তুরাগপারে কাশফুলের রাজ্য
Advertisement
মুহাম্মদ জাভেদ হাকিম
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মোটরবাইকে ছুটলাম তুরাগপারের খাগানের দিকে। ধারেকাছে ঘোরাঘুরির জন্য মোটরবাইকটিই হলো আমার প্রিয় যানবাহন। সাভারের আরিচা মহাসড়ক ছুঁয়ে সিএন্ডবির আঁকাবাঁকা পথে চলতে চলতে পৌঁছে যাই গন্তব্যে। চারদিকে কাশফুল আর কাশফুল। এ যেন কাশফুলেরই রাজ্য। কাশফুলের মাঝ দিয়ে মোটরবাইক এগিয়ে যায়। বাতাসে কাশফুল দোলে। বেশি বাতাসে কাশফুলে ঢেউ খেলে। ঘুরতে ঘুরতে দেখি, তেজোদ্দীপ্ত সূর্যটা সেদিনের মতো তার আপন পথ খোঁজে। সূর্যরশ্মী কমার সঙ্গে সঙ্গে কাশফুলের রাজ্যেও যেন এবার মায়াবী ছন্দের ভালোলাগা ভর করে। প্রকৃতির সেই ছন্দের তালে তালে হেঁটে বেড়াই। জমিনের সাদা সাদা কাশফুল আরও নতুন রূপে চোখে ধরা দেয়। কাশফুলের জগৎ যেন সাদা চাদরে ঢাকা। চারপাশে সাদা আর সাদা। মাথার ওপর শুভ্র মেঘের ভেলা। শান্ত তুরাগের তীরে দাঁড়াই। নদী আর কাশফুল। এ দুইয়ের সৌন্দর্য মিলেমিশে একাকার। প্রায় সাত ফিট উচ্চতার কাশফুলের রাজ্য নড়েচড়ে। শরৎকালে, বিশেষ করে ভাদ্র ও আশ্বিন মাসে কাশফুল পুরোপুরিভাবে ফোটে। এ ফুল নদীর ধারে, চরাঞ্চল ও ফাঁকা বালুর মাঠে ফুটে চারপাশ ধবধবে সাদা করে তোলে। কাশফুলের আদি নিবাস রোমানিয়া। তবে প্রাচীনকাল থেকেই আমাদের দেশে বেশ শক্তপোক্তভাবেই কাশফুল ভীত গেড়েছে। শরৎকালের আগমনী বার্তা শুভ্র সাদা ফুটন্ত কাশফুল, তার নরম পালকে আগে জানান দিয়ে থাকে। বাংলায় একটা প্রবাদ আছে, যা দেখতে সুন্দর, তার নেই কোনো গুণ। কিন্তু কাশফুলের ক্ষেত্রে পুরোটাই ভুল। এর রয়েছে বেশকিছু ঔষধি গুণ। এর মধ্যে অন্যতম হলো, পিত্তথলিতে পাথর উপশম ও শরীরের দুর্গন্ধ দূরীকরণ। এ ছাড়া গৃহস্থালির নানাবিধ ব্যবহারসহ গবাদিপশুর খাদ্য হিসাবেও কাশফুল জোগান দিয়ে থাকে। কাশফুলের রাজ্য পেছনে ফেলে বাইক ছুটে যায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। দৃষ্টিনন্দন পুরো ক্যাম্পস ঘুরে বটতলায় পিঠাপুলি খাই।
যাতায়াত : ঢাকার যে কোনো প্রান্ত থেকে মিরপুর বেড়িবাঁধ কিংবা সাভার হয়ে খাগান গুদারাঘাট। ছবির ছৈয়াল : দেছুট ভ্রমণ সংগঠন
ছবি : দে-ছুট ভ্রমণ সংগঠন
