Logo
Logo
×

Advertisement

খবর

ফল পেয়ে দুশ্চিন্তায় শিক্ষার্থীরা

পছন্দের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি বড় চ্যালেঞ্জ

৬০ হাজার আসনে ভর্তি নিয়ে হবে মূল লড়াই * খালি থাকবে ৮ লাখের মতো আসন

Advertisement

Icon

হুমায়ুন কবির

প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

এবার উচ্চমাধ্যমিকের ফলে বড় বিপর্যয় ঘটেছে। এর মধ্যে অনেকেই ভালো ফল করেও পছন্দের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। কারণ, মানসম্মত উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসনসংখ্যা খুবই সীমিত। প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের নামিদামি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সব মিলিয়ে আসনসংখ্যা রয়েছে ৬০ হাজারের মতো। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন। আর জিপিএ-৫-এর নিচে কিন্তু ৩.৫-এর ওপরে শিক্ষার্থী আছেন ৩ লাখ ২১ হাজার ৫৪৬ জন। পছন্দের আসনের জন্য মূলত এসব শিক্ষার্থীর মধ্যেই লড়াই হবে। যদিও দেশে উচ্চশিক্ষার জন্য সরকারি-বেসরকারি মিলে আসন রয়েছে ১৫ লাখের মতো। তবে শিক্ষার্থীদের পছন্দের শীর্ষে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। এজন্য এসব প্রতিষ্ঠানে প্রতিযোগিতাও বেশি। এছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজগুলোয় আসনসংখ্যা প্রায় সাড়ে ৪ লাখ। এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সামনে উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের জন্য ভর্তি পরীক্ষায় ভালো করা। এ কঠিন ভর্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে তাদের কাক্সিক্ষত প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়াই বড় চ্যালেঞ্জ।

এর বাইরে পাশ করা সব শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও এবার দেশের উচ্চপ্রতিষ্ঠানে ৮ লাখের মতো আসন খালি থাকবে।

এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাশ করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। গত বছর এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৬৯ হাজার ৯৭ জন। সে তুলনায় এবার জিপিএ-৫ কমেছে ২৯ হাজার ১৩ জন। ভালো প্রতিষ্ঠানে ভর্তি নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় এবার যথাযথ মূল্যায়ন হয়েছে। যাদের প্রস্তুতি ভালো ছিল, তারাই এবার ভালো ফল করেছেন। ফলপ্রাপ্তির পর যদি ভালো মানের বিদ্যাপীঠে ভর্তির সুযোগ না হয়, তাহলে তাদের স্বপ্ন অধরা থেকে যাবে। তবে ঢাকার বাইরে যেসব পাবিলক ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়, সেসব পরীক্ষা অন্তত একটা কেন্দ্র ঢাকায় রাখা উচিত। এতে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমবে। পাশাপাশি খরচও কমবে। এতে শিক্ষার্থীদের সময় ও টাকা সাশ্রয় হবে।

এবার রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন কলেজ থেকে পাশ করেছেন জান্নাতুল ফেরদৌস জয়িতা। তিনি যুগান্তরকে বলেন, সর্বোচ্চ সূচক জিপিএ-৫ পেয়ে অনেক শিক্ষার্থীও ভর্তি পরীক্ষায় ছিটকে পড়েন। আমার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজিতে পড়াশোনা করার ইচ্ছা বেশি। আমাদের সামনে ভর্তি পরীক্ষা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। বিষয়টি সামনে রেখেই প্রস্তুতি নিচ্ছি।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, উচ্চশিক্ষায় ভর্তি প্রতিযোগিতা বাড়বে দেশের শীর্ষস্থানীয় পাবলিক ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় এবং মেডিকেল কলেজে। কিন্তু মেধাবী শিক্ষার্থীদের পছন্দের প্রতিষ্ঠানে আসনসংখ্যা খুবই সীমিত।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বুয়েটে আবেদনের জন্য এসএসসিতে কমপক্ষে জিপিএ-৪ এবং এইচএসসিতে জিপিএ-৫ থাকতে হবে। এছাড়া মেডিকেলের আবেদনের জন্য এসএসসি ও এইচএসসি দুটো মিলে সর্বনিু ৯ পয়েন্ট থাকতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান বিভাগে আবেদনের জন্য এসএসসি ও এইচএসসি দুটো মিলে কমপক্ষে ৮ পয়েন্ট থাকতে হবে। এছাড়া মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ভর্তির আবেদনের জন্য এসএসসি ও এইচএসসি দুটো মিলে কমপক্ষে ৭.৫ পয়েন্ট থাকতে হবে। গুচ্ছভুক্ত ১৯ বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদনের জন্য বিজ্ঞানে এসএসসি ও এইচএসসি মিলে ৭ পয়েন্ট থাকতে হবে, মানবিকে আবেদনের জন্য এসএসসি ও এইচএসসি মিলে ৬ পয়েন্ট থাকতে হবে, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ভর্তির আবেদনের জন্য এসএসসি ও এইচএসসি মিলে কমপক্ষে ৬.৫ পয়েন্ট থাকতে হবে (তবে কোনোটিতে ৩.০ পয়েন্টের নিচে প্রযোজ্য নয়)।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য সরকারি উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির শর্ত অনুযায়ী সাধারণত জিপিএ ৩ দশমিক ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীরা আবেদনের সুযোগ পান। এবার (২০২৬ সালে) জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী ৪০ হাজার ৮৪ জন ছাড়াও জিপিএ-৫ এর নিচে (৩.৫ পর্যন্ত) শিক্ষার্থী আছেন ৩ লাখ ২১ হাজার ৫৪৬ জন। তবে ৬০ হাজার আসনের জন্যই মূলত এসব শিক্ষার্থীর মধ্যে লড়াই হবে। ইতোমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির আবেদনের তারিখ নির্ধারণ করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, এইচএসসিতে ফল যাই হোক না কেন, তাদের উচ্চশিক্ষায় ভর্তি পরীক্ষার জন্য ভালো করে প্রস্তুতি নিতে হবে। কারণ পছন্দের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিষয়ে ভর্তিতে সবসময় তীব্র প্রতিযোগিতা হয়। যেহেতু বিষয়ভিত্তিক যাচাই করে পরীক্ষার মাধ্যমে উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করানো হয়, এক্ষেত্রে যারা ভালো করবে, তারাই চান্স পাবে।

ইউজিসির তথ্য অনুসারে, উচ্চশিক্ষায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫৪টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬৩ হাজার ৬৫৬টি আসন রয়েছে। এছাড়া ১০৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন রয়েছে ৪ লাখ ১০ হাজার। তবে এগুলোর মধ্যে ১০-১৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে শিক্ষার্থীদের দৃষ্টি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন বিভিন্ন কলেজে ডিগ্রি ও স্নাতকে ৯ লাখ ৪৬ হাজার ৯৫টি আসন আছে। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন রয়েছে ৪২ হাজার ৪৩৪টি।

মেডিকেল ও ডেন্টালে আসন ১২ হাজারের বেশি এবং দুটি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে (গাজীপুরের আইইউটি ও চট্টগ্রামে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন) ৮০০টি আসন। শিক্ষার্থীদের অনেকে উচ্চমাধ্যমিকে পাশের পর বিশেষায়িত কারিগরি শিক্ষা নিতে চান। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪টি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ৭২০, ছয়টি টেক্সটাইল কলেজে ৭২০, সরকারি ও বেসরকারি নার্সিং ও মিডওয়াইফারি প্রতিষ্ঠানে আসন আছে ৫ হাজার ৬০০টি। ১৪টি মেরিন অ্যান্ড অ্যারোনটিক্যাল কলেজে ৬৬০টি আসন আছে। যারা ইসলামি বিশেষজ্ঞ হতে চান, তাদের জন্য ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ফাজিল (ডিগ্রি) ও অনার্সে ভর্তির জন্য ১১ হাজার আসন আছে। রাজধানীর ৭টি সরকারি কলেজ নিয়ে গঠিত সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে রয়েছে ১১ হাজার ২৯০ আসন। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আসন যতই থাকুক না কেন, শেষ পর্যন্ত অর্ধশতাধিক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, ১০-১৫টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, ৪৭টি সরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ এবং কয়েকটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে চান। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে আসন আছে ৬০ হাজার।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

ফল পেয়ে দুশ্চিন্তায় শিক্ষার্থীরা পছন্দের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি বড় চ্যালেঞ্জ

পছন্দের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি বড় চ্যালেঞ্জ

ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা শিশুর চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন প্রতিমন্ত্রী টুকু

শিশুর চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন প্রতিমন্ত্রী টুকু

সাজেকে ফের গোলাগুলি আতঙ্ক, আজ থেকে আবার অবরোধ

সাজেকে ফের গোলাগুলি আতঙ্ক, আজ থেকে আবার অবরোধ

বর-কনে নিয়ে ফেরার পথে হামলা, অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুট

বর-কনে নিয়ে ফেরার পথে হামলা, অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুট

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম