ঢাকায় টেককানেক্ট-২০২৬ সম্মেলন
শিল্প খাতে এআইর ব্যবহার বাড়লে উৎপাদন ব্যয় কমবে
আগামী ৫ বছরে ডিজিটাল খাতে ১০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ বাংলাদেশকে এআইর আঞ্চলিক কেন্দ্রে পরিণত করার কাজ চলছে-ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
টেকসই নীতিমালার আলোকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার বাড়ানো গেলে বাংলাদেশে বড় ধরনের উন্নয়ন সম্ভব। এমনকি এআইভিত্তিক শিল্প গড়ে তুললে জ্বালানি ও শিল্প খাতে উৎপাদন ব্যয় কমে আসবে। লাভবান হবে দেশের জনগণ। মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং চীনের প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ টেককানেক্ট-২০২৬’ শীর্ষক সম্মেলনে বক্তারা একথা বলেন। সম্মেলন উদ্বোধন করেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ জনসংখ্যা এবং পরিবেশের দিক দিয়ে পৃথিবীর অন্যান্য দেশের চেয়ে ভিন্ন। তাই এই দেশের প্রেক্ষাপট চিন্তা করে সেবা দিতে হবে। সম্মেলনে সাইবার সিকিউরিটি, কানেকটিভিটি ও ডিজিটাল সেবা নিয়ে আলাদাভাবে আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠানে এআই ব্যবহার করে কীভাবে শিক্ষা ব্যবস্থায় অবকাঠামো তৈরিসহ বাসাবাড়িতে রোবট ব্যবহার ও সবুজ জ্বালানির আধুনিক প্রযুক্তির বিভিন্ন ডিভাইসও প্রদর্শন করা হয়। বলা হয়, শুধু প্রযুক্তির ব্যবহারকে বিশ্বাসযোগ্য করতে এআই ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য সাইবার সিকিউরিটির ভিত মজবুত করার বিকল্প নেই। সম্মেলনে সরকারের নীতিনির্ধারকরা বলেন, এআইর নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকার একটি নীতিমালা তৈরি করছে। আগামী ৩-৪ মাসের মধ্যে এটি চূড়ান্ত করা হবে।
সম্মেলনে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, সরকার ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির আলোকে একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও জ্ঞানভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই নীতির ওপর ভিত্তি করেই আগামী ৫ বছরে ডিজিটাল খাতে ১০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাংলাদেশকে তথ্যপ্রযুক্তি ও এআইর আঞ্চলিক কেন্দ্রে পরিণত করতে কাজ চলছে।
মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি অঞ্চলে নির্ভরযোগ্য, নিরাপদ, উচ্চগতির ও সাশ্রয়ী ডিজিটাল সংযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা ও প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। যাতে করে জনগণের প্রাইভেসি নিশ্চিত করা যায়। এতে করে জনগণ তথ্য প্রযুক্তির ওপর বিশ্বাস হারাবে না।
অনুষ্ঠানে টেলিযোগাযোগ সচিব ড. মো. কামরুজ্জামান এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঁঞা বক্তব্য রাখেন।
হুয়াওয়ের দক্ষিণ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট জেসন উ বলেন, বাংলাদেশের ডিজিটাল অবকাঠামোর উন্নয়ন ও প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণে হুয়াওয়ে, সরকার এবং শিল্প খাতের অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ দেশে শিল্প এবং জ্বালানি খাতে এআই ব্যবহার করা গেলে পরিচালন ব্যয় অনেক কমে আসবে। এই ক্ষেত্রে হুয়াওয়ে প্রযুক্তি সহযোগিতা দিতে পারে বলে জানান তিনি।
সম্মেলনে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের যুগ্ম সচিব সাইদা আফরোজ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে ‘ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি ও কানেক্টিভিটি’, ‘শিল্প খাতে দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রযুক্তির ভূমিকা’ এবং ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা : বৈশ্বিক প্রবণতা, প্রভাব ও বাংলাদেশের প্রস্তুতি’ শীর্ষক তিনটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সাইদা আফরোজ বলেন, বাংলাদেশে মোবাইল নেটওয়ার্কের ৯৯ শতাংশ এখন ফোরজি প্রযুক্তির আওতায়। কিন্তু এই ফোরজির মোবাইল ডিভাইস আছে ৪৬ শতাংশ গ্রাহকের। যে কারণে বিশালসংখ্যক গ্রাহক এই প্রযুক্তি সুবিধা নিতে পারছেন না। তিনি ২০৩৫ সাল পর্যন্ত সরকারের টেলিকম ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের পরিকল্পনার কথা জানান।
‘ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি ও কানেক্টিভিটি’, ‘শিল্প খাতে দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রযুক্তির ভূমিকা’ এবং ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা : বৈশ্বিক প্রবণতা, প্রভাব ও বাংলাদেশের প্রস্তুতি’ শীর্ষক আলোচনায় ফাইভজি ও সংযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, প্রযুক্তির মাধ্যমে শিল্প খাতের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারে বাংলাদেশের প্রস্তুতির বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। তৈরি পোশাকশিল্প, বন্দর, কৃষি ও স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন খাতে ফাইভজি, ফিক্সড ওয়্যারলেস অ্যাকসেস এবং এন্টারপ্রাইজ কানেক্টিভিটির বাণিজ্যিক সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।
প্যানেল আলোচনায় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ইকবাল আহমেদ বলেন, নীতি এবং প্রযুক্তির অবকাঠামো হতে হবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অর্থাৎ জনসংখ্যা এবং আর্থসামাজিক অবস্থা বিবেচনা করে প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ করতে হবে।
আলোচনায় সঞ্চালনা করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সৈয়দা নওশিন পর্ণিনী ও জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মহাপরিচালক ড. মো. তৈয়বুর রহমান। প্যানেলিস্ট হিসাবে অংশগ্রহণ করেন টেলিযোগাযোগ, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) এবং প্রযুক্তিশিল্পের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এআই নির্ভর সেবা খাত নিয়ে প্রদর্শনী : দিন বদলে গেছে। এখন আর ৫-১০ কিলোমিটার হেঁটে ভালো স্কুলে যেতে হবে না। দূরবর্তী স্কুলে প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থায় আধুনিক শিক্ষা নেওয়া যাবে। সেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সব থাকবে। এমন একটি স্মার্ট স্কুলের মডেল প্রদর্শনী করা হয় এই সম্মেলনে।
সবুজ জ্বালানি নিয়ে প্রদর্শনী : সবুজ জ্বালানি নিয়ে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করে হুয়াওয়ে। এই প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার এমডি ইশতিয়াক আহমেদ যুগান্তরকে জানান, লোডশেডিং মুক্ত দেশ গড়তে সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তাই হুয়াওয়ে বাংলাদেশের জন্য সোলার প্যানেলের সবচেয়ে স্মার্ট কনভার্টার এবং লিথিয়াম ব্যাটারি স্টোরেজ নিয়ে এসেছে।
