সংবাদ সম্মেলনে জিএমপি কমিশনার
‘পিচ্চি রাজা’কে প্রাইভেটকারে তুলে দিয়েছিল পুলিশই
Advertisement
কাশিমপুর-কোনাবাড়ী (গাজীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়ার পথে দায়িত্বরত পুলিশ সদসরাই প্রিজনভ্যানের তালা খুলে আসামি রাজা ওরফে পিচ্চি রাজাকে প্রাইভেটকারে তুলে দিতে সহায়তা করেছেন। পরে বিষয়টি নিয়ে তারা আসামি পালানোর নাটক সাজিয়েছেন। সোমবার দুপুরে গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার।
এ ঘটনায় প্রিজনভ্যানের দায়িত্বরত পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) প্রবীর কুমার, চালক কামাল হোসেন ও পলাতক আসামির বোন তাসলিমাকে গ্রেফতার করেছে জিএমপির গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ঘটনায় প্রিজনভ্যানের দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে জিএমপির ৩ সদস্যের পর্যবেক্ষণ কমিটি। এরই মধ্যে পাঁচ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাও হয়েছে। ঘটনার পরপরই দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরাই জানিয়েছেন, ২৭ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে ২৯ আসামি নিয়ে প্রিজনভ্যানটি ঢাকা জেলা জজ আদালত থেকে কাশিমপুর কারাগারে ফিরছিল। গাজীপুরের বাইমাইলে পৌঁছালে শৌচকর্মের কথা বলে পিচ্চি রাজা প্রিজনভ্যান থেকে পালিয়ে যান। তবে জিএমপির তদন্তে দেখা গেছে, ঢাকার তাঁতীবাজার থেকে রাজাকে পুলিশই প্রিজনভ্যানের তালা খুলে প্রাইভেটকারে তুলে দিতে সহায়তা করেছে।
জিএমপি কমিশনার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, প্রিজনভ্যানের দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরাই টাকার বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দিয়েছেন। পরে চালক নায়েক কামাল হোসেনের বাড়ি থেকে ৬০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
গত ১৯ মে ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে পিচ্চি রাজাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তিনি ওই এলাকার শীর্ষ মাদক কারবারি। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। পুলিশ কমিশনার বলেন, প্রিজনভ্যানের চালকের কাছ থেকে চাবি নিয়ে এসআই প্রবীর কুমার তালা খুলে পিচ্চি রাজাকে নামিয়ে নেন। এরপর প্রাইভেটকারে তাকে পালাতে সহায়তা করেন। পরে তিনি গাজীপুরের বাইমাইলে এসে প্রিজনভ্যানটিতে ওঠেন। সেখানে অন্য পুলিশ সদস্যদের নিয়ে সাজান আসামি পালিয়ে যাওয়ার নাটক।
এ ঘটনায় ২৯ সেপ্টেম্বর কোনাবাড়ী থানায় মামলা হয়। পরে তদন্তের ভার যায় গোয়েন্দা পুলিশের কাছে। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছেন জিএমপির ডিবির পরিদর্শক সৈয়দ মিজানুর ইসলাম। তদন্ত কর্মকর্তারা বিভিন্ন সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আলামত সংগ্রহ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করেছেন। পরে ওই তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।
গাজীপুর মহানগর ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের এবং পলাতক আসামি পিচ্চি রাজাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
