৬ দফা দাবি
পদ্মা রেলসেতুর সুবিধাবঞ্চিত যশোরে অবরোধ
Advertisement
যশোর ব্যুরো
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পদ্মা সেতু চালুর পর রেল যোগাযোগে আশায় বুক বেঁধেছিলেন যশোর অঞ্চলের বাসিন্দারা। বিগত সরকারের অদূরদর্শী সিদ্ধান্তের কারণে সুফলবঞ্চিত এ অঞ্চলের জনগণ। সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকায় ক্ষুব্ধ যশোরবাসী। অবিলম্বে যশোর থেকে ঢাকা রুটে প্রভাতি ট্রেন চালু, বেনাপোল-যশোর-ঢাকা রুট এবং দর্শনা-কোটচাঁদপুর-যশোর-ঢাকা রুটে তিনটি ট্রেন চালুসহ ৬ দফা দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটি। মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে প্রতীকী রেল অবরোধ কর্মসূচি পালন এবং রেলমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, বেনাপোল, যশোর, মোবারকগঞ্জ এবং কোটচাঁদপুর থেকে প্রতিদিন ঢাকার উদ্দেশে বিপুলসংখ্যক যাত্রী যাতায়াত করেন। ২০২৩ সাল থেকে এই ন্যায্য দাবিতে শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করে আসছে যশোরবাসী। রেলমন্ত্রী, রেল সচিব, রেলের ডিজি, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। রেল সচিব ও ডিজির সঙ্গে যৌথ মতবিনিময় ছাড়াও একাধিকবার মানববন্ধন, বিক্ষোভ, দুইবার রেল অবরোধ ও কালো পতাকা প্রদর্শন এবং রেলের ডিজিকে অবরুদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু দাবি আদায় হয়নি।
মঙ্গলবার প্রতীকী রেল অবরোধ শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে রেলমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে বৃহত্তর যশোর রেল উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটি। দাবিগুলো হলো-অবিলম্বে বেনাপোল/দর্শনা সীমান্ত-যশোর-ঢাকা রুটে ১টি প্রভাতি আন্তঃনগর ট্রেনসহ ৩টি নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালু করতে হবে। সাধারণ ও নিম্ন-আয়ের যাত্রীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে সব আন্তঃনগর ট্রেনে পর্যাপ্ত সাধারণ বগি যুক্ত করতে হবে। দর্শনা-খুলনা রুট এবং বেনাপোল-যশোর রুটে দ্রুত ডবল রেললাইন স্থাপন করতে হবে। বেনাপোল বা দর্শনা সীমান্ত থেকে যশোর-ঢাকা রুটে নিয়মিত কমিউটার ট্রেন চালু করতে হবে। সিঙ্গিয়া রেল স্টেশনে অবিলম্বে ‘রেল কনটেইনার টার্মিনাল’ চালু করে বাণিজ্যিক সুবিধা বাড়াতে হবে। রেলকে দেশের গণযোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হিসাবে গড়ে তোলার জন্য কার্যকর রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক কাওসার আলী বলেন, তিন বছর ধরে আমরা আন্দোলন করছি। বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও দাবি বাস্তবায়ন হয়নি। প্রতীকী অবরোধ কর্মসূচি পালন করলাম। সরকার দাবি না মানলে কঠোর অবরোধ কর্মসূচি দিয়ে বাধ্য করা হবে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. আশেক হাসান বলেন, প্রভাতী ট্রেনসহ দাবিগুলো যৌক্তিক। আমরা মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছি। সরকার এ ব্যাপারে আন্তরিক আছে।
