Logo
Logo
×

Advertisement

দ্বিতীয় সংস্করণ

ঋণ প্রাপ্তির চেয়ে পরিশোধ দ্বিগুণ

পাওয়া গেছে ২৯ কোটি ডলার পরিশোধ ৬৯ কোটি * চলতি অর্থবছরে প্রতিশ্রুতি ২৪ কোটি ডলারের

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ঋণ প্রাপ্তির চেয়ে পরিশোধ দ্বিগুণ

Advertisement

উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুমাসে যে পরিমাণ বৈদেশিক ঋণের অর্থ পাওয়া গেছে তার দ্বিগুণের বেশি অর্থ পরিশোধ করতে হয়েছে। অর্থাৎ ঋণের টাকায় ঋণ পরিশোধ করতে বাধ্য হচ্ছে সরকার। এছাড়া গত অর্থবছরের তুলনায় ঋণ প্রতিশ্রুতিও কমেছে। রোববার অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) প্রকাশিত বৈদেশিক ঋণের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে।

ইআরডির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে বৈদেশিক ঋণের অর্থছাড় হয়েছে ২৯ কোটি ৪৫ লাখ ৬০ হাজার ডলার। একই সময়ে পরিশোধ করতে হয়েছে ৬৯ কোটি ৮৯ লাখ ২০ হাজার ডলার। অর্থাৎ ঋণ প্রাপ্তির চেয়ে ৪০ কোটি ৪৩ লাখ ৬০ হাজার ডলার বেশি পরিশোধ করতে হয়েছে।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুমাসে যে পরিমাণ বিদেশি ঋণের অর্থছাড় হয়েছে সেটি গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় অর্ধেকের চেয়েও কম। গত অর্থবছরের এ সময়ে অর্থছাড় হয়েছিল ৭৪ কোটি ৬১ লাখ ৬০ হাজার ডলার।

ঋণ পরিশোধও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধ করতে হয়েছে ৬৯ কোটি ৮৯ লাখ ২০ হাজার ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে পরিশোধ ছিল ৬৬ কোটি ৭১ লাখ ১০ হাজার ডলার। চলতি অর্থবছরে পরিশোধিত ঋণের মধ্যে আসল ছিল ৫১ কোটি ৬০ লাখ ৪০ হাজার ডলার। আর সুদ ১৮ কোটি ২৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে সুদ ও আসল পরিশোধ ছিল যথাক্রমে ১৭ কোটি ৮৩ লাখ ২০ হাজার ডলার ও ৪৮ কোটি ৮৭ লাখ ৯০ হাজার ডলার। অর্থছাড় কমে যাওয়া ও ঋণ পরিশোধ বৃদ্ধির বিষয়ে ইআরডির কর্মকর্তারা বলছেন, পতিত সরকারের সময় অপরিকল্পিতভাবে বিদেশি ঋণের টাকায় অনেক প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এর অনেকগুলোই বাস্তবে প্রয়োজন ছিল না। এছাড়া অনেক মেগা প্রকল্পও ছিল যেগুলোর গ্রেস পিরিয়ড ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। যার ফলে বিদেশি ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধ বেড়েছে।

এছাড়া দীর্ঘদিন নির্বাচিত সরকার না থাকায় উন্নয়ন সহযোগীরা ঋণদানে ততটা আগ্রহী ছিল না বলে জানান তারা। তবে এখন নতুন সরকার আসার পরে ঋণদানের ব্যাপারে তাদের আগ্রহ কিছুটা বাড়ছে বলে জানানো হয়।

এদিকে ঋণ পরিশোধ বাড়লেও নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি এখনো কম। চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ঋণের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে ২৪ কোটি ৩ লাখ ৯০ হাজার ডলার। গত অর্থবছরের এ সময়ে ছিল ২৪ কোটি ৩৮ লাখ ১০ হাজার ডলার।

ইআরডির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, আট দেশ ও উন্নয়ন সহযোগীর মধ্যে ঋণের অর্থছাড়ে এগিয়ে রয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। বহুজাতীয় ঋণদাতা সংস্থাটি অর্থছাড় করেছে ১২ কোটি ৮৭ লাখ ২০ হাজার ডলার। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বিশ্বব্যাংক অর্থছাড় করেছে ৭ কোটি ৩৯ লাখ ৬০ হাজার ডলার। তালিকায় তৃতীয় নম্বরে রয়েছে জাপান, দেশটি অর্থছাড় করেছে ৩ কোটি ৯০ লাখ ৪০ হাজার ডলার। এছাড়া রাশিয়া অর্থছাড় করেছে ২ কোটি ৬ লাখ ৫০ হাজার ডলার। তবে এআইআইবি ও চীন কোনো অর্থছাড় করেনি। অন্যদিকে বেশির ভাগ দেশ অর্থছাড় করলেও বড় সংস্থাগুলোর মধ্যে নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে শুধু জাপান থেকে। চীন, রাশিয়া, বিশ্বব্যাংকের মতো বড় উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে কোনো প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়নি।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

মধ্যপ্রাচ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘বিদায় বেশি দূর নয়’

মধ্যপ্রাচ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘বিদায় বেশি দূর নয়’

ঋণ প্রাপ্তির চেয়ে পরিশোধ দ্বিগুণ

ঋণ প্রাপ্তির চেয়ে পরিশোধ দ্বিগুণ

বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে বিপিএএমইএ’র মতবিনিময় প্যাকেজিং খাতের সমস্যা সংসদে তোলার আশ্বাস

প্যাকেজিং খাতের সমস্যা সংসদে তোলার আশ্বাস

চট্টগ্রাম থেকে কুনমিং চীনের ইউনানের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানোর প্রস্তাব

চীনের ইউনানের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানোর প্রস্তাব

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম