অনেক দিন পর সংস্কৃতি সচিববিহীন সাংস্কৃতিক আয়োজন
সংগীত দিবসের অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সভাপতির বক্তব্য দেন সচিব কানিজ মওলা। ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বাংলা একাডেমি, শিল্পকলা একাডেমি বা জাতীয় জাদুঘরসহ সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত সব প্রতিষ্ঠানের আয়োজনেই মধ্যমণি হয়ে থাকেন এর প্রতিনিধিগণ। এসব আয়োজনে বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতির চেয়ে তারাই প্রাধান্য পান। বিশেষ করে এসব আয়োজনে সংস্কৃতি সচিব কানিজ মওলার উপস্থিতি রীতিমতো চোখে পড়ার মতো। নাচ, গান থেকে শুরু করে গুরুগম্ভীর সাহিত্য সেমিনার বা গবেষণাবিষয়ক অনুষ্ঠানেও তাকে প্রধান অতিথি বা সভাপতির আসন অলংকৃত করতে দেখা যায়।
তবে বৃস্পতিবারের আয়োজন ছিল একেবারেই ভিন্ন। বিকাল ৪টায় বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষের আয়োজনে কানিজ মওলা ছিলেন না। অনুষ্ঠানস্থলে এসে ব্যানারে তার নাম না দেখে অনেকেই কটাক্ষ করে বলেন, এই প্রথম সাংস্কৃতিক আয়োজনে সংস্কৃতি সচিব কানিজ মওলা নেই। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাংস্কৃতিক সব আয়োজনে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও সচিব এসে মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ ও আত্মপ্রচার করেন। এক আয়োজনে মন্ত্রণালয়ের একাধিক প্রতিনিধি না এনে সেখানে বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করা পরামর্শ শিল্পী ও সাহিত্যিকদের। শিল্পাঙ্গনের অনেকে বলছেন, যখন যে আয়োজন হবে সেখানে বিশেষজ্ঞরা এলে আয়োজনের সৌন্দর্য বাড়ে, দর্শক-শ্রোতাও বাড়তি কিছু পেয়ে বাড়ি ফিরতে পারেন। কিন্তু নিজেদের আয়োজনে নিজেরা অতিথি হয়ে থাকাটা খুবই দৃষ্টিকটু লাগে!
বৃহস্পতিবার জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বিষয়ে বাংলা একাডেমি প্রকাশিত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রবন্ধ’, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের গল্প’ ও ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ছড়া’ এই তিনটি বইয়ের পাঠপর্যালোচনা অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন একাডেমির পরিচালক ও সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সমীর কুমার সরকার। আলোচক হিসাবে ছিলেন লেখক ও গবেষক শিবলী আজাদ এবং কবি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক তুহিন খান। সভাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত একজন লেখকের ভাষ্য, আজকের অনুষ্ঠানে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা হয়েছে। বক্তা কম আলোচনা বেশি। আর যারা কথা বলেছেন তারা এই বিষয়ের জন্য প্রাসঙ্গিক। অথচ গত দুই মাস ধরে যেখানেই তিনি গেছেন সেখানেই মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য প্রতিনিধি না থাকলে অন্তত সংস্কৃতি সচিব কানিজ মওলাকে দেখতে পেয়েছেন। গড়পড়তা আলোচনা ও আর আত্মপ্রচার দেখার জন্য যানজটের শহরে মানুষ রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসে না বলে তিনি বিরক্তি প্রকাশ করেন।
এই কথার সূত্র ধরে বাংলা একাডেমি ও শিল্পকলা একাডেমির মতো স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের জুন ও জুলাই মাসের অনুষ্ঠানসূচি পর্যালোচনা করে দেখা যায়-৪ জুন শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত হুমায়ূন আহমেদ স্মরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কানিজ মওলা, ৬ জুন বাংলা একাডেমি আয়োজিত কবি জীবনানন্দ দাশ, কবি আল মাহমুদ, অনুবাদক মনিরউদ্দীন ইউসুফ ও রশীদ করীমবিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ছিলেন তিনি। ১২ জুন শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত সংগীতশিল্পী সৈয়দ আবদুল হাদীর জন্মজয়ন্তীতে সভাপতিত্ব করেন কানিজ মওলা। একই দিনে শিল্পকলার ৮ দিনব্যাপী নাট্য উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন তিনি। ১৩ জুন বাংলা একাডেমি আয়োজিত প্রাবন্ধিক ও লেখক আবদুল হক, শহীদুল জহির ও বদরুদ্দীন উমর ও কবি শামসুর রাহমানবিষয়ক সেমিনারেও তিনি ছিলেন প্রধান অতিথি। ১৬ ও ১৭ জুন শিল্পকলা একাডেমিতে যথাক্রমে সার্কাস ও যাত্রাশিল্পীদের কর্মশালায়ও তিনি সভাপতিত্ব করেন।

