শিশুসন্তানকে ফাঁসিতে ঝোলানোর চেষ্টা
‘আমাকে বাঁধিও না ছেড়ে দাও’
ফরিদপুর ব্যুরো ও নগরকান্দা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ফরিদপুরের নগরকান্দায় ঘরের বাঁশের আড়ায় ওড়না ঝুলিয়ে নিজের শিশুসন্তানকে ফাঁস দেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছেন এক নারী। ঘটনাটি নিজের মোবাইল ফোনেই ধারণ করে স্বামীকে পাঠিয়ে দেন তিনি। সেই ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই তা মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়। এতে দেখা যায়, যখন গলায় ফাঁস দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে তখন শিশুটি কাঁদতে কাঁদতে বলতে থাকে-‘আমাকে বাঁধিও না, ছেড়ে দাও, আমাকে ছেড়ে দাও।’ একপর্যায়ে স্থানীয়দের চিৎকারে শিশুটিকে ছেড়ে দেন ওই নারী।
মঙ্গলবার নগরকান্দা উপজেলার রাধানগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। ওই নারীর নাম বিথী আক্তার। তিনি ওই গ্রামের প্রবাসী আব্বাস আলীর স্ত্রী। এ ঘটনায় শিশুটির ফুপু মোসাম্মৎ রনি বেগম নগরকান্দা থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেছেন।
ওইদিন সন্ধ্যায় ৫৯ সেকেন্ডের ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। রাত ১১টায় শিশুটির মাকে আটক করে পুলিশ। একই সঙ্গে ওই শিশুসহ তার আরেক সন্তানকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
ওই ভিডিওতে দেখা যায়, টিনশেডের ঘরের বাঁশের আড়ায় ওড়না ঝুলানো রয়েছে। এক হাত দিয়ে শিশুটিকে ধরে রেখে অপর হাত দিয়ে মোবাইল ফোনে ভিডিও চালু করেন শিশুটির মা। এরপর চৌকির ওপর উঠে শিশুটিকে উঁচু করে গলায় ওড়না প্যাঁচিয়ে ফাঁস দেওয়ার চেষ্টা চালানো হয়। তখন শিশুটি হাত-পা ছড়িয়ে চিৎকার করতে থাকে। চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন এবং ঘরের বাইরে থেকে দরজায় সজোরে আঘাত করতে থাকেন। তখন শিশুটি কাঁদতে কাঁদতে বলতে থাকে, ‘আমাকে বাঁধিও না, ছেড়ে দাও।’ একপর্যায়ে স্থানীয়দের চিৎকারে শিশুটিকে ছেড়ে দেন ওই নারী।
নগরকান্দা থানার ওসি রাসুল সামদানী আজাদ জানান, ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ কাজ শুরু করে। এরই মধ্যে শিশুটির ফুপু রনি বেগম থানায় ঘটনাটি জানান। পুলিশ মা বিথী আক্তারকে আটক করে। পাশাপাশি দুই শিশুসন্তানকেও পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়।
ওই নারীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ওসি জানান, ওই নারীর স্বামী আব্বাস আলী ৮ বছর ধরে মালদ্বীপ রয়েছেন। তিনি দেশে আসেন না, সে কারণে সন্তানকে গলায় ফাঁস দেওয়ার চেষ্টার ভিডিও করে তাকে পাঠানোর জন্য এমন কাণ্ড ঘটান বলে দাবি করেছেন। তবে প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে কাজ করছে পুলিশ। পরে অভিযুক্ত নারীকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
