উৎসবে গয়নার আভিজাত্য
Advertisement
মুমতাহিনা মেহনাজ অনিভা
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
শারদীয় দুর্গোৎসব মানেই রঙের খেলা, আর সেই রঙের পূর্ণতা পায় নারীদের অঙ্গসজ্জায়। পূজার প্রতিটি দিন ষষ্ঠী থেকে দশমী নারীরা যেন হয়ে ওঠেন জীবন্ত ক্যানভাস। তবে সেই সাজের মূল প্রাণ হয়ে ওঠে বৈচিত্র্যময় গয়না।
এবারের পূজার গয়নার বাজারে বড় পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে এবং এখন স্টেটমেন্ট জুয়েলারি বা থিমভিত্তিক গয়নার চাহিদা সবচেয়ে বেশি। সুতির শাড়ি কিংবা কুর্তির সঙ্গে মিলিয়ে অক্সিডাইজড রুপো এবং আফগানি কাটের সিলভার জার্মানির গয়না তরুণীদের পছন্দ হিসাবে জায়গা করে নিয়েছে। অনাকাট কুন্দন, জাফরি কাটিং, এমারেল্ড, রুবি ও রুবি-পান্নার মিশ্রণে তৈরি রানিহার এবং চোকারে মেতেছেন সব বয়সের নারী, আর অন্যদিকে কাপড়ের ওপর ফেব্রিক পেইন্ট, ঘুঙুর ও কড়ির সংমিশ্রণে তৈরি টেক্সটাইল ও ফিউশন গয়না তরুণীদের আধুনিক পোশাকের সঙ্গে মানিয়ে যাচ্ছে দারুণভাবে।
উৎসবের কেনাকাটায় নারীদের অন্যতম আকর্ষণ গয়না। গয়নার বৈচিত্র্য ও সাশ্রয়ী দামের জন্য ক্রেতারা নির্দিষ্ট কিছু বাজারে ছুটছেন। রাজধানীর কেন্দ্রবিন্দু গাউছিয়ার ভেতরের গলি এবং চন্দ্রিমার নিচতলায় এখন তিল ধারণের ঠাঁই নেই, যেখানে মেটাল, স্টোন, জার্মানি সিলভার ও ট্র্যাডিশনাল ঝুমকার বিশাল কালেকশন রয়েছে। আভিজাত্য ও শতভাগ বিশুদ্ধতার ছোঁয়া পেতে অনেকে ছুটছেন দেশীয় ব্র্যান্ডগুলোর দিকে, যেখানে রুপা ও ব্রাসের ওপর মীনাকারি কাজের গয়নার কদর বেশি। তা ছাড়া কাস্টমাইজড গয়না বা ফিউশন অলংকারের জন্য অনেকেই ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের দেশীয় হ্যান্ডিক্রাফটস পেজগুলোতে আগেভাগেই অর্ডার দিয়ে সংগ্রহ করেছেন।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ভিন্ন ভিন্ন বাজেটের ক্রেতাদের জন্য রয়েছে প্রচুর পছন্দের সুযোগ এবং এর মূল্যসীমাও বেশ সুনির্দিষ্ট। বাজারে বর্তমানে সাধারণ অক্সিডাইজড ও মেটাল ঝুমকা মিলছে ১৫০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে, আর ঐতিহ্যবাহী মাটির ও কড়ির থিম সেটের দাম পড়ছে ৩০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা। সেমি-প্রেশাস স্টোনের নেকলেস কিংবা চৌকার কিনতে গুনতে হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকা। খানিকটা অভিজাত ও টেকসই রুপার মীনাকারি বা অক্সিডাইজড সেটের মূল্যসীমা ৩ হাজার ৫০০ থেকে ১৫ হাজার টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে, আর ক্যাজুয়াল ব্যবহারের টেক্সটাইল ও হ্যান্ডমেড কানের দুল খুব সহজেই পাওয়া যাচ্ছে ১০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে।
পূজার অলংকার ভাবনায় তরুণ প্রজন্মের দৃষ্টিভঙ্গি বুঝতে মার্কেটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাজশ্রী সাহা দিশার সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, ‘পূজার প্রতিটি দিন আমার কাছে আলাদা অনুভূতির। অষ্টমীর অঞ্জলি কিংবা নবমীর আরতির সাজ কিন্তু এক নয়। তাই পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে গয়না নির্বাচন করা আমার কাছে একটি শিল্প। এবার পঞ্চমী আর ষষ্ঠীর হালকা সাজের জন্য কিনেছি কড়ি ও কাঠের তৈরি হাতে আঁকা দুর্গাপ্রতিমার সেট। অষ্টমীর অঞ্জলির জন্য বেছে নিয়েছি লাল-সাদা গরদের সঙ্গে পরার মতো একটি ভারী অক্সিডাইজড রানিহার আর বড় ঝুমকা। আর নবমীর জমকালো রাতের জন্য একটা রুবি-পান্নার সেমি-প্রেশাস চোকার কিনেছি। স্বর্ণ তো আছেই, কিন্তু বৈচিত্র্য শুধু ফিউশন ও পাথর-মেটালের গয়নাতেই পাওয়া যায়।’
ষষ্ঠীর বোধন থেকে দশমীর সিঁদুরখেলা প্রতিটি মুহূর্তে বদলে যায় সেই গল্পের নকশা ও অনুষঙ্গ। দেবী আরাধনার এ উৎসবে তাই নারীর অলংকারও যেন একেকটি ছোট্ট শিল্পকর্ম, যেখানে মিশে থাকে শিকড়ের টান, সময়ের রুচি, আর নিজেকে নতুন করে উদযাপনের আনন্দ।
