ফের কথা পালটালেন ট্রাম্প
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার শঙ্কা
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের প্রেক্ষাপটে ‘সর্বোচ্চ সংযম’ প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তেনিও গুতেরেস। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ শুরু করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তার আশঙ্কা, ‘আমরা এখন যে হুমকি-ধমকি বা যুদ্ধের উসকানি দেখছি, তা যদি বড় ধরনের পারস্পরিক সংঘাতের দিকে মোড় নেয়, তবে এই অঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।’ সোমবার কায়রো সফরের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ দেওয়া এক বার্তায় জাতিসংঘের মহাসচিব এসব কথা বলেন।
জাতিসংঘ প্রধান বলেন, ’আমি একটি স্পষ্ট বার্তা দিতে চাই, আমাদের সর্বোচ্চ সংযম এবং কূটনৈতিক সমাধানের প্রয়োজন।’ তিনি সতর্ক করে বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মানদাব প্রণালি এবং এর আশপাশের এলাকায় নৌ-চলাচলের অধিকার ও স্বাধীনতা পুরোপুরি পুনর্বহাল করতে হবে। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার পরিবেশ তৈরিতে সহায়তা করার ক্ষেত্রে মিসরের ভূমিকারও প্রশংসা করেছেন।
ফের কথা পালটালেন ট্রাম্প : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও কথা পালটে বক্তব্য দিয়েছেন। রোববার যে হামলার কথা বলেছিলেন, সেটা তিনি নাকচ করে দিয়েছেন। ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ইরানে রোববার যুক্তরাষ্ট্রের কোনো হামলা হবে না। তবে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে ভবিষ্যৎ সামরিক পদক্ষেপের বিকল্প বাদ দেননি। হোয়াইট হাউজ থেকে মিশিগানে যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, রোববার হামলা হবে না। এর আগে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ওয়াশিংটন হয় ইরানের সঙ্গে চুক্তি করতে পারে, নয়তো রোববারই হামলার কাজটা শেষ করতে হতে পারে। ট্রাম্পের এই ঘোষণা এসেছে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র থাকার মধ্যেই। হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা, জাহাজে হামলা এবং ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযানের আশঙ্কায় বৈশ্বিক তেলবাজারেও চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার অনুমোদন মিসরের : মিসরের পার্লামেন্ট সৌদি আরবকে রক্ষার জন্য তাদের সামরিক বাহিনীকে সহায়তা প্রদানের অনুমোদন দিয়েছে। এই পদক্ষেপটি কায়রোকে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী এবং উপসাগরীয় দেশটির মধ্যকার আঞ্চলিক সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে। প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি গত সপ্তাহে পার্লামেন্টের কাছে অনুরোধ জানিয়েছিলেন, ইরানসমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলার বিরুদ্ধে সৌদিকে যেন প্রতিরক্ষামূলক সহায়তা দেওয়া হয়। হুথিদের অগ্রযাত্রা কৌশলগত ‘বাব আল-মানদাব’ প্রণালির জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা মিসরের সুয়েজ খালের প্রবেশপথ হিসাবে পরিচিত।
আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যের ডাক ইরানের : ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান মুসলিম দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, তারা যেন ইসরাইলি আগ্রাসন এবং মধ্যপ্রাচ্যকে ‘বিভক্ত করার’ লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রসমর্থিত প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করে। তেহরানে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির এবং তুরস্কের গোয়েন্দা প্রধান ইব্রাহিম কালিনের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। পেজেশকিয়ান বলেন, মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন জোরদারে সহায়তা করতে ইরান প্রস্তুত। তিনি গাজা, লেবানন, ইরান এবং এই অঞ্চলের অন্যান্য স্থানে ইসরাইলি হামলার তীব্র নিন্দা জানান। এ সময় তিনি বলেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে না; তবে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির আওতায় শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কার্যক্রম পরিচালনার অধিকারের ওপর তারা জোর দিচ্ছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্ববিরোধী নীতির’ সমালোচনা করে বলেন, ওয়াশিংটন একদিকে আলোচনার প্রস্তাব দিচ্ছে, অন্যদিকে ইরান ও এর পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালাচ্ছে।
ইয়েমেনের রাজধানী ও লোহিত সাগরের উপকূলে বিস্ফোরণ : ইয়েমেনের হুথি-নিয়ন্ত্রিত রাজধানী সানা এবং লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। পশ্চিম সানার বাসিন্দারা অন্তত চারটি বিস্ফোরণের কথা জানিয়েছেন। হুথি ঘাঁটির কাছাকাছি বসবাসকারী এক নারী জানান, প্রচণ্ড বিস্ফোরণের ধাক্কায় তার নিজের ও আশপাশের বাড়িঘরের জানালা ভেঙে গেছে। বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণে অন্তত ১০টি বাড়ি এবং মোখা জেনারেল হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হুথি হামলার নিন্দা জানাল পাকিস্তান : সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে ইয়েমেন থেকে হুথিদের ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার নিন্দা জানিয়েছে পাকিস্তান। এই হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে পবিত্র স্থানগুলোও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই নিন্দনীয় হামলাগুলো সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার গুরুতর লঙ্ঘন। একই সঙ্গে এগুলো ইসলামের পবিত্রতম স্থানগুলোর মর্যাদা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার প্রতি চরম অবজ্ঞার বহিঃপ্রকাশ। বিবৃতিতে বলা হয়, পাকিস্তান সৌদি আরবের প্রতি সংহতি পুনর্ব্যক্ত করছে এবং ‘মক্কা জোট’-এর প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্বহাল রেখেছে।
