পিবিআই’র সংবাদ সম্মেলন
ব্ল্যাকমেইলিংয়ের জেরে খুন হন নিরঞ্জন
ময়মনসিংহ ব্যুরো
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
গোপনে ধারণ করা ভিডিও দিয়ে ক্রমাগত ব্ল্যাকমেইলিংয়ের জেরে খুন হন ময়মনসিংহের অটোরিকশা মালিক ও স্বর্ণালংকারের কারিগর নিরঞ্জন চন্দ্র সূত্রধর (৫০)। এ ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী ও ঘাতক শামীম মিয়াকে (৩৮) গ্রেফতারের পর চাঞ্চল্যকর এ তথ্য পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। রোববার পিবিআই ময়মনসিংহ জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, খাগডহর এলাকায় নিরঞ্জন ধরের অটোরিকশার গ্যারেজে ম্যানেজারের কাজ করতেন গ্রেফতার শামীম মিয়া। একপর্যায় দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্পর্কের সূত্র ধরে নিরঞ্জন নিয়মিত শামীমের ভাড়া বাসায় যাতায়াত করতেন। মা-বাবা বাসায় না থাকার সুযোগে একদিন শামীম এক নারীকে এনে তার রুমে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হন। বিষয়টি টের পেয়ে নিরঞ্জন গোপনে সেই দৃশ্যের ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করে রাখেন। পরবর্তী সময়ে নিরঞ্জন সেই ভিডিও দেখিয়ে শামীমকে ক্রমাগত ব্ল্যাকমেইল করতে থাকেন এবং মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন। ২১ সেপ্টেম্বর বিকালে শামীমের খাগডহরের ভাড়া বাসায় গিয়ে শামীমের কাছে টাকা দাবি করেন নিরঞ্জন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে শামীম ক্ষিপ্ত হয়ে ঘরে থাকা মসলা বাটার পাটার ভারি শিল দিয়ে নিরঞ্জনের মাথায় সজোরে আঘাত করেন। আঘাতে নিরঞ্জন মাটিতে পড়ে যান। এরপর শামীম তার মুখে কাপড় গুঁজে দেন এবং ঘর থেকে বঁটি এনে মাথায় উপর্যুপরি কোপ দিয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন। এরপর আলামত গুম করতে লাশটি একটি চটের বস্তায় বেঁধে ঘরের চালের ড্রামের ভেতর রেখে দেন। পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর রাতে একটি ইজিবাইক ভাড়া করে ড্রামটি নিয়ে বেগুনবাড়ি স্লুইস গেটের খালের পানিতে ফেলে দিয়ে আত্মগোপনে চলে যান শামীম।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি দেখে পরিবার নিহতের পরিচয় শনাক্ত করে। নিহতের স্ত্রী সবিতা রানী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করলে পিবিআই ছায়াতদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে তদন্তের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গাজীপুরের গাছা থানার বোর্ডবাজার এলাকা থেকে শামীমকে গ্রেফতার করে পিবিআই।
