ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন
প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ জামায়াতের
সেনা মোতায়েনের দাবি
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের প্রচার কার্যক্রমে ক্ষমতাসীন বিএনপির বিরুদ্ধে বেশ কিছু অনিয়মের অভিযোগ এনেছে জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে সরকারদলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার অভিযোগ এনে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. খায়রুল ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। রোববার বিকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধিদল বৈঠক করে নয়টি অভিযোগ তুলে ধরার পাশাপাশি সেনা মোতায়েনেরও প্রস্তাব দিয়েছে। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
সিইসির সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে গোলাম পাওয়ার সাংবাদিকদের বলেন, এই নির্বাচনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় একটা টিম সেখানে নির্বাচনি কাজে অংশ নিতে গিয়েছিলাম। সরেজমিন পরিদর্শন করে সুনির্দিষ্ট নয়টি অভিযোগ লিখিতভাবে প্রধান নির্বাচন কমিশন বরাবর পেশ করলাম। একই সঙ্গে তিনটা দাবি পেশ করেছি। সিইসিকে দেওয়া জামায়াতের চিঠিতে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খায়রুল ইসলামের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করা এবং ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে প্রকাশ্যে ধানের শীষের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। এ বিষয়ে বারবার অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছে জামায়াত। দলটির অভিযোগ, এতে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। নির্বাচনি অনিয়মের বিষয়ে বলা হয়েছে, রঙিন প্রতীক ব্যবহার করে নির্বাচনি আচরণবিধি সুস্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করা হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। ভোটারদের কোনো ধরনের সুবিধা দেওয়া নিষিদ্ধ থাকলেও মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে তাদের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে নির্বাচনি প্রচারণা নিষিদ্ধ থাকার পরও মসজিদে সোফা সেট স্থাপন করে ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণা চালানো হয়েছে। হিন্দু ভোটার ও সরকারি চাকরিজীবীদের হুমকি দিয়ে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি এবং ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করা হয়। দাবি হচ্ছে, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং ভোটকেন্দ্রে পুলিশের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট ইউএনওর নিরপেক্ষতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। আগামী ২৯ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
