গ্যাস সংকট
দুই কারখানায় বন্ধ সার উৎপাদন
পদক্ষেপ নিতে বলেছে সংসদীয় কমিটি
সংসদ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে দেশে সার উৎপাদনে এখন বেহাল দশা। পরিস্থিতি সামাল দিতে তাই সার আমদানির ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে। বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) জানিয়েছে, গ্যাস সংকটের কারণে আশুগঞ্জ সারকারখানায় গত ১৯ মাস ধরে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এছাড়া একই সংকটের কারণে যমুনা সারকারখানায় গত দুই বছরে মাত্র তিনদিন সার উৎপাদন করা হয়েছে। বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে দেশের সার পরিস্থিতি সম্পর্কে বিসিআইসি এই চিত্র তুলে ধরে। এ পরিস্থিতিতে সার সংকট নিরসন ও ব্যয় কমিয়ে আনতে দেশে সার উৎপাদন বাড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বলেছে সংসদীয় কমিটি। এ সময় বন্ধ ও পে-অফ করা সারকারখানাগুলোর বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে চাওয়া হয়।
একই সঙ্গে বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় চালু এবং পুরোনো সারকারখানাগুলো আধুনিকায়নের মাধ্যমে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। এছাড়া সার সরবরাহ ব্যবস্থার সাপ্লাই চেইন ঠিক রাখতে ডিজিটাল রিয়েল-টাইম মনিটরিং ব্যবস্থা চালু এবং সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারী ডিলারদের লাইসেন্স বাতিলের ক্ষেত্রে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়।
কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে কমিটির সদস্যদের মধ্যে হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, তাহসিনা রুশদীর, খোন্দকার আবু আশফাক, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, মো. মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া ও মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান অংশ নেন।
বৈঠকে বিসিআইসি ও এর আওতাধীন কোম্পানিগুলো এবং বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়। এ ছাড়া রাসায়নিক সারের উৎপাদন, মজুত ও বিতরণ ব্যবস্থাপনা নিয়েও আলোচনা করেন কমিটির সদস্যরা। এ সময় বীজ উৎপাদনে দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করে কমিটি। পাশাপাশি জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে বিএডিসির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে কমিটির পরবর্তী বৈঠকে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপনের জন্য বলা হয়।
