Logo
Logo
×

Advertisement

খবর

সাড়ে ৭ কোটি টাকার পণ্যে শুল্ক ফাঁকি

বেনাপোলে খালাস প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন

Advertisement

Icon

মো. কামাল হোসেন, বেনাপোল

প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

বেনাপোল স্থলবন্দরের ৪১ নম্বর শেড থেকে চার ট্রাক পণ্য খালাসকে কেন্দ্র করে শুল্ক ফাঁকি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। চার ট্রাক পণ্যের মধ্যে দুই ট্রাক বন্দর থেকে বের করে ঢাকার সদরঘাটের কোতোয়ালি থানাধীন একটি গুদামে নেওয়া হয়। পরে গোয়েন্দা সংস্থার অভিযানে সাড়ে ৭ কোটি টাকা মূল্যের পণ্যগুলো আটক করা হয়। এ ঘটনায় পণ্য খালাসের প্রক্রিয়া, কাস্টমসের তদারকি এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। বেনাপোল কাস্টমসের তথ্য মতে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কাস্টমস হাউজের যুগ্ম কমিশনার শরফুদ্দীন মিয়া ৪১ নম্বর শেডের চার ট্রাক পণ্যের মধ্যে দুই ট্রাক মালামাল সরিয়ে নেওয়ার খবর পান। এর সঙ্গে ঢাকার সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান গ্রিন ওয়ে ইন্টারন্যাশনাল এবং যশোরের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স আবিদ ইন্টারন্যাশনাল সংশ্লিষ্ট ছিল।

সূত্রের দাবি, শেডে থাকা পণ্যগুলোর দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আরমান হোসেন ও ট্রাফিক পরিদর্শক মামুনুর রশিদ এবং সহকারী শেড ইনচার্জ আশরাফুল আলম। দুই ট্রাক পণ্য বন্দর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আরমান হোসেনের কাছে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি অন্য কাজে অন্যত্র ছিলেন বলে জানান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেনাপোল কাস্টমস হাউজের এক কর্মকর্তা বলেন, এ ঘটনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে পণ্য সরিয়ে নিতে সহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে। ওই কর্মকর্তার বেনাপোল কাস্টমস হাউজে বৃহস্পতিবারই শেষ কর্মদিবস ছিল। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে ওই কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি। এদিকে, ৪১ নম্বর শেডে আরও দুই ট্রাক পণ্য রয়েছে বলে জানা গেছে। চার ট্রাক পণ্য কীভাবে খালাস করা হলো, দুই ট্রাক কীভাবে বন্দর থেকে বেরিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল এবং পরে কীভাবে সেগুলো আটক হলো, এসব বিষয় খতিয়ে দেখতে কর্তৃপক্ষের তদন্ত দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা।

বেনাপোল স্থলবন্দরে কম শুল্কযুক্ত পণ্যের ঘোষণা দিয়ে উচ্চ শুল্কযুক্ত পণ্য খালাসের অভিযোগ দীর্ঘদিনের বলে দাবি স্থানীয় সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ীদের। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, উচ্চ শুল্কযুক্ত পণ্যকে ভিন্ন ধরনের বা কম মূল্যের পণ্য হিসাবে ঘোষণা দিয়ে শুল্ক ফাঁকির সুযোগ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, পণ্যের কাগজপত্র যাচাই, প্রয়োজনীয় কায়িক পরীক্ষা ও সঠিক শুল্কায়ন সম্পন্ন হওয়ার পর পণ্য খালাসের কথা। কিন্তু কোনো কোনো পণ্যবাহী ট্রাক যথাযথ পরীক্ষা ছাড়াই ৪০ থেকে ৫০ মিনিটের মধ্যে বন্দর এলাকা ছেড়ে যাচ্ছে। দ্রুত পণ্য খালাসের সঙ্গে কোনো অনিয়মের সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

বেনাপোল আমদানি-রপ্তানি সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, বন্দরে অনিয়ম হলে সরকার রাজস্ব হারানোর ঝুঁকিতে পড়ে। শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি পণ্য খালাসে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।

বেনাপোল স্থলবন্দরের উপপরিচালক রুহুল আমিন বলেন, বন্দরের নিরাপত্তা ও পণ্য খালাস কার্যক্রম সুশৃঙ্খল রাখতে তারা কাজ করছেন। অনিয়মের কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বেনাপোল কাস্টমস হাউজের সহকারী কমিশনার রাহাত হোসেন বলেন, পণ্যের সঠিক শুল্কায়ন নিশ্চিত করা এবং শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে কাস্টমস হাউজ সতর্ক রয়েছে। কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

সক্ষমতা থাকলেও বিদ্যুৎ উৎপাদন কম গণশুনানি ছাড়া জ্বালানির দাম বাড়ানোয় প্রশ্ন

গণশুনানি ছাড়া জ্বালানির দাম বাড়ানোয় প্রশ্ন

সাড়ে ৭ কোটি টাকার পণ্যে শুল্ক ফাঁকি বেনাপোলে খালাস প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন

বেনাপোলে খালাস প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন

বগুড়ায় চোর সন্দেহে শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যা

বগুড়ায় চোর সন্দেহে শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যা

এসপির সঙ্গে কথোপকথনের অডিও ‘আপনার বিষয়ে নেত্রীকে ভালো রিপোর্ট দেব’

‘আপনার বিষয়ে নেত্রীকে ভালো রিপোর্ট দেব’

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম