Logo
Logo
×

Advertisement

দ্বিতীয় সংস্করণ

ধর্ষণের শিকার নারীর নবজাতক বিক্রি

৪ দিন পর উদ্ধার, গ্রেফতার ৪

Advertisement

Icon

কুমিল্লা ব্যুরো

প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পুত্রসন্তান প্রসব করেছে এক তরুণী। তবে জন্মের পরপরই ধর্ষক ও তার পরিবারের লোকজন কৌশলে নবজাতককে অন্যত্র বিক্রি করে দেয়। এ ঘটনায় স্থানীয় সালিশে ধর্ষককে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার বিষয়টি জানাজানি হলে এ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। অভিযান চালিয়ে উপজেলার হিঙ্গুলা গ্রাম থেকে নবজাতককে উদ্ধার করে। এ সময় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে শুক্রবার রাতে তরুণী পুত্রসন্তান প্রসব করে। ধর্ষক জাহিদুল ইসলাম ওরফে আবির (২৬) উপজেলার কনকাপৈত ইউনিয়নের কালকোট গ্রামের আমির হোসেন লাকির ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধর্ষিতার বাড়ি একই গ্রামে। তার বৃদ্ধা নানির ঢাকায় চিকিৎসা চলছিল। ওই সময় তার মাকে দীর্ঘদিন ঢাকার হাসপাতালে অবস্থান করতে হয়েছিল। এ সুযোগে বাড়িতে একা থাকা তরুণীকে জাহিদুল ইসলাম জোরপূর্বক একাধিকবার ধর্ষণ করে। ভয়ে প্রথম দিকে বিষয়টি কাউকে জানায়নি তরুণী। পরে শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন ও বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিলে তার মা বিষয়টি বুঝতে পারেন। মেয়ের কাছ থেকে বিস্তারিত শোনার পর তিনি ধর্ষকের পরিবারকে বিষয়টি অবহিত করেন। তবে ধর্ষকের পরিবার বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে এবং উলটো ভিকটিমকে নিয়ে নানা অপবাদ ছড়ায়।

সূত্র আরও জানায়, তরুণীর বাবা প্রায় ১২ বছর আগে মারা গেছেন। মা ও চার ভাইবোন নিয়ে অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছেন। পরিবারে কোনো পুরুষ অভিভাবক না থাকায় স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রের নানা চাপের মুখে পড়তে হয়েছে তাদের। অভিযুক্ত যুবক ঘটনা স্বীকার করলেও তরুণীকে বিয়ের প্রস্তাব নাকচ করে। এরপর অসহায় ভিকটিম পরিবার প্রভাবশালীদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছে। তাতেও কাজ হয়নি।

গত শুক্রবার অন্তঃসত্ত্বা তরুণীর প্রসব ব্যথা উঠলে তাকে চৌদ্দগ্রাম বাজার এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে সে একটি পুত্রসন্তান জন্ম দেয়। তবে জšে§র পরপরই ধর্ষক ও তার পরিবারের লোকজন কৌশলে নবজাতককে একটি চক্রের কাছে বিক্রি করে দেয়। ডিবি পুলিশ সোমবার সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে নবজাতককে উপজেলার হিঙ্গুলা গ্রাম থেকে উদ্ধার করেছে। সেখান থেকে গ্রেফতার করেছে চারজনকে। পুলিশ জানায়, নবজাতকের পিতৃপরিচয় গোপন করার উদ্দেশ্যে একটি চক্রের মাধ্যমে শিশুটিকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। এ জন্য ১০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে দেড় লাখ টাকার বিনিময়ে চুক্তি হয়।

গ্রেফতাররা হলো-জোবেদা আক্তার সানজিদা (৩৫), নজরুল ইসলাম মনির (৪৮), স্বপ্না বেগম (৩৫) রিপন মিয়াকে (৪২)। তাদের কাছ থেকে শিশুটিকে হস্তান্তরের চুক্তিপত্রও জব্দ করা হয়েছে। গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

এদিকে সামাজিক স্বীকৃতি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা এবং অসহায়ত্বের কারণে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। ভুক্তভোগী তরুণীর বোন বলেন, ‘আমার মা নানির চিকিৎসার জন্য ঢাকায় থাকার সময় বোনের সঙ্গে এ ঘটনা ঘটে। পরে আমাদের ওপর নানা চাপ ও হুমকি দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার রাতে আমার বোন একটি ছেলেসন্তান জন্ম দেয়; কিন্তু আমাদের অসহায় অবস্থার সুযোগ নিয়ে নবজাতককে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বোনের ওপর নির্যাতনের বিচার হিসাবে সালিশে ৩ লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলা হলেও আমরা সেই টাকা পাব কি না, তা নিয়ে শঙ্কিত।’ এ বিষয়ে সালিশদার হাজী মোস্তফা বলেন, ‘স্থানীয়রা বসে বিষয়টি সুরাহা করেছেন।’

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষাকে প্রাধান্য দিতে হবে: জামায়াত আমির

নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষাকে প্রাধান্য দিতে হবে: জামায়াত আমির

ফের কথা পালটালেন ট্রাম্প পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার শঙ্কা

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার শঙ্কা

ধর্ষণের শিকার নারীর নবজাতক বিক্রি

ধর্ষণের শিকার নারীর নবজাতক বিক্রি

‘জয় বাংলা’ স্লোগানে দীপক আটক, পরে মুক্ত

‘জয় বাংলা’ স্লোগানে দীপক আটক, পরে মুক্ত

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম