এফটিএর আলোচনা শুরু
মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোই চ্যালেঞ্জ
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মালয়েশিয়ার সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পন্নের আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করেছে বাংলাদেশ। দুই দেশের লক্ষ্য ২০২৭ সালের মধ্যে একটি আধুনিক ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট চুক্তি চূড়ান্ত করা। এর মাধ্যমে রপ্তানি বাড়ানো, বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে চায় সরকার। তবে বড় বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং নতুন বাজার সুবিধা কাজে লাগানোই হবে এ উদ্যোগের অন্যতম চ্যালেঞ্জ।
মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে শুরু তিন দিনব্যাপী প্রথম দফার আলোচনা উদ্বোধন করেন বাণিজ্য সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী। এ সময় বাংলাদেশের প্রধান আলোচক ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খাদিজা নাজনীন এবং মালয়েশিয়ার ৩১ সদস্যের প্রতিনিধিদলের প্রধান ড. রশিদি সাইদসহ দুই দেশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনার কার্যপরিধি নির্ধারণে ‘টার্মস অব রেফারেন্স’ (টিওআর) স্বাক্ষরিত হয়।
বাণিজ্য সচিব বলেন, জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরকালে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর আলোচনায় ২০২৭ সালের মধ্যে এফটিএ সম্পন্নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। প্রথম দফার আলোচনা সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করল। এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং রপ্তানির প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে এ চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, হালাল শিল্প, সেমিকন্ডাক্টর খাতে দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজিটাল বাণিজ্য, লজিস্টিকস এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে যৌথ বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোট আরসিইপিতে বাংলাদেশের যোগদানের আকাঙ্ক্ষায় মালয়েশিয়ার সমর্থনের বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন।
মালয়েশিয়ার প্রধান আলোচক ড. রশিদি সাইদ বলেন, এফটিএ শুধু শুল্ক কমানোর চুক্তি নয়, এটি দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদারের উদ্যোগ। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ছিল প্রায় ২৮৪ কোটি ডলার। পারস্পরিক সমঝোতা ও বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে আগামী বছরের মধ্যে আলোচনা শেষ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
বাংলাদেশের প্রধান আলোচক খাদিজা নাজনীন বলেন, চুক্তি কার্যকর হলে বাজারে প্রবেশাধিকার সহজ হবে, বাণিজ্য বাধা কমবে এবং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। আলোচনায় পণ্য ও সেবা বাণিজ্য, পণ্যের উৎপত্তিবিধি এবং শুল্ক প্রক্রিয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বাণিজ্য ঘাটতি বড় চ্যালেঞ্জ : বাংলাদেশের রপ্তানি আয় বাড়ানো এ আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ মালয়েশিয়ায় প্রায় ২৮ কোটি ২৫ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। বিপরীতে আমদানি করেছে প্রায় ২২৯ কোটি ডলারের পণ্য। ফলে দুই দেশের বাণিজ্যে বাংলাদেশের ঘাটতি ছিল প্রায় ২০১ কোটি ডলার।
রপ্তানিকারকরা বলছেন, এফটিএর সুফল পেতে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি চামড়া ও জুতা, কৃষিপণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য এবং ওষুধের রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে বিনিয়োগ, দক্ষতা উন্নয়ন ও সেবা খাতের সহযোগিতা আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। প্রথম দফার আলোচনা চলবে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত।
