ডিসেম্বরে কোনো ‘অপশক্তি’ অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ডিসেম্বর মাসে কোনো ‘অপশক্তি’ অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ‘আপনারা ডিসেম্বর ডিসেম্বর করছেন কেন? ডিসেম্বর তো আমাদের বিজয়ের মাস। ডিসেম্বরে কোনো অপশক্তি এখানে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারবে বলে আমি বিশ্বাস করি না।’ বৃহস্পতিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর নতুন সদর দপ্তর নির্মাণের ‘শুভারম্ভ ফলক’ উন্মোচন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফিরছেন-এমন আলোচনা রয়েছে। এর জেরে ডিসেম্বর ঘিরে সম্ভাব্য অস্থিরতা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা।
আরেক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘যৌথ বাহিনী গঠনের কোনো প্রকাশ্য ঘোষণা দেওয়া হয়নি। আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যারা আছে সবাইকে নিয়ে সমন্বিতভাবে একটা অপারেশন পরিচালনা করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে আনসার, পুলিশ, বিজিবি, এসআরবিসহ অন্যান্য ফোর্স থাকবে। সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করবে। তবে যৌথ অভিযান হবে না।’
এটা ‘অপারেশন ক্লিনহার্টের’ মতো কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না, সেরকম কোনো পরিকল্পনা নাই। এটা আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত কর্মকাণ্ডের অংশ। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক ইত্যাদি দমনের জন্য।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে কারও কারও দায়িত্ব অবহেলা আমরা লক্ষ্য করেছি। যেগুলো আমাদের সামনে আসছে, নজরে আসছে, তদন্তে আসছে, সেগুলো আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছি। আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছি, ডিপার্টমেন্টাল প্রসিডিং করছি। ক্ষেত্রবিশেষে আমরা শুধু তাদের প্রত্যাহার করেই ক্ষান্ত হচ্ছি না, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছি এবং ক্রিমিনাল অফেন্স যদি হয়ে থাকে-তাদের বিরুদ্ধে ক্রিমিনাল অফেন্সে অভিযোগ আনা হচ্ছে। এই মেসেজ আমরা সব জায়গায় দিয়েছি।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘ট্রাফিক সিস্টেম কন্ট্রোল করতে আমরা পরিকল্পিত পদক্ষেপ নিচ্ছি, যেন কনস্ট্রাকশনের ব্যাঘাত না ঘটে এবং কাজটাও যেন সুষ্ঠুভাবে হয়। প্রধানমন্ত্রী নিজেই উদ্যোগ নিয়েছেন ঢাকার ট্রাফিক সিস্টেমের বিভিন্ন পরিকল্পিত উন্নয়নের জন্য। অটোমেশনের ফলে অনেক জায়গায় আমরা সুফল পাচ্ছি। অটোমেটিক মামলা হয়ে যাচ্ছে এবং শৃঙ্খলার মধ্যে ফিরে আসছি।’
তেজগাঁওয়ে ৩ দশমিক ৪২৮ একর পরিমাণের পরিত্যক্ত জমি আইনানুগ হস্তান্তরের মাধ্যমে আধুনিক আনসার সদর দপ্তর প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘এ বহুতল ভবন ও আধুনিক কমান্ড সেন্টার থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্য বাহিনীগুলোর সঙ্গে দ্রুত তথ্য বিনিময়, সেন্ট্রাল অপারেশন মনিটরিং এবং সমন্বিত কৌশলগত পরিকল্পনা পরিচালনা করা সম্ভব হবে।’
এছাড়া খিলগাঁও বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তরে ‘ভ্রাম্যমাণ আইটি প্রশিক্ষণ সেন্টার’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী ‘আনসার বাহিনী আইন-১৯৯৫’, ‘আনসার ব্যাটালিয়ন আইন-২০২৩’ এবং ‘গ্রাম প্রতিরক্ষা দল আইন-১৯৯৫’-এই তিনটি পৃথক আইনের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। একাধিক আইনের পরিবর্তে একটি সমন্বিত ও একক আইন প্রণয়ন করে তার অধীনে আধুনিক বিধিমালা তৈরি করা হলে বাহিনীর সামগ্রিক কর্মকাণ্ড আইনি ভিত্তির ওপর আরও সুদৃঢ় হবে এবং সার্বিক পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ আরও সুশৃঙ্খল হবে।
