Logo
Logo
×

Advertisement

খবর

সাজেক বন্ধ থাকায় বেকার তিন হাজার পরিবহণ শ্রমিক

Advertisement

Icon

সমির মল্লিক, খাগড়াছড়ি

প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

রাঙামাটির সাজেক পর্যটনকেন্দ্রে সড়ক অবরোধের প্রভাব পড়েছে খাগড়াছড়ির পর্যটনশিল্পেও। সাজেককে কেন্দ্র করে আসা পর্যটকরা খাগড়াছড়িতে ভ্রমণ করেন। এছাড়া খাগড়াছড়ি থেকে গাড়ি রিজার্ভ করে পর্যটকরা সাজেকে বেড়াতে যান। অবরোধের কারণে ২২ অক্টোবর থেকে সাজেক বন্ধ থাকায় পর্যটক না আসায় বিপাকে পড়েছেন পরিবহণ শ্রমিক, হোটেল-মোটেল ব্যবসায়ী ও স্থানীয় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা। প্রায় তিন হাজার পরিবহণ শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন বলেন জানান সংশ্লিষ্টরা।

বুধবার সরেজমিন খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্ক, আলুটিলা পর্যটনকেন্দ্র, রিছাং ঝরনা ও মায়াবিনী লেকসহ জেলার বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় পর্যটকদের আনাগোনা নেই।

এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন পরিবহণ শ্রমিকরা। খাগড়াছড়িতে চাঁদের গাড়ি (জিপ), পিকআপ, মাহেন্দ্র ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকরা এখন বেকার হয়ে পড়েছেন। পরিবহণ মালিকদের আয়ের বিকল্প উৎস থাকলেও শ্রমিকরা আয়শূন্য হয়ে এখন দিশেহারা।

অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধের কারণে পর্যটকদের ভ্রমণ পরিকল্পনায় পরিবর্তন এসেছে। সাজেকে যেতে না পারার আশঙ্কায় অনেকে খাগড়াছড়িতে ভ্রমণও বাতিল করছেন। ফলে সাজেকের পাশাপাশি খাগড়াছড়িও পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে।

খাগড়াছড়ি-সাজেক সড়কের মাহেন্দ্রচালক মনসুর আলী বলেন, খাগড়াছড়িতে ৪৫০টি মাহেন্দ্র আছে। সাত দিন ধরে কোনো আয় নেই। সারা দিনে উপজেলাগুলোতে একটা ট্রিপ মারতে পারি। জ্বালানি তেলের খরচও উঠে না।

হোটেল-মোটেল মালিকদের বিকল্প আয় থাকে। কিন্তু রুটিরুজির একমাত্র খোরাক পর্যটক না আসায় আমাদের উপার্জন বন্ধ হয়ে গেছে।

সাজেক রোডের সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক হারুন বলেন, আমাদের কিস্তি আছে, ধারদেনা আছে। আমরা তো গাড়ি চালিয়ে ভাত খাই। কিন্তু আমাদের গাড়িগুলো বন্ধ। সারা বছর আশা করি এই সময়ে পর্যটক বাড়বে। আমরা চাই, সমস্যার সমাধান করা হোক।

খাগড়াছড়ির পিকআপচালক প্রদীপ ত্রিপুরা বলেন, পর্যটন মৌসুমে প্রতিদিন ১৫০ থেকে ২০০ পিকআপ সাজেক যাতায়াত করে। পর্যটন মৌসুমের আগে অনেকে ঋণ করে কিস্তিতে গাড়ি কিনেছেন। তারা এখন বেকার। সাত দিন ধরে গাড়ির চাকা ঘুরছে না। চালক, সহকারীদের এখন দিশেহারা অবস্থা।

খাগড়াছড়ির সাজেক কাউন্টারের ব্যবস্থাপক আরিফ উদ্দিন বলেন, প্রতিদিন আমাদের কাউন্টার থেকে অন্তত ১০০ থেকে ১৫০টি পর্যটকবাহী জিপ সাজেকের উদ্দেশে ছেড়ে যেত। তবে অবরোধ শুরু হওয়ায় ২২ অক্টোবর থেকে কোনো পরিবহণ সাজেকের উদ্দেশে ছেড়ে যায়নি।

পার্বত্য যানবাহন মালিক সমিতির সভাপতি আয়ুস চাকমা বলেন, সাজেকে পরিবহণ বন্ধ হওয়ার কারণে আমাদের প্রায় তিন হাজার গাড়িচালক ও তার সহকারী বেকার আছেন। আমাদের গাড়িগুলো এখনো বসা এবং চলাফেরায় খুবই কষ্ট হচ্ছে। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ যেন সাজেক পর্যটনকেন্দ্র খুলে দেওয়া হয় এবং নিরাপদে যেন পর্যটক ঘুরেফিরে আসতে পারেন।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

ট্রাকের পেছনে বাসের ধাক্কা ভাইবোনসহ নিহত ৪

ট্রাকের পেছনে বাসের ধাক্কা ভাইবোনসহ নিহত ৪

মনপুরায় সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মাগরিবের আগে পাঠায় দিয়েন, নইলে বোটে আগুন জ্বালাইয়া দিমু

মাগরিবের আগে পাঠায় দিয়েন, নইলে বোটে আগুন জ্বালাইয়া দিমু

একাডেমিক কার্যক্রমে ফিরল চুয়েট উপাচার্যের পুনর্বহাল দাবিতে অনড় শিক্ষার্থীরা

উপাচার্যের পুনর্বহাল দাবিতে অনড় শিক্ষার্থীরা

ফেসবুক পোস্টের জের হাতীবান্ধায় জামায়াত ছাত্রদল সংঘর্ষে আহত ৩

হাতীবান্ধায় জামায়াত ছাত্রদল সংঘর্ষে আহত ৩

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম