ইউএনও ও আদালতের উদ্যোগ
অবশেষে সেই মায়ের দায়িত্ব নিল ছেলে
যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশের পর
Advertisement
সাঁথিয়া (পাবনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মাকে নিজের সঙ্গে রাখতে অস্বীকৃতি জানানো পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার সেই গ্রামপুলিশের সদস্য সাগর হোসেন অবশেষে মায়ের দায়িত্ব নিতে রাজি হয়েছেন। সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও আদালতের উদ্যোগে মায়ের ভরণপোষণসহ সব দায়িত্ব নেন তিনি। পাশাপাশি নিজের ভুল স্বীকার করে মা ও দেশবাসীর কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন। সোমবার ইউএনও সেলিম আহমেদের উপস্থিতিতে তার কার্যালয়ে সাগর হোসেন ও তার মা মুন্নি খাতুনের মধ্যে বিরোধের সমাধান করা হয় এবং মা-ছেলে একে অপরকে মিষ্টিমুখ করান। এ সময় সাগরের মামা জাকির হোসেন ও তার খালু মাসুদ রানা উপস্থিত ছিলেন।
রোববার (১১ অক্টোবর) দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতায় ‘টাকা চাই না, তোর সঙ্গে রাখ বাবা’ শিরোনামে খবর প্রকাশের পর বিষয়টি আদালতের নজরে আসে। আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে রোববার বিকালে সাঁথিয়া থানার ওসি আনিসুর রহমানকে ছেলে ও তার মাকে নিয়ে পাবনা আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। ওসি নিজের গাড়িতে করে তাদের পাবনা আদালতে নিয়ে যান। পাবনা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মা ও ছেলের বক্তব্য শোনার পর তাদের মধ্যকার বিরোধের সমাধান করা হয়।
এ সময় নিজের ভুল বুঝতে পেরে মায়ের সঙ্গে এমন আচরণের জন্য অনুতপ্ত হন সাগর। পরে তিনি তার মায়ের ভরণপোষণের দায়িত্ব নিতে রাজি হন এবং ভবিষ্যতে মায়ের সঙ্গে আর এমন আচরণ করবেন না বলেও আদালতকে জানান। একই সঙ্গে নিজের মা ও দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চান তিনি।
সাগর হোসেন সাঁথিয়া উপজেলার নাগডেমরা ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের প্রয়াত সিরাজুল ইসলামের ছেলে। তিনি নাগডেমরা ইউনিয়ন পরিষদের গ্রামপুলিশের সদস্য হিসাবে কাজ করেন।
সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেলিম আহমেদ বলেন, মানবিক কাজটি করতে পেরে ভালো লাগছে। সেই সঙ্গে বিজ্ঞ আদালতকে ধন্যবাদ জানাই। এ ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের ভূমিকাকেও আমি সাধুবাদ জানাই।
