর তার বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা না থাকলে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কারাগার থেকে খালাস পান। তিনি বলেন, প্রচলিত আইন অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি সাজা ভোগ করার পর তার বিরুদ্ধে নতুন কোনো মামলা থাকলে তা যথাযথ তদন্ত এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে থাকে। শুধুমাত্র পরিচয়, পূর্ববর্তী সাজা বা রাজনৈতিক বিবেচনার ভিত্তিতে কেউ যেন কোনো প্রকার অযথা হয়রানির শিকার না হয়, সেজন্য পুলিশকে স্পষ্ট ও কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
