অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র
ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে ঋণ ১,৫০০ কোটি টাকা
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিদ্যুৎ উৎপাদনে আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে সৌরবিদ্যুতের বিস্তার ঘটাতে বড় ধরনের অর্থায়ন কর্মসূচি নিয়েছে সরকার। গৃহস্থালি, প্রতিষ্ঠান ও শিল্প পর্যায়ে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎসহ বিভিন্ন নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা সরকারি ঋণ দেওয়া হবে। সুবিধাভোগী পর্যায়ে সব ধরনের ফি-চার্জসহ কার্যকর বার্ষিক সুদের হার সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সামষ্টিক অর্থনীতি অনুবিভাগের বুধবার জারি করা এক পরিপত্রে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। পরিপত্র অনুযায়ী, সরকারের দেওয়া ঋণের সুদহার হবে বার্ষিক ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। ঋণের মেয়াদ ১০ বছর, যার মধ্যে এক বছর গ্রেস পিরিয়ড থাকবে। সরকারের এই অর্থায়নের লক্ষ্য শুধু নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো নয়; একই সঙ্গে আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা এবং বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির চাপ কমানো। জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-২০৩০)-এর আওতায় ২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ ২০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগও ইতোমধ্যে জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি ও নেট মিটারিং-সংক্রান্ত নির্দেশনা প্রকাশ করেছে।
টাকা যাবে তিন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। পরিপত্রে বলা হয়েছে, ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার মধ্যে ১ হাজার কোটি টাকা ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এমএসএমই খাতের জন্য সংরক্ষিত ২ হাজার কোটি টাকা থেকে পুনর্বিন্যাস করে নেওয়া হবে। বাকি ৫০০ কোটি টাকা পরিচালন ঋণ থেকে সংস্থান করা হবে। অর্থায়ন পাবে তিন প্রতিষ্ঠান-ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল), বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেড (বিআইএফএফএল) এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)। প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানকে ৫০০ কোটি টাকা করে দেওয়া হবে। এসব প্রতিষ্ঠান সরাসরি অথবা অংশীদার/সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ঋণ বিতরণ করতে পারবে। তবে সুবিধাভোগীর ঋণখেলাপির ঝুঁকি সংশ্লিষ্ট অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানকেই বহন করতে হবে।
যেসব কাজে মিলবে ঋণ। ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও নেট মিটারিং সংযোগ, সোলার হোম সিস্টেম, শিল্পপ্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুৎ, সৌরচালিত সেচপাম্প, ইনভার্টার, মিটার ও ব্যাটারি সংরক্ষণ ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তি স্থাপন, সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নে এ অর্থ ব্যবহার করা যাবে। তবে পুরোনো ঋণ পরিশোধ, ঋণ পুনঃঅর্থায়ন, জমি বা শেয়ার কেনা, ব্যক্তিগত ভোগ কিংবা প্রতিষ্ঠানের সাধারণ প্রশাসনিক ব্যয়ে এ অর্থ ব্যবহার করা যাবে না। পরিপত্র অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ৩০ দিনের মধ্যে কর্মসূচির নির্দেশিকা, ঋণনীতি, নির্বাচন ও মূল্যায়ন মানদণ্ড এবং প্রতিবেদন পদ্ধতি অর্থ বিভাগে জমা দিতে হবে। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পর জারি করা পরিপত্রটি জারির দিন থেকেই কার্যকর হয়েছে।
