নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষাকে প্রাধান্য দিতে হবে: জামায়াত আমির
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, মেধাবী ও সৎ মানুষ সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যত বেশি প্রবেশ করবে, সমাজ তত সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও অগ্রগতির দিকে এগিয়ে যাবে। আর মেধা ও চরিত্র উপেক্ষিত হলে সেই সমাজ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। বর্তমানে বাংলাদেশ এমনই এক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এজন্য মাদ্রাসা শিক্ষার পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থায়ও নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষাকে প্রাধান্য দিতে হবে। দেশপ্রেমিক, সৎ ও আদর্শ নাগরিক গড়ে তুলতে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
সোমবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তানযীমুল উম্মাহ ফাউন্ডেশন পরিচালিত বিভিন্ন শাখার ১ হাজার ৭৫৯ জন হাফেজ শিক্ষার্থীকে ক্রেস্ট, সনদ, পাগড়ি/স্কার্ফ ও অ্যাওয়ার্ড ব্যাগ প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে তাদের মা-বাবাকেও বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়।
শফিকুর রহমান বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষা নিয়ে দীর্ঘদিন অবহেলা, অবজ্ঞা ও ষড়যন্ত্র চলছে। সরকারি আলিয়া মাদ্রাসাগুলো ভূতুড়ে মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। এমপিওভুক্ত মাদ্রাসাগুলোর অবস্থাও ভালো নয়। শিক্ষার সিলেবাস সংকুচিত করা হয়েছে। এখন আবার কৌশলে মাদ্রাসাগুলোকে স্কুলে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, যারা মাদ্রাসার অনুষ্ঠানে গিয়ে নিজেদের ধর্মপ্রাণ মুসলমান হিসাবে উপস্থাপন করেন, তারাই আবার মাদ্রাসা শিক্ষার নীতিনির্ধারণের সময় ভিন্ন অবস্থান গ্রহণ করেন। তাদের বক্তব্য ও কার্যক্রমের মধ্যে সামঞ্জস্য খুঁজে পাওয়া কঠিন।
জামায়াত আমির বলেন, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা এখন শুধু ধর্মীয় শিক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। তারা সিভিল প্রশাসন, চিকিৎসা, প্রকৌশল, পুলিশ প্রশাসন, স্বাস্থ্যসেবা ও কূটনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজেদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখছেন। প্রতিযোগিতামূলক ক্ষেত্রেও তারা এগিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, পবিত্র কুরআন হিফজ করতে অসাধারণ স্মরণশক্তি ও মেধার প্রয়োজন হয়। অনেক অভিভাবক সন্তানদের হিফজ শিক্ষায় পাঠালেও সবাই পুরো কুরআন মুখস্থ করতে পারে না। যারা সফলভাবে হিফজ সম্পন্ন করেন, তারা পরবর্তী সময়ে সাধারণ শিক্ষায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রেও মেধার স্বাক্ষর রাখতে পারেন।
প্রথম অধিবেশনে বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার অধ্যক্ষ ড. মাওলানা শাহজাহান আল-মাদানীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হাফেজ ড. এবিএম হিযবুল্লাহ, অধ্যক্ষ মাওলানা সাইয়্যেদ কামালুদ্দিন আব্দুল্লাহ জাফরি, তামীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ড. মাওলানা হিফজুর রহমান, উত্তর বাড্ডা কামিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ড. আনোয়ার হোসাইন মোল্লা, হাফেজ মুরতুজা হাসান ফয়জি মাসুম, হাফেজ কারি হাবিবুল্লাহ বেলালী, অধ্যক্ষ মাহমুদুল হাসান ফেরদৌস প্রমুখ।
২৮ অক্টোবর হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি : বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর লগি-বৈঠার নির্মম আঘাতে হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণের দাবি-অবিলম্বে ২৮ অক্টোবরের খুনিদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা পুনরায় সচল করে তাদের গ্রেফতার ও শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। সোমবার এক বিবৃতিতে তিনি এ দাবি জানান।
বিবৃতিতে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২০০৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচাল করার উদ্দেশ্যে চারদলীয় জোট সরকারের মেয়াদ শেষে ২৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট সারা দেশে লগি-বৈঠার তাণ্ডব সৃষ্টি করে। সেদিন বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে একটি জনসভার আয়োজন করা হয়। সকাল থেকে জনসভার স্টেজ নির্মাণের কাজ চলছিল। হঠাৎ ১৪ দলীয় জোটের সন্ত্রাসীরা গোটা পল্টন এলাকায় জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের ওপর লগি-বৈঠা, রড ও বিভিন্ন আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।
