Logo
Logo
×

Advertisement

ঘরে বাইরে

এ সময়ের সবজি পুষ্টি ও স্বাদে অনন্য

Icon

নিয়ামুর রশিদ শিহাব

প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

বাংলার প্রকৃতিতে কার্তিক ও অগ্রহায়ণ-এ দুই মাস নিয়ে আসে হেমন্তের আবহ। ভোরের ঘাসে জমে শিশির, বাতাসে অনুভূত হয় শীতের হালকা আমেজ। মাঠে মাঠে পাকা ধানের সোনালি আভা জানান দেয় ঋতুব দলের কথা। প্রকৃতির এ পরিবর্তনের সঙ্গে বদলে যায় মানুষের খাদ্যাভ্যাসও। বাজারে আসতে থাকে নানা ধরনের মৌসুমি শাকসবজি। টাটকা সবজি, স্বাদ ও পুষ্টির সমন্বয়ে হেমন্ত হয়ে ওঠে খাদ্যবৈচিত্র্যের এক সমৃদ্ধ সময়।

ফুলকপি : হেমন্তের বাজারে ফুলকপি যেন শীতের আগমনী বার্তা। সাদা ও তাজা ফুলকপি দিয়ে তৈরি হয় নানা পদের তরকারি, ভাজি, স্যুপ কিংবা মিশ্র সবজি। মাছ-মাংসের সঙ্গে রান্না করলেও ফুলকপি খাবারে যোগ করে ভিন্ন স্বাদ। কম তেলে রান্না করা ফুলকপি হতে পারে প্রতিদিনের খাবারের স্বাস্থ্যকর অংশ।

বাঁধাকপি : হেমন্ত ও শীতের বাজারে বাঁধাকপি অন্যতম পরিচিত সবজি। বাঁধাকপি দিয়ে ভাজি, তরকারি, স্যুপ, সালাদ কিংবা নানা ধরনের মিশ্র পদ তৈরি করা যায়। বাঁধাকপিতে রয়েছে ভিটামিন সি, ভিটামিন কে এবং খাদ্যআঁশ। আঁশ হজমে সহায়তা করে এবং পেটের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে।

মুলা : মুলার নাম শুনলেই অনেকের মনে পড়ে এর স্বতন্ত্র ঝাঁজাল স্বাদ ও মচমচে গঠন। হেমন্তের বাজারে সাদা মুলার পাশাপাশি বিভিন্ন জাতের মুলা পাওয়া যায়। মুলা ভর্তা, ভাজি, তরকারি কিংবা সালাদ হিসাবে খাওয়া যায়। মুলা শাকও পুষ্টিকর খাবার হিসাবে পরিচিত। গ্রাম-বাংলায় মুলা দিয়ে মাছের ঝোল রান্নার প্রচলন রয়েছে। আবার সামান্য মসলা দিয়ে মুলার ভাজিও অনেকের পছন্দের খাবার। সহজলভ্য এ সবজি কম খরচে খাবারের পুষ্টিমান বাড়াতে পারে।

শিম : হেমন্তের সবজির তালিকায় শিমের রয়েছে আলাদা আকর্ষণ। মাচায় মাচায় ঝুলে থাকা সবুজ শিম যেমন গ্রামীণ প্রকৃতির সৌন্দর্য বাড়ায়, তেমনি বাজারেও তৈরি করে বৈচিত্র্য। শিম দিয়ে ভাজি, মাছের ঝোল, ডাল কিংবা মিশ্র সবজি রান্না করা যায়। শিমে রয়েছে খাদ্যআঁশ, উদ্ভিজ্জ প্রোটিন, ফোলেট এবং বিভিন্ন খনিজ উপাদান। এসব উপাদান শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সহায়তা করে। বিশেষ করে উদ্ভিজ্জ খাবারের মাধ্যমে পুষ্টি গ্রহণ বাড়াতে শিম ভালো একটি বিকল্প।

পালংশাক : শীতের আগমনী সময়ে বাজারে দেখা মেলে নানা ধরনের শাকের। এর মধ্যে পালংশাক পুষ্টিগুণ ও রান্নার সহজতর কারণে বিশেষভাবে জনপ্রিয়। পালংশাক ভাজি, ডাল, মাছের সঙ্গে কিংবা বিভিন্ন মিশ্র পদে খাওয়া যায়। পালংশাক রান্নার আগে পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে মাটি ও ময়লা দূর করা জরুরি। অল্প তেলে রান্না করলে স্বাদ ও পুষ্টির ভারসাম্য বজায় রাখা সহজ হয়।

বাংলার কৃষকের পরিশ্রমে হেমন্তের মাঠে মাঠে যেমন ফসলের সমারোহ দেখা যায়, তেমনি সেই ফসলের একটি বড় অংশ মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখে। স্থানীয় কৃষকের উৎপাদিত মৌসুমি সবজি কেনার মাধ্যমে কৃষির সঙ্গে যুক্ত মানুষের জীবিকাকেও সমর্থন করা যায়। ঋতুর পরিবর্তন শুধু প্রকৃতির রূপ বদলায় না, বদলে দেয় খাবারের আয়োজনও। তাই হেমন্তের এ সময়ে মৌসুমি সবজি হোক প্রতিদিনের খাবারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। স্বাদ, পুষ্টি ও কৃষকের শ্রমের সম্মিলনে হেমন্তের সবুজ আয়োজন হয়ে উঠুক সুস্থ জীবনের এক অনন্য অনুষঙ্গ।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

এই হেমন্তে

এই হেমন্তে

এ সময়ের সবজি পুষ্টি ও স্বাদে অনন্য

এ সময়ের সবজি পুষ্টি ও স্বাদে অনন্য

রেসিপি নবান্নের পিঠাপুলি

নবান্নের পিঠাপুলি

ভ্রমণ কাঞ্চনজঙ্ঘার অপূর্ব সৌন্দর্য

কাঞ্চনজঙ্ঘার অপূর্ব সৌন্দর্য

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম