সোনারগাঁয়ে এশিয়ান হাইওয়েতে ফাটল
যানচলাচলে চরম ভোগান্তি
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন, সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ)
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
গাজীপুর-জয়দেবপুর-দেব্রগ্রাম-ভুলতা-মদনপুর সড়ক (ঢাকা বাইপাস এশিয়ান হাইওয়ে) চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের সোনারগাঁয়ের সিংলাব-পাকুন্দা এলাকায় আকস্মিক ভয়াবহ ফাটল দেখা দিয়েছে। প্রায় ২৫০ মিটার সড়কজুড়ে ফাটল সৃষ্টি হওয়ায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার সকাল ৬টার দিকে এলাকাবাসী সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের ফাটল দেখতে পান। এ সময় যানবাহন চালক, পথচারী ও এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জ সওজ কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। এসময় সড়কে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। দুপুরে প্রকল্প পরিচালক সৈয়দ আসলাম আলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
স্থানীয়দের দাবি, সড়ক নির্মাণ ও উন্নয়নকাজে যথাযথ মানের ঘটতি ছিল। নির্মাণকাজের শুরু থেকেই নিুমানের সামগ্রী ব্যবহার ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। এছাড়া এশিয়ান হাইওয়ের কাজ করার সময় সড়কের পাশ থেকে মাটি খনন করে রাতের আঁধারে বিক্রি করা হয়। যে কারণে সড়কের দুপাশ পুকুরে পরিণত হয়। তাছাড়া গাইড ওয়াল না থাকায় মাটির চাপে রাস্তার পূর্বপাশের অংশ দেবে যায়। ফলে বড় বড় ফাটল দেখা দেয়। স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘রাস্তা বানানোর সময় আমরা চোখের সামনে দেখেছি কী নিুমানের কাজ হয়েছে। খোয়া আর বিটুমিনের কাজের মান একদম খারাপ ছিল। এক বছরও গেল না, এর মধ্যেই রাস্তা ফেটে ধসে পড়ল। সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করছে, আর ঠিকাদাররা চুরি করে আমাদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলছে।’
স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বৃষ্টির পানি ও যানবাহনের চাপের কারণে ফাটল আরও বড় হয়ে সড়কের অংশবিশেষ ধসে পড়তে পারে। বিশেষ করে ভারী যানবাহন চলাচলের সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়েছে। তবে ভিন্ন কথা বলছেন ঢাকা বাইপাস সড়ক চার লেন উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক সৈয়দ আসলাম আলী। তিনি বলেন, টানা দুই-তিন দিনের বৃষ্টির কারণে সড়কের ঢাকা অংশের মাটি নরম হয়ে পড়ে। তার ওপর ভারী যানবাহন চলার কারণে নরম হওয়া মাটি সরে গিয়ে রাস্তা দেবে গেছে। এ কারণে বেশ কিছু জায়গাজুড়ে ফাটল দেখা দিয়েছে। প্রকল্প নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সাথে কথা হয়েছে। তারা জরুরিভাবে ডাইভারশন সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করছেন। যেখানে মাটি সরে গেছে সেখানে ড্রিল করে নতুন করে রাস্তা মেরামত করা হবে।
