দাঁড়ানো যাত্রীদের লরি চাপা, ঝরল ৫ প্রাণ
কুড়িগ্রামে বাস-অটো সংঘর্ষে মা-মেয়ের মৃত্যু * পাঁচ স্থানে ঝরল আরও ৬ প্রাণ
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে লরিচাপায় পাঁচ বাসযাত্রী নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত আটজন। সোমবার মধ্যরাতে উপজেলার ছোট কুমিরা রয়েল সিমেন্ট গেটের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। কুড়িগ্রামে বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে মা-মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া দুর্ঘটনায় পাঁচ স্থানে আরও ছয়জনের প্রাণ গেছে। তাদের মধ্যে মানিকগঞ্জে পথচারী, ময়মনসিংহে নিরাপত্তাকর্মী, মাগুরা ও সিরাজগঞ্জে দুই যুবক এবং বগুড়ায় নারীসহ দুজন রয়েছেন। ব্যুরো, স্টাফ রিপোর্টার ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-
চট্টগ্রাম : নিহতরা হলেন-নগরীর পাঁচলাইশ থানার মোহাম্মদ এলাকার ইসহাকের বাড়ির মো. আবদুল হাইয়ের মেয়ে ফাতেমা আক্তার, কিশোরগঞ্জের কটিয়াদি থানার বেতাল গ্রামের আবদুল হাসিমের মেয়ে আবসা, একই জেলা তাড়াইল থানার বেলংকার গ্রামের মো. রইছ উদ্দিনের ছেলে মো. আবু সিদ্দিক, নেত্রকোনার মদন থানার জাওলা গ্রামের নিজাম উদ্দিনের মেয়ে স্বপ্না আক্তার ও একই জেলার মদন থানার শিবাশ্রম গ্রামের আজহারুলের ছেলে রাকিব।
হাইওয়ে পুলিশের বার আউলিয়া থানার ওসি মো. শামীম আলম জানান, ‘যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় মেরামতের জন্য কুমিরা রয়েল গেট এলাকায় শাপলা এন্টারপ্রাইজের বাসটি দাঁড়ানো ছিল। যাত্রীরা বাস থেকে নেমে কয়েকজন রাস্তার পাশে বসে ছিলেন। হঠাৎ করে একটি লরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন মারা যান। আহত ছয়জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় ৫ জনের মৃত্যু হয়।
এদিকে একমাত্র ছেলে সন্তান মারা যাওয়ায় পাগলপ্রায় হয়ে গেছেন রাকিবের বাবা আজহারুল ও তার মা ফাতেমা বেগম। তারাও দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার চমেক হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, শরীরে ব্যান্ডেজ নিয়ে রাকিবের লাশের পাশে বিলাপ করছেন তার বাবা-মা। মেঝেতে বসে কাঁদতে কাঁদতে বারবার ছেলের নাম ধরে ডাকছেন ফাতেমা বেগম। পাশে আত্মীয়-স্বজনরা তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। আজহারুল পেশায় অটোরিকশাচালক। ৫ বছর ধরে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা স্টিলমিল এলাকার নারিকেল তলায় ভাড়া বাসায় থাকতেন পরিবার নিয়ে। তার মেয়ে সাদিয়া আক্তার গার্মেন্টে চাকরি করেন। মেয়েকে চট্টগ্রামে রেখেই স্ত্রী আর ছেলেকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে স্থায়ী বসবাসের জন্য ফিরতে চেয়েছিলেন আজহার।
মানিকগঞ্জ : পাটুরিয়া লঞ্চঘাট এলাকায় সেলফি বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে সুজাত নামের পথচারীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে পাটুরিয়া লঞ্চঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। সুজাত শিবালয় উপজেলার দাসকান্দি গ্রামের সদর উদ্দিনের ছেলে। পেশায় তিনি অটোরিকশাচালক। এ নিয়ে সেলফি পরিবহণের বাসচাপায় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জেলায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ জনে।
কুড়িগ্রাম : সদর উপজেলায় বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে মা-মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন-মা আদুরী বালা ও মেয়ে শিশু মনিকা মালী। সোমবার কাঁঠালবাড়ী বিদ্যাকানন স্কুলের সামনে তারা দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। দুর্ঘটনায় অটোচালক মোজাম্মেল হক ও মনিকার বাবা গুরুতর আহত অনন্ত মালী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গুরুতর আহত আদুরী বালা ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। তারা লালমনিরহাটের বড়বাড়ী থেকে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের ত্রিমোহনী মুক্তারাম এলাকায় ফেরার সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে।
ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) : ত্রিশালে বাসের ধাক্কায় নিরাপত্তাকর্মী আলমগীর হোসেন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন। সোমবার রাতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ত্রিশালের বৈলর এলাকায় আরএফএল কোম্পানির ডিপোর প্রধান ফটকের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আলমগীর ত্রিশাল উপজেলার ধলাইমান এলাকার নিজাম উদ্দিনের ছেলে।
মাগুরা : মাগুরায় সড়ক দুর্ঘটনায় যুবক আব্দুল্লাহ শেখের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে মাগুরা-ফরিদপুর সড়কের বেলনগর সরকারি হাঁস প্রজনন কেন্দ্রের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুল্লাহ শেখ বেলনগর গ্রামের বাকি শেখের ছেলে। তিনি পেশায় কৃষক ছিলেন।
বগুড়া : নন্দীগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় বৃদ্ধ আব্দুর রহমান খোকা ও গৃহবধূ রাবেয়া আক্তার মিতুর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার এসব দুর্ঘটনা ঘটে। খোকা পালি গ্রামের মৃত ইছার উদ্দীনের ছেলে। মিতু উপজেলার থালতা মাঝগ্রাম ইউনিয়নের মাঝগ্রাম গ্রামের শাকিল আহম্মেদের স্ত্রী।
উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) : উল্লাপাড়ায় মোটরসাইকেল-ট্রাক সংঘর্ষে যুবক আব্দুস সালাম নিহত হয়েছেন। তিনি সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার নিমগাছি গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে। মঙ্গলবার সলঙ্গা থানার গোজা-জগজীবনপুর আঞ্চলিক সড়কে চরবেড়া গ্রামের পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
