বিএমইউর গবেষণা
ফুসফুসের ঝুঁকিতে শ্রমজীবীসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষ
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ধূমপান, বায়ুদূষণ, কর্মক্ষেত্রের ধুলাবালি, অস্বাস্থ্যকর রান্নার পদ্ধতি ও অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী সংক্রমণে দেশে মারাত্মকভাবে ফুসফুস রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। শুধু হাসপাতাল নয়, কারখানার পাশাপাশি বাসাবাড়িতেও বাড়ছে এর প্রকোপ। বিশ্ব ফুসফুস দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে বুধবার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের বৈজ্ঞানিক সেমিনারে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
সেমিনারে দেশীয় গবেষণার তথ্য, আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি, বিরল রোগনির্ণয়, গবেষণা সম্প্রসারণ এবং প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এতে জানানো হয়, ফুসফুসের সুস্থতা শুধু রোগমুক্ত থাকার বিষয় নয়, বরং জন্ম থেকে বার্ধক্য পর্যন্ত প্রতিটি নিঃশ্বাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের সামগ্রিক স্বাস্থ্য ও জীবনমান।
রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. শামীম আহমেদের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফএম সিদ্দিকী।
বৈজ্ঞানিক অধিবেশনে বিভাগের ফেজ-বি রেসিডেন্ট ডা. মো. মাহমুদুর রহমান চৌধুরী ‘ব্রিদিং নিউ নলেজ : রিসার্চ হাইলাইটস ফ্রম ডিপার্টমেন্ট অব রেসপিরেটরি মেডিসিন’ শীর্ষক ২১টি গবেষণার মূল ফলাফল তুলে ধরেন। এসব গবেষণা ২০১৯ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়। এতে জানানো হয়, লালমনিরহাটের পাথর কাটা কারখানার শ্রমিকদের ৮৯ শতাংশের দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের উপসর্গ পাওয়া গেছে। রংপুরের চালকল শ্রমিকদের ৫২ দশমিক ৩ শতাংশের অন্তত একটি শ্বাসতন্ত্রের উপসর্গ ছিল, যেখানে ধুলার সংস্পর্শে না থাকা মানুষের মধ্যে এ হার ১৭ দশমিক ৬ শতাংশ। গাজীপুরের কালিয়াকৈরে এক হাজার প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে ২২ দশমিক ৪ শতাংশের শ্বাসতন্ত্রের উপসর্গ ছিল; বেশি বয়স, ধূমপান ও প্রচলিত দূষণকারী রান্নার পদ্ধতি ছিল উল্লেখযোগ্য ঝুঁকির কারণ। হাসপাতালে সংক্রমিত নিউমোনিয়ার রোগীদের নমুনায় পাওয়া জীবাণুর ৮৭ দশমিক ৮ শতাংশ ছিল একাধিক অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী। তিনি বলেন, কারখানা থেকে রান্নাঘর; রান্নাঘর থেকে হাসপাতালের ওয়ার্ড-সবখানে দেশের মানুষের ফুসফুস সুরক্ষায় দেশীয় গবেষণার তথ্যই পথ দেখায়।
ফেজ-বি রেসিডেন্ট ডা. তাসনিম আফরীন জ্যোতি বিভাগের বিরল ও ব্যতিক্রমী বিভিন্ন কেস স্টাডি উপস্থাপন করেন। বিভাগের ফেজ-বি রেসিডেন্ট ডা. মেহনাজ আজিজ হোমার সঞ্চালনায় ফেজ-বি রেসিডেন্ট ডা. সাবিহা আফরীন তন্বী বিভাগের চলমান গবেষণাগুলো নিয়ে আলোচনা করেন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। অক্সিজেন সরবরাহের নতুন যন্ত্রের সম্ভাবনা নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মেডিকেল অফিসার ডা. মানাল মিজানুর রহমান। থোরাসিক সার্জারির অধ্যাপক ও সিএইচএবির সহসভাপতি ডা. আনোয়ারুল আনাম কিবরিয়া চিকিৎসাবিজ্ঞানে গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ এবং বায়োমেডিকেল প্রকৌশলে গবেষণা বাড়ানোর বিষয়ে জোর দেন। বিএমইউ উপাচার্য রেসপিরেটরি মেডিসিনে পড়াশোনার পরিবেশ আরও উন্নত করা, রোগীর চিকিৎসায় সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা নিশ্চিত করা এবং গবেষণা বাড়ানোর তাগিদ দেন।
