ওসিকে বিএনপি নেতা
‘বাহার যে পথে গেছে, আপনিও যাবেন সে পথে’
Advertisement
শরীয়তপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
শরীয়তপুরের নড়িয়া থানার ওসি আনোয়ার হোসেনকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান সাগরের বিরুদ্ধে। হুমকিতে ওসিকে উদ্দেশ করে সাগর বলেছেন, ‘বাহার যে পথে গেছে, আপনিও যাবেন সে পথে’। ইতোমধ্যে এই কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত সোমবার বিকালে নড়িয়া উপজেলার বাংলা বাজার এলাকায়। সেখানে নির্বাচনি বিলবোর্ড লাগানো কেন্দ্র করে সাগরের সঙ্গে জুলাই শহীদ মিরাজুল ইসলাম অর্ণবের বাবা আবু তালেবের কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। এ সময় সাগরের লোকজন অর্ণবের চাচা আব্দুস সালামকে মারধর করে এবং তাকে ‘ফ্যাসিস্ট’ ও ‘যুবলীগ’ আখ্যা দিয়ে থানায় ধরে নিয়ে যায়। সাগর দাবি করেন, আব্দুস সালাম তার নির্বাচনি ব্যানার ছিঁড়ে ও পুড়িয়ে ফেলেছেন, তাই তাকে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় আসামি হিসাবে গ্রেফতার দেখাতে হবে। তবে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে সালামের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তাকে ছেড়ে দিতে চাইলে সাগর ক্ষুব্ধ হন এবং ওসির সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ান ও হুমকি দেন।
নড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহিউদ্দিন মিরাজ জানান, পুলিশ অভিযোগটি যাচাই করে দেখেছে এবং এটি সাধারণ হাতাহাতির ঘটনা বলে প্রতীয়মান হয়েছে। হাতাহাতির ঘটনাটি সালামের ভাইয়ের সঙ্গে ঘটেছিল, যে কারণে সালামকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ওসিকে হুমকি দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ঘটনাটি দুঃখজনক।
এ বিষয়ে সাগরের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। জেলা বিএনপির সভাপতি ও শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ-সদস্য শফিকুর রহমান কিরণ জানান, এর আগেও সাগরের বিরুদ্ধে প্রশাসনের সঙ্গে আপত্তিকর আচরণের অভিযোগ ছিল। এমনকি ইউএনও, এসিল্যান্ড ও পুলিশ সুপারকে নিয়েও তিনি আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, এসব ঘটনায় দলীয়ভাবে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল এবং সাগর দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে ক্ষমা চেয়েছিলেন। বিষয়টি নিয়ে তিনি দলের কাছে একটি প্রতিবেদনও দিয়েছেন। আমরা চাইলেই যে কোনো সময় একজন কর্মীকে বহিষ্কার করার ক্ষমতা রাখি না। তদন্ত করে বিষয়টি দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের কাছে পাঠানো হবে। এর আগে নড়িয়া থানার সাবেক ওসি বাহার মিয়াকে হুমকি-ধমকি দিয়েছিলেন সাগর। এর পরপরই ওসি বাহার বদলি হয়ে অন্যত্র চলে যান।
