তিন কিশোরের ‘মাস্তানি’তে প্রাণ গেল রিকশাচালকের
গাবতলী এলাকায় মাস্তানি করতে কেনে সুইচগিয়ার * জন্মদিন উপলক্ষ্যে মদের পার্টির আয়োজন * হত্যার পর ঢাকা থেকে পালিয়ে যায় সবাই
Advertisement
আবদুল্লাহ আল মামুন
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজধানীর গাবতলীতে ছুরিকাঘাতে এক রিকশাচালক (২০) নিহতের ঘটনার তিন দিন পরও তার পরিচয় শনাক্ত হয়নি। তবে হত্যারহস্য উদ্ঘাটন করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় জড়িত ৩ কিশোরকে গ্রেফতার করেছে ডিবির মিরপুর বিভাগ। মূলত কিশোররা নিজেদের বাহাদুরি দেখাতে গেলে শিকার হন রিকশাচালক।
গ্রেফতার ৩ জন হলো—সাঈদ, জিহাদ ও ফারদিন। তাদের প্রত্যেকের বয়স ১৬ থেকে ১৮ বছর। তিনজনই নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে। ভোলা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও যাত্রাবাড়ীতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর তারা পালানোর জন্য ঢাকা ছাড়ে। ডিবি সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
ডিবির মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ রাকিব খান যুগান্তরকে বলেন, তিনজনের বয়সই কম। তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে চাইলেও সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় আদালতে হাজির করা যায়নি। আজ সকালে তাদের হাজির করা হবে।
বুধবার ভোরে গাবতলীর আল্লাহর দান হোটেলের সামনে থেকে রিকশার ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় ওই রিকশাচালকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তার নাম-পরিচয় নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। ফিঙ্গার প্রিন্ট মিলিয়েও তার পরিচয় পাওয়া যায়নি। পরিচয় শনাক্তে সহযোগিতা চেয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে থানা পুলিশ।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ফারদিনের বাড়ি পিরোজপুরে। সে ঢাকায় একটি রেস্টুরেন্টে চাকরি করে। সাঈদ ঢাকার স্থানীয়। তার দাদাবাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে। এছাড়া জিহাদের বাড়ি ভোলায়। পরিবারের সঙ্গে ঢাকায় থাকলেও কোনো কাজ করে না।
গ্রেফতারদের জিজ্ঞাসাবাদে ডিবি জানতে পারে, সাঈদের বয়স ১৭ বছরে পদার্পণ উপলক্ষ্যে চাচাতো ভাই রুয়েল জন্মদিনের পার্টির আয়োজন করে। এ উপলক্ষ্যে গাবতলী এলাকা থেকে বাংলা মদ কিনে এনে নিজেরা খায় ও মোজ-মাস্তি করে। রাতে মদ খেয়ে বের হয়ে গাবতলীর দিকে চা খেতে গেলে জিহাদ ও ফারদিন ভুক্তভোগী রিকশাওয়ালা দেখে ছিনতাইকারী বলে ধারণা করে। তারা নিজেদের কাছে থাকা ফোন ও টাকা শরীরের ভেতরে নিরাপদে লুকিয়ে রাখে। পরে রিকশাচালককে তার বাড়ি-ঘর কোথায় জানতে চায়। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হলে একপর্যায়ে রিকশাওয়ালা সেখান থেকে চলে যায়।
ডিবি জানায়, তর্ক-বিতর্কের কিছুক্ষণ পর সাঈদ সেখানে এলে রিকশাচালকের সঙ্গে ঝামেলার বিষয়টি তার সঙ্গে আলোচনা করে। তখন সাঈদ বলে, আমাকে আগে জানালি না কেন? একপর্যায়ে সে খুবই উত্তেজিত হয়ে পড়ে। এর মধ্যে স্থানীয় আল আমিন রেস্টুরেন্টের সামনে সেই রিকশাচালকের সঙ্গে ফের তাদের সাক্ষাৎ হয়। তখন তার সঙ্গে নতুন করে তর্কে জড়ায়। একপর্যায়ে রিকশাচালক হোটেলের ভেতরে ঢুকে এক গ্লাস পানি খেয়ে বেরিয়ে যায়। বের হওয়ার সময় সাঈদ তাকে আটকে আগের ঝামেলা করার কারণ জানতে চায়। তখন নতুন করে কথা কাটাকাটি শুরু হলে সাঈদ ও জিহাদ তাকে চড় মারে। তখন রিকশাচালক উত্তেজিত হয়ে গেলে সাঈদ তার সঙ্গে থাকা সুইচগিয়ার বের করে রিকশাচালকের ঘাড়ে আঘাত করে। এতে ঘাড়ের রগ কেটে গেলে রিকশার ওপর পড়েই মৃত্যু হয় তার। বিষয়টি বুঝতে পেরে তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যায়।পুলিশ জানায়, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ রিকশাচালকের লাশ উদ্ধার করে।
ডিবির তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হত্যাকাণ্ডের কয়েকদিন আগে এলাকায় ভয়ভীতি দেখাতে একটি সুইচগিয়ার কেনে সাঈদ। তার উদ্দেশ্য ছিল মাস্তানি করা। কিশোর গ্যাংয়ের মতো ভাব করতে চেয়েছিল। মূলত উঠতি বয়সের কারণে মাস্তানি করার খায়েশ জাগে তার। এজন্য সুইচগিয়ারটি কেনে। কিন্তু সেটি দিয়ে হত্যাকাণ্ডের পর তারা ঢাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। রিকশাটির গ্যারেজের ঠিকানা খুঁজে বের করে চালকের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে।
