ঘরে ঢুকে নারীর চুল কেটে শরীরে মরিচের গুঁড়া
Advertisement
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঝিনাইদহে পরকীয়ায় লিপ্ত থাকার সন্দেহে ৪০ বছর বয়সী এক নারীকে মাথার চুল কেটে ও শরীরে মরিচের গুঁড়া লাগিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। এ ঘটনায় করা মামলায় প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার হরিণাকুন্ডু উপজেলার কাপাশাটিয়া গ্রামের একটি বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার আন্না খাতুন সদর উপজেলার অনোয়ার হোসেনের স্ত্রী। এর আগে বৃহস্পতিবার বিকালে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। রাতেই এ ঘটনায় মামলা করেন ভুক্তভোগী।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার নিজ বাড়িতে বসে ছিলেন ভুক্তভোগী নারী। ঘরে ঘুমাচ্ছিল তার ছেলে। এ সময় নারায়ণপুর গ্রামের আবদুর রশিদ নামের এক ব্যক্তি বাড়িতে এসে তার বিরুদ্ধে আনোয়ারের সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগ তোলেন। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই আনোয়ারের স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলে বাড়িতে আসেন। তারা পাঁচজন মিলে চুলের মুঠি ধরে তাকে মাটিতে ফেলে চুল কেটে দেন এবং সারা শরীরে মরিচের গুঁড়া লাগিয়ে দেন।
ওই নারীর কান্না-চিৎকার শুনে ছেলে মাকে বাঁচাতে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। পরে স্থানীয় পল্লিচিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নেন ওই নারী।
নির্যাতিত ওই নারী বলেন, আমরা জমি বিক্রি করে বাড়িতে পাকা রান্নাঘর ও গোয়ালঘর বানাচ্ছি। কিন্তু আনোয়ারের স্ত্রীর অভিযোগ, তার স্বামীর টাকায় আমরা এই কাজ করছি। আমরা হিন্দু মানুষ বলে বাড়ির ওপর এসে এভাবে নির্যাতন করেছে।
ভুক্তভোগী নারীর ছেলে বলেন, ঘর থেকে বের হয়ে দেখি কয়েকজন মিলে মাকে মাটিতে ধরে রেখে গায়ে মরিচের গুঁড়া মাখাচ্ছে। বাধা দিতে গেলে আমাকেও মারধর করে। আবদুর রশিদ উপস্থিত থেকে আমার মা ও আমাকে নির্যাতন করেছে।
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, ভুক্তভোগী নারী ৫ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন। মামলার প্রধান আসামি আন্না খাতুনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
