মালামাল না পেয়েই ২০ লাখের বিল তৈরি ববির
Advertisement
বরিশাল ব্যুরো
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) ফটোকপি মেশিন, স্ট্যান্ড ও পেপার শ্রেডার সরবরাহের জন্য প্রায় ২০ লাখ টাকার কাজ পেলেও নির্ধারিত সময়ে মালামাল দেয়নি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। অথচ মালামাল পুরোপুরি সরবরাহ না পাওয়ার পরও প্রতিষ্ঠানটির নামে ভ্যাট-ট্যাক্স বাদে ১৪ লাখ ৯৩ হাজার ১০ টাকার চেক প্রস্তুত করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব দপ্তর। সরেজমিন কেন্দ্রীয় স্টোরে গিয়ে শুধু ফটোকপি মেশিনের স্ট্যান্ড পাওয়া গেছে; মেশিন ও শ্রেডারের দেখা মেলেনি।
জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের রাজস্ব বাজেটের আওতায় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তর থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকার এ দরপত্র আহ্বান করা হয়। ২৬ ফেব্রুয়ারি ই-জিপি পোর্টালে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে (ওটিএম) আহ্বান করা দরপত্রে ১৯ লাখ ৯৯ হাজার টাকায় কাজটি পায় ঢাকার পুরানা পল্টনের প্রতিষ্ঠান ‘উইন ইন্টারন্যাশনাল’।
চলতি বছরের ১১ মার্চ প্রতিষ্ঠানটিকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। চুক্তি অনুযায়ী, কার্যাদেশ পাওয়ার ৪৫ দিনের মধ্যে সব মালামাল সরবরাহ করার কথা। নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী, সময়মতো কাজ সম্পন্ন না হলে কার্যাদেশ বাতিলেরও বিধান রয়েছে। তবে ৪৫ দিনের সময় পার হলেও প্রতিষ্ঠানটি সব মালামাল সরবরাহ করেনি। সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় স্টোরে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ফটোকপি মেশিনের কয়েকটি স্ট্যান্ড সারিবদ্ধভাবে রাখা রয়েছে। তবে কোনো ফটোকপি মেশিন কিংবা পেপার শ্রেডার পাওয়া যায়নি। অভিযোগ রয়েছে, মালামাল পুরোপুরি সরবরাহ না হলেও নথিতে সেগুলো গ্রহণের তথ্য দেখানো হয়েছে। পাশাপাশি কাজ অসম্পূর্ণ থাকা অবস্থায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির নামে প্রায় ১৫ লাখ টাকার চেক প্রস্তুত করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় স্টোরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, আমরা শুধু ফটোকপির স্ট্যান্ডগুলো পেয়েছি। বাকি কোনো কিছুই পাইনি।
পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের পরিচালক হুমায়ুন কবির বলেন, জুন আমাদের ক্লোজিং মাস। তার আগে আমাদের গুছিয়ে রাখতে হয়। টাকাটা ধরে রাখতে হয়। মাল যখন আসবে, তখন টাকা দিতে হবে। যে মালগুলোর কথা বলছেন, সেগুলো বাংলাদেশে ছিল না। এ কারণে তারা দিতে পারেনি। আর আমিও ওই প্রতিষ্ঠানের মালিককে একাধিকবার ফোন করে পাচ্ছি না।
