‘রাজা’ এলো ক্রিকেটে
Advertisement
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
এজবাস্টন টেস্টে শুক্রবারের শেষ বিকাল হঠাৎ মনোরম হয়ে ওঠে একুশের এক দুরন্ত তরুণের অবিশ্বাস্য ব্যাটিংয়ে। ডেব্যু টেস্টে নয় নম্বরে ব্যাট করতে নেমে নয় ছক্কায় ৬৩ বলে ৮১ রানের অটেস্টসুলভ ইনিংস খেলে ক্রিকেট বুভুক্ষুদের অভিধানে ঢুকে পড়লেন রাজাউল্লাহ। নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম ওভারেই জো রুটের উইকেট নিয়ে যার শুরুয়াত হয় স্বপ্নের মতো, আদতে যিনি পেসার, তার ব্যাট হয়ে ওঠে চাবুক। দ্বিতীয় ইনিংসে ৩১৮ রানে পাকিস্তানের অষ্টম উইকেট পড়ার পর রাজাউল্লাহ আসেন ক্রিজে। এরপর শুরু হয় ‘রাজা শো’। চেহারাটা নায়কসুলভ। ইংল্যান্ডের জন্য তিনি হয়ে ওঠেন ভিলেন। রশিদ খানের পর দ্বিতীয় পাকিস্তানি হিসাবে অভিষেক টেস্টে ফিফটি করলেন নয় নম্বরে ব্যাট করতে নেমে। নয় ছক্কায় সুশোভিত তার উত্তাল ব্যাটিংয়ে অদ্ভুত নির্লিপ্ততার দ্বিধাহীন প্রকাশ দেখে খোদ সাহেবরা বিস্মিত ও বিমুগ্ধ। কোথায় ছিল এতদিন এই বন্য প্রতিভা। জিওফ বয়কট তার ১০৮ টেস্টের ক্যারিয়ারে যত ছক্কা হাঁকিয়েছেন, রাজাউল্লাহ এক ইনিংসেই সেই কাণ্ড ঘটিয়েছেন। আশ্চর্যরকম নিস্পৃহতায় তার খ্যাপাটে, অথচ মগ্নচিত্ত ব্যাটিংয়ে প্রতিভাত হলো প্রবল প্রতিভাধর এক ক্রিকেটারের প্রতিমূর্তি। এজবাস্টনে তখন মুগ্ধতা ও আতঙ্ক পাশাপাশি হাঁটছে। এমন বাউন্ডুলে ব্যাটিংয়ে তাবৎ ক্রিকেটবিশ্বকে বিমোহিত করে, সবুজাভ বাল্লেবাজির সুবাদে টেস্ট-রসিকদের চিত্ত জয় করে রাজাউল্লাহ সংবাদ সম্মেলনে এসে জানালেন, সংক্ষিপ্ত সময়ের নোটিশে ইংল্যান্ডে তিনটি ব্যাট এনে দুটি ভেঙে ফেলেন অমন উত্তাল-উন্মত্ত ব্যাটিং করে।
শৈশবে তার আদর্শ ছিলেন ওয়াকার ইউনুস। আর এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে অভিহিত করা হচ্ছে ‘পরবর্তী ওয়াকার ইউনুস’ নামে। দুরন্ত গতির অস্ত্র দিয়ে ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে চার উইকেট নেওয়া রাজাউল্লাহ বিশ্ব রেকর্ডের গলিতে ঢুকে গেলেন। টেস্টে নয় নম্বরে ব্যাটিং করতে নামা ক্রিকেটারদের মধ্যে এক ইনিংসে সবচেয়ে বেশি ছক্কা হাঁকানোর রেকর্ড এখন তার। ইংল্যান্ডের সাবেক নারী ক্রিকেটার ইশা গুহার কথা দিয়ে উপসংহারে আসা যায়-‘রাজাউল্লাহ ইজ বর্ন’।

