উত্তেজনা সত্ত্বেও মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানি বেড়েছে
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের রপ্তানি বেড়েছে। সোমবার জাহাজ চলাচল-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল রপ্তানিকারকরা সেপ্টেম্বরের প্রায় অর্ধেক সময়ে যুদ্ধ-পূর্ববর্তী স্তরকে ছাড়িয়ে গেছেন। এ সময়ে হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকারে হামলা ও সরবরাহ-সংক্রান্ত সীমাবদ্ধতা-এ উচ্চ প্রবাহের ধারাবাহিকতার সম্ভাবনাকে অনিশ্চিত করে তুলে।
কেপলারের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ৩০ সেপ্টেম্বর মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানির সাত দিনের চলমান গড় ছিল দৈনিক ১ কোটি ৮৩ লাখ ব্যারেল। এছাড়া সেপ্টেম্বরের ১৪ দিনেই রপ্তানির পরিমাণ যুদ্ধ-পূর্ববর্তী মাত্রাকে ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরের মধ্য দিয়ে পাঠানো উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল এবং ওমান উপসাগরে টার্মিনাল ও জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তরের মাধ্যমে পাঠানো চালান।
কেপলারের তথ্যমতে, গত জুন ও জুলাই মাসের কয়েক দিনে রপ্তানির পরিমাণ যুদ্ধ-পূর্ববর্তী মাত্রার সমান বা তার চেয়ে বেশি ছিল। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সইয়ের পর এ ঘটনা ঘটে, যদিও সেই সমঝোতার মেয়াদ পরবর্তীতে শেষ হয়ে যায়। কেপলারের হিসাব অনুযায়ী, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার আগের ১২ মাসে ওই অঞ্চল থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানির গড় পরিমাণ ছিল দৈনিক প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল।
কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ১০ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ পাইপলাইনে হামলার তিন সপ্তাহ পর লোহিত সাগর ও পারস্য উপসাগর-উভয় অঞ্চল থেকেই তেল বোঝাই কার্যক্রম জোরদারের ফলে সম্প্রতি রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ দিয়ে তেল পরিবহণে এখন আরও বেশিসংখ্যক সুপার ট্যাংকার প্রয়োজন। ওমান উপসাগরে জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তরের সক্ষমতাও তার সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছে গেছে।
আগস্ট মাসে বাগদাদ হরমুজ দিয়ে ইরাকি তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলের বিষয়ে ইরানের অনুমতি পাওয়ার পর ইরাকের রাষ্ট্রীয় তেল ট্যাংকার কোম্পানি এবং কয়েকটি শোধনাগার প্রণালির ভেতরে ‘বসরা’ গ্রেডের অপরিশোধিত তেল বোঝাইয়ের জন্য ট্যাংকার ভাড়া করেছে। জাহাজ চলাচল-সংক্রান্ত তথ্য প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ভর্টেক্সাও জানায়, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল সরবরাহ বা প্রবাহ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল ও কনডেনসেট রপ্তানির ১৪ দিনের চলমান গড় দৈনিক ১ কোটি ৮৬ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে। এটি গত ১০ বছরের মৌসুমি গড়কে ছাড়িয়ে যায় এবং সংঘাত-পূর্ববর্তী পর্যায়ে ফিরেছে।
জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক জেভিয়ার ট্যাং বলেন, ‘সেপ্টেম্বর মাসে যে মাসিক সরবরাহ বেড়েছে, তার বড় অংশই এসেছে সৌদি আরব থেকে। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের কাছ থেকে বাজারের অংশীদারত্ব পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে তারা রপ্তানি বাড়াচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ বৃদ্ধির বিষয়টি তেলের বাজারের টানাপোড়েন বা ঘাটতি কমাতে সহায়তা করবে, বিশেষ করে এশীয় শোধনাগারগুলোর জন্য।’ সেপ্টেম্বর মাসে হরমুজ দিয়ে যাওয়া তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী (এলএনজি) জাহাজের সংখ্যাও বেড়ে ফেব্রুয়ারির পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে এখনো চলছে ট্যাংকারে হামলা। মারিস্কসের তথ্যমতে, গত এক সপ্তাহে অন্তত সাতটি হামলা হয়েছে।
আল জাজিরা জানায়, রোববার রাতে এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) জ্যেষ্ঠ কমান্ডার আলি ফাদাবি বলেন, ওই রুট দিয়ে বর্তমানে দৈনিক মাত্র ৩০ থেকে ৪০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহণ করা হচ্ছে। এ প্রথমবার পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালি, ওমান সাগর কিংবা উত্তর ভারত মহাসাগরে কোনো মার্কিন নৌযান উপস্থিত নেই। আইআরজিসি’র হামলার মুখে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো ‘শতভাগ অরক্ষিত’।
