যশোর জেনারেল হাসপাতাল
চিকিৎসাসেবার নামে নারীকে ব্ল্যাকমেইল কর্মচারীর
Advertisement
যশোর ব্যুরো
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
যশোর জেনারেল হাসপাতাল কর্মচারীর বিরুদ্ধে আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে এক নারীকে অনৈতিক কাজে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। ওই কর্মচারীর নাম আলমগীর হোসেন। সম্প্রতি ওই নারী আলমগীরের বিরুদ্ধে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
জানা যায়, চিকিৎসাসেবা নিতে এসে হাসপাতালের হেল্প ডেস্কে কর্মরত আলমগীরের সঙ্গে পরিচয় হয় ওই নারীর। এরপর হাসপাতালে গেলেই আলমগীর তাকে টিকিট কেটে দেওয়া, চিকিৎসকের কাছে নেওয়া ও ওষুধের ব্যবস্থা করে দিতেন। এভাবে তাদের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে।
ওই নারীর দাবি, একদিন ওষুধের জন্য হাসপাতালে গেলে আলমগীর তাকে জানান, প্রয়োজনীয় ওষুধ তার বাড়িতে রয়েছে। পরে তিনি তার সঙ্গে মোটরসাইকেলে শহরের বারান্দিপাড়ায় আলমগীরের ভাড়া বাসায় যান। সেখানে তাকে অনৈতিক কাজে বাধ্য করা হয় এবং ওই দৃশ্য গোপনে ভিডিও করা হয়। পরে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে তিন বছর অনৈতিক কাজে বাধ্য করা হয়েছে। এভাবেই আলমগীরের ব্ল্যাকমেইলের শিকার হন এক অসহায় নারী।
ওই নারী আরও অভিযোগ করেন, শুধু আলমগীরের ভাড়া বাসায় নয়, হাসপাতালের বহির্বিভাগের দন্ত বিভাগে ১১৯ নম্বর কক্ষেও তাকে অনৈতিক কাজে বাধ্য করা হয়। ভিডিওগুলো মুছে ফেলার জন্য বারবার অনুরোধ করলেও কাজ হয়নি। ওই নারী একপর্যায়ে কৌশলে আলমগীরের মোবাইল ফোন থেকেই ঘটনার একটি ভিডিও উদ্ধারে সক্ষম হন।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে আলমগীর ও ওই নারীকে হাত ধরাধরি করে একটি কক্ষে প্রবেশ এবং আলমগীরকে নিজ হাতে একটি স্থানে মোবাইল ফোন সেট করতে দেখা যায়। আলমগীরের পরনে কালো প্যান্ট, সাদা শার্ট এবং ওই নারীর পরনে ছাই রঙের পোশাক দেখা যায়।
অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর বিভিন্ন মাধ্যমে ভুক্তভোগী নারীকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করে আলমগীর বলেন, অন্যায় করেছি, আমি লজ্জিত। সবার কাছে মাফ চাচ্ছি।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়েত জানিয়েছেন, ২৮ সেপ্টেম্বর তিনি এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। ওই নারীর বিষয়টিও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। কে দোষী, তা তদন্ত না করে বলা সম্ভব নয়। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
