‘রুফটপ সোলার পাওয়ার প্লান্ট’ স্থাপনে চবকের চুক্তি
২০ বছরে সাশ্রয় হবে ১০০ কোটি টাকা
Advertisement
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) বিভিন্ন স্থাপনার ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপন করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যে গ্রিন পোর্ট ইনিশিয়েটিভের আওতায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং গ্রীনার গার্মেন্টস ইনিশিয়েটিভ লিমিটেডের মধ্যে সোমবার চুক্তি সই হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে বন্দর কর্তৃপক্ষ সাশ্রয়ী দামে বিদ্যুৎ কিনতে পারবে। পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বন্দর ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার লক্ষ্যে গ্রিন পোর্ট ইনিশিয়েটিভের আওতায় ৮ দশমিক ৪২ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতা সম্পন্ন ‘রুফটপ সোলার পাওয়ার প্লান্ট’ স্থাপন করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি নিশ্চিত করে বন্দরের সচিব সৈয়দ রেফাতে হামিম যুগান্তরকে বলেন, আমরা বর্তমানে পিডিবির কাছ থেকে ১৩ টাকারও বেশি দামে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ক্রয় করি। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে তাদের কাছ থেকে ১০ টাকারও কম দামে বিদ্যুৎ কেনা যাবে। এতে বিদ্যুৎ খাতে ২০ বছরে বন্দরের ১০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।
সোমবার চট্টগ্রাম বন্দরে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এসএম মনিরুজ্জামান এবং জিজিআই’র পক্ষে স্বাক্ষর করেন সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূরে আলম।
সূত্র জানায়, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বেসরকারি বিনিয়োগে সোলার পাওয়ার প্লান্ট স্থাপনের নিমিত্তে জিজিআই কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে অপারেটিং-এক্সপেন্স মডেলে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। ফলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে কোনো মূলধনি বিনিয়োগ বা অর্থায়ন করতে হচ্ছে না। পরিবেশবান্ধব এই রুফটফ সোলার প্লান্টটি বাণিজ্যিক উৎপাদনের তারিখ থেকে পরবর্তী ২০ বছর চট্টগ্রাম বন্দরকে নিরবচ্ছিন্ন সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহ করবে। প্রকল্পটির সার্বিক নকশা, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ক্রয়, নির্মাণ, পরীক্ষা, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করবে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী তথা বিদ্যুৎ বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান জিজিআই। বন্দর কর্তৃপক্ষ চুক্তির শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত স্থির ট্যারিফ হারে উৎপাদিত বিদ্যুৎ কিনবে। দৈনিক প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ এই সৌর প্রকল্প থেকে সংগ্রহ করবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকার দিয়ে এবং জাতিসংঘের এসডিজি গোল ও প্যারিস চুক্তি অনুসারে কার্বন ক্রেডিট অর্জনের ক্ষেত্রে এ চুক্তি জোরালো ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দরকে সবুজ বন্দর হিসাবে রূপান্তরের ক্ষেত্রেও এই প্রকল্প বড় ভূমিকা রাখবে।
