দুই বিচারকের বিরুদ্ধে অভিযোগ
১৮ বছরেও নিষ্পত্তি হয়নি চেক ডিজঅনার মামলা
Advertisement
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দেড় যুগেও চেক ডিজঅনারের একটি মামলা নিষ্পত্তি হয়নি। মামলাটি সিএমএম আদালত, যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালত, উচ্চ আদালত ও আপিল বিভাগ হয়ে এখন ফের ঢাকা যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালতে পড়ে আছে। ২০০৮ সালে হওয়া ১ কোটি ৯৮ লাখ টাকার ওই চেক ডিজঅনার মামলাটি ২০২৪ সালের ১২ আগস্ট থেকে আদালত একাধিক তারিখ ঘোষণা করলেও রায় হয়নি। বাধ্য হয়ে এবি ব্যাংকের পক্ষে সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী হোসেন আল-আমিন বাদী হয়ে জেলা ও দায়রা জজ বরাবর ঢাকা যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ ৭ আদালতের বিচারক মো. নিজাম উদ্দিন ও সাবেক বিচারক মো. বুলবুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০০৬ সালে এবি ব্যাংক মহাখালী শাখা থেকে মেসার্স সুইপস্টার পেট নামক একটি প্রতিষ্ঠান ঋণ নেয়। এই মামলার একমাত্র আসামি খন্দকার মেহমুদ আলম ছিলেন ঋণের গ্যারান্টার। মেসার্স সুইপস্টার পেট ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে মেহমুদ আলম ২০০৮ সালের ২৫ মার্চ ১ লাখ ৯৮ হাজার টাকার একটি চেক ব্যাংককে দেন। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ চেকটি ওইদিনই উত্তোলনের জন্য জমা করেন, যা ডিজঅনার হয়। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ মেহমুদ আলমের বিরুদ্ধে ওই বছরের ২১ মে ঢাকার সিএমএম কোর্টে চেক ডিজঅনারের মামলা করেন। ওই আদালতে জামিন নিয়ে ডিসচার্জের দরখাস্ত নামঞ্জুর হলে মেহমুদ আলম হাইকোর্টে রিভিশন দায়ের করেন। সেখানে ব্যর্থ হয়ে তিনি আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল দায়ের করেন, যা ২০২১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি খারিজ হয়। পরে মামলাটি ঢাকার ৭ম যুগ্ম মহানগর দায়রা কোর্টে বিচার শুরু হলে আসামিপক্ষ বারবার সময় নেওয়ায় আদালত গত বছরের ১৮ মার্চ রায়ের জন্য ধার্য করেন। কিন্তু ওই দিনও রায় হয়নি। এরপর আটবার তারিখ পেছানো হলে সবশেষ ২৭ অক্টোবর রায়ের জন্য দিন ধার্য করেন। ব্যাংক মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতি, আইনমন্ত্রী, মহানগর দায়রা জজের কাছে আবেদন করেও কোনো প্রতিকার পায়নি।
আবেদনকারী আইনজীবী হোসেন আল-আমিন যুগান্তরকে বলেন, ১৮ বছর ধরে মামলাটি সিএমএম আদালত, যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালত, উচ্চ আদালত ও আপিল বিভাগ হয়ে এখন ঢাকা যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালতে পড়ে আছে। ২০০৮ সালে হওয়া ১ কোটি ৯৮ লাখ টাকার ওই চেক ডিজঅনারের মামলাটি ২০২৪ সালের ১২ আগস্ট থেকে আদালত একাধিক তারিখ ঘোষণা করেও রায় হয়নি। বাধ্য হয়ে এবি ব্যাংকের পক্ষে বাদী হয়ে জেলা ও দায়রা জজ বরাবরে আবেদন করেছি। তিনি বলেন, মামলাটি ঝুলে থাকা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এটি বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার একটি চরম উদাহরণ।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মোছাম্মদ সুরাইয়া মুস্তারী যুগান্তরকে বলেন, সংশ্লিষ্ট আদালতে অন্তত পাঁচ শতাধিক মামলা রয়েছে। তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত নন, তবে খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে জানান।

