‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক
Advertisement
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জুলাই অভ্যুত্থানকালে আলোচনায় আসা ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান ঘিরে সম্প্রতি রাজনীতির মাঠে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে এই স্লোগান নিয়ে সরকারের একজন মন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর পালটা প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন জামায়াতের আমিরসহ এনসিপির কয়েকজন নেতা। এছাড়া স্লোগানের পক্ষে বিপক্ষে পোস্ট, কমেন্ট ও শেয়ারে সরগরম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম।
প্রসঙ্গত বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ শনিবার নিজের নির্বাচনি এলাকার এক অনুষ্ঠানে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগানের বিষয়ে বক্তব্য দেন। ভাষার মাসে মাতৃভাষা বাংলার গুরুত্ব প্রসঙ্গে আলোচনার এক পর্যায়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাকে যদি ধারণ করতে হয়, বাংলা ভাষাকে যদি মায়ের ভাষা বলতে হয়, তাহলে ইনকিলাব জিন্দাবাদ চলবে না। ইনকিলাব জিন্দাবাদ, ইনকিলাব মঞ্চ এগুলোর সঙ্গে বাংলার কোনো সম্পর্ক নেই।’
তবে মন্ত্রীর এ বক্তব্যের পরপরই জামায়াত ও এনসিপি নেতাদের কাছ থেকে দ্রুত প্রতিক্রিয়া আসে। রোববার ভোরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান লেখেন- ‘ইনশাআল্লাহ, আগামীর বাংলাদেশ ইনসাফের বাংলাদেশ। ইনকিলাব জিন্দাবাদ।’ এছাড়া দলের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান সম্পর্কে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন তা কেবল অসঙ্গতই নয়, বরং ইতিহাস, ভাষাতত্ত্ব ও গণআকাঙ্ক্ষার বাস্তবতাকে অস্বীকারের শামিল।
জামায়াত ছাড়াও মন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এনসিপির কয়েকজন নেতাও ফেসবুকে পোস্ট দেন। এনসিপির মুখপাত্র ও অন্যতম প্রভাবশালী নেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া তার পোস্টে লিখেছেন ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ শুনলে ব্লিডিং হয়, বাংলাদেশ জিন্দাবাদ শুনলে ব্লিডিং হয় না মাননীয় মন্ত্রী?’ এছাড়া এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তার পোস্টে লিখেছেন ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ, চাঁদাবাজ মুর্দাবাদ।’
উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগানটি মূলত উর্দু-হিন্দি ভাষার বাক্যাংশ। যার অর্থ হচ্ছে ‘বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক’। ব্রিটিশ ভারতে বামপন্থি রাজনীতিবিদদের মুখে মুখে এ স্লোগান উচ্চারিত হয়। তবে ১৯২০ সালের দিকে ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামী ভগত সিং-এর হাত ধরে স্লোগানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। এক পর্যায়ে এটি ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের এক মোক্ষম স্লোগানে পরিণত হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জুলাই অভ্যুত্থানকালে ইনকিলাব জিন্দাবাদ স্লোগানটি আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়া তরুণদের দারুণভাবে উজ্জীবিত করেছিল। এ কারণে অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দেওয়ালে স্লোগানটির গ্রাফিতি দেখা যায়। এছাড়া জুলাই আন্দোলনের অন্যতম প্রভাবক হিসাবে পরিচিত কয়েকজন অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টকেও এই স্লোগান ব্যাপকভাবে ব্যবহার করতে দেখা গেছে।
