মাউশির পদক্ষেপ
শিক্ষার মানসম্মত রূপান্তরে ২১ প্রকল্প বাস্তবায়নে জোর
মানসম্মত ও স্মার্ট শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে * গড়ে তোলা হবে শিক্ষার ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স’ * প্রযুক্তিসমৃদ্ধ শিক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থার রূপান্তরে ২১টি নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা ভাবছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ১৮টি ধারণাপত্রও পাঠানো হয়েছে। এসব উদ্যোগ মানসম্মত ও স্মার্ট শিক্ষা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল। তার ভাষ্য, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও সেবার গতি বাড়াতে প্রযুক্তিসমৃদ্ধ শিক্ষাব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াইফাই, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’, বাধ্যতামূলক তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, সবার জন্য কারিগরি শিক্ষা, বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উন্নয়ন, পৃথক শিক্ষা চ্যানেল এবং গণ-অভ্যুত্থানে আহতদের সহায়তা। এছাড়া জাইকা, বুয়েট, খান একাডেমি ও সাজেদা ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় ‘ডিজিটাল লার্নিং সিস্টেম’ এবং ‘লার্ন ম্যাথ উইথ খান একাডেমি’ প্রকল্প চালু হয়েছে। এডিবির সহায়তায় দেশের ৪৭১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা মূল্যায়নও চলছে।
মাউশির পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ড. মীর জাহীদা নাজনীন বলেন, এসব উদ্যোগ সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মানসম্মত ও স্মার্ট শিক্ষা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জানা যায়, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক সংস্কার, শিক্ষক বদলি ও নিয়োগে স্বচ্ছতা, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে মাউশিকে একটি ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স’ হিসাবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে এবং বৈষম্যহীন, আধুনিক ও স্মার্ট শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ভিত্তি তৈরি হবে। মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও সেবার গতি বাড়াতে ডিজিটাইজেশনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘হোল স্কুল অ্যাপ্রোচ’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের সার্বিক মানোন্নয়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বমানের শিক্ষা নিশ্চিত করাই লক্ষ্য।
মাউশি সূত্রে জানা যায়, ডিজিটাল অটোমেশন ও প্রশাসনিক সংস্কারে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এজন্য গতিশীল করতে পরিচালক ও উপপরিচালক পর্যায়ে প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থাপনা তথ্য পদ্ধতি (ইএমআইএস) ক্লাউডভিত্তিক আধুনিক প্ল্যাটফর্মে উন্নীত করা হচ্ছে। এতে এমপিও, সরকারি শিক্ষকদের পিডিএস, শূন্যপদের তথ্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ডেটাবেজ ও প্রতিবেদন প্রস্তুত আরও সহজ হবে।
অন্যদিকে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করতে এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষকদের জন্য স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারভিত্তিক বদলি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ক্যামেরা কেন্দ্রীয় সার্ভারের সঙ্গে সংযুক্ত করা হচ্ছে। উদ্ভাবন ও ই-লার্নিংকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এজন্য ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’, স্কাউটিং সম্প্রসারণ, কলেজ শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়ন, শিক্ষাবিদ ইনস্টিটিউট স্থাপনসহ ছয়টি নতুন স্কিম প্রস্তাব করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারে রাখা হয়েছে। এজন্য মেয়ে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও আত্মহত্যা প্রতিরোধে ‘মনের বন্ধু’ কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে। পাশাপাশি ইউনেস্কোর মানদণ্ড অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ‘হেলথ প্রমোটিং স্কুল’ হিসাবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
