পর্যটন সেমিনারে বক্তারা
মহামায়া লেকে লাইভ ফিশ মিউজিয়াম সম্ভব
মহামায়া লেকে শব্দদূষণ রোধ ও ক্যাবল কারের দাবি
Advertisement
মাহবুব পলাশ, মীরসরাই (চট্টগ্রাম)
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দেশের অন্যতম সেরা ইকো ট্যুরিজমকেন্দ্র হতে পারে মীরসরাইয়ের মহামায়া লেক। সম্প্রতি পর্যটনের একটি কর্মশালায় অনন্য সুন্দর প্রাকৃতিক রূপ বৈচিত্র্যময় দেশের বৃহত্তম এই মহামায়া লেকে শব্দদূষণ রোধ করে শব্দহীন নৌকার প্রস্তাব করা হয়। পাশাপাশি এই লেকে ক্যাবল কার স্থাপন এবং একটি ফিশ মিউজিয়াম স্থাপনসহ লাইভ ফিশ রেস্টুরেন্টের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
মীরসরাইয়ে পর্যটন খাতের টেকসই পর্যটন উন্নয়নে ১৪ অক্টোবর পর্যটন করপোশোন ও মীরসরাই উপজেলা প্রশাসনের যৌথ উদোগে এ কর্মশালায় দেশের অন্যতম পর্যটন সম্ভাবনায় মীরসরাই উপজেলার বিভিন্ন সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। মীরসরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোমাইয়া আক্তারের সঞ্চালনায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের পরিচালক ও যুগ্ম সচিব আবু সেলিম মাহমুদ-উল হাসান। এ সময় মীরসরাই অঞ্চলে ঝরনা, লেক ও সমুদ্রের নানান পর্যটন সম্ভাবনাময় বিষয়গুলোর ওপর আলোকপাত করা হয়। এ সময় মহামায়া লেকের ক্যাবল কার স্থাপন ও লাইভ ফিশ মিউজিয়াম এবং শব্দহীন নৌকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বিশেষ করে উচ্চ শব্দের নৌকাগুলোতে লেক এলাকার পরিবেশ ও শব্দদূষণের মাত্রার ওপর খুব স্বল্প শব্দের বুট স্থাপন করার বিষয়ে প্রস্তাবনা আনা হয়, যা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে পর্যটন বিভাগে প্রস্তাবনা রাখা হবে বলে জানানো হয়।
সবচেয়ে বড় কথা, প্রকৃতির সান্নিধ্য প্রতিটি মানুষের নাগরিক ক্লান্তি দূর করার সেরা মহৌষধ। সেই প্রকৃতি যদি হয় পাহাড় এবং টলটলে জলের নিবিড় মিতালি, তবে আর কথাই নেই। মীরসরাই উপজেলার পাহাড়ের কোলে এক অনন্য সুন্দর প্রকৃতি মহামায়া যেন ঠিক এক দিগন্ত জোড়া সুন্দরের পশরা, যেখানে নীল জলরাশি এবং সবুজ পাহাড়ের আলিঙ্গন দেখে মুহূর্তেই চোখ জুড়িয়ে যায়। এই লেক শুধু একটি কৃত্রিম হ্রদ নয়, বরং যান্ত্রিকতা থেকে দূরে নির্জনতায় কিছু সময় কাটানোর জন্য অনন্য আশ্রয়স্থল। ১১ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই লেকটি শান্ত শীতল পরিবেশ ও চারপাশের অরণ্যের মায়াবি হাতছানিতে পর্যটকদের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে।
উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের মহামায়া লেক বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কৃত্রিম হ্রদ। পাহাড়ের পাদদেশে বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে তৈরি হওয়া এই বিশাল জলরাশি এখন পর্যটনের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। লেকের চারপাশে থাকা পাহাড়গুলো যেন অতন্দ্র প্রহরীর মতো জলরাশিকে আগলে রেখেছে। হ্রদের স্বচ্ছ পানিতে পাহাড়ের ছায়া ও নীল আকাশের প্রতিফলন যে দৃশ্যের অবতারণা করে, তা যে কোনো চিত্রকর্মের চেয়েও জীবন্ত। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে থাকা এই লেকের পানির একটি বড় অংশ স্থানীয় কৃষিজমির সেচ কাজেও ব্যবহৃত হয়, যা এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে উপযোগিতার দারুণ সমন্বয় ঘটিয়েছে।
মহামায়া লেকের আসল রূপ উপভোগ করতে হলে আপনাকে ভাসতে হবে স্থির জলবক্ষে। লেকে ঘুরে বেড়ানোর জন্য রয়েছে সুব্যবস্থিত ইঞ্জিনচালিত বোট। বোটে চড়ে লেকের গহিন অংশে প্রবেশের সময় দুপাশের পাহাড়ের নিস্তব্ধতা ও পাখির কলতান আপনাকে দেবে অপার্থিব অনুভূতি। যারা রোমাঞ্চপ্রিয়, তাদের জন্য এখানে রয়েছে কায়াকিং করার সুবর্ণ সুযোগ। লেকের শান্ত পানিতে নিজের হাতে বৈঠা চালিয়ে কায়াকিং করা বর্তমান প্রজন্মের পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। সাধারণত সকাল ৯টা থেকে বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত এখানে কায়াকিং করা যায়। শিক্ষার্থী ও দলগত পর্যটকদের জন্য এখানে প্রায়শই বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা থাকে। ঢেউহীন জলে কায়াকের ওপর বসে প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হওয়ার অভিজ্ঞতা দীর্ঘকাল স্মৃতিতে অমলিন থাকে।
