ভালো খেলেও হতাশার হার
০ বাংলাদেশ, সিঙ্গাপুর ১
Advertisement
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মালয়েশিয়া ম্যাচের তুলনায় সপ্রতিভ ও সবুজাভ ফুটবল খেলে বাংলাদেশ হারল সিঙ্গাপুরের কাছেও। ৩৫ মিনিটে হার্হিস স্টুয়ার্ট হেডে যে গোলটি করেন, সেটিই শেষ পর্যন্ত ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেয়। সোমবার জাকার্তায় ফিফা আসিয়ান কাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ অনেক গোছানো ফুটবল খেলেছে। বাংলাদেশ কোচ টমাস ডুলি শুরুর একাদশে চারটি পরিবর্তন আনেন। জামাল ভূঁইয়া ও জিদান ইউসুফকে তিনি প্রথম একাদশে রাখেন যথাক্রমে সোহেল রানা এবং শাকিল আহাদের জায়গায়। এই পরিবর্তনে বাংলাদেশ নিজেদের বেশ গুছিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলে র্যাংকিংয়ে ৩৪ ধাপ উপরে থাকা সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে। আক্রমণেও এদিন যথেষ্ট সক্রিয় ও সপ্রতিভ ছিল বাংলাদেশ। সিঙ্গাপুর যেখানে মাত্র তিনটি কর্নার কিক পেয়েছে, সেখানে বাংলাদেশ ১১টি। কিন্তু ফুটবলে কখনো কখনো ভালো খেলা আড়ালে চলে যায় হার না-মানা হারে। এ নিয়ে দুদলের ছয় ম্যাচের চারটিতে হারল বাংলাদেশ। বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়। প্রথমবারের মতো আয়োজিত ফিফা আসিয়ান কাপে এটি টানা দ্বিতীয় হার বাংলাদেশের।
দিনের পরের ম্যাচে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া গোলশূন্য ড্র করায় এক ম্যাচ বাকি থাকতে বাংলাদেশ ছিটকে পড়ে আসিয়ান কাপ থেকে। বৃহস্পতিবার স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে হামজাদের শেষ ম্যাচটি এখন আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়েছে।
রাকিব হোসেন, শুখি ইতোফুসা বারবার সিঙ্গাপুরের রক্ষণে ঢোকার চেষ্টা করেছেন। ১৫ মিনিটে বক্সে ঢুকে রাকিব বল বাড়িয়েছিলেন; কিন্তু সেই জায়গায় তখন কেউ ছিলেন না।
এর আগে ষষ্ঠ মিনিটে জুলকিফলিকে টেনে ধরায় হলুদ কার্ড দেখেন শমিত সোম। ১৬ মিনিটে পরপর দুটি কর্নার আদায় করে নেয় সিঙ্গাপুর। দ্বিতীয় কর্নার থেকে ইলহান ফান্দির প্রচেষ্টা দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন গোলকিপার মেহেদী হাসান শ্রাবণ। ৩৩ মিনিটে আবারও বিপদ। বক্সের ঠিক বাইরে সিঙ্গাপুরের ফ্রিকিক। শ্রাবণের হাত ফেরাল সেই বল, পরে তারিক রায়হান কাজী বিপদমুক্ত করেন। দুই মিনিট পরই আসল ধাক্কা। ৩৫ মিনিটে আবদুল্লাহ নূরের ক্রস থেকে হেডে বাংলাদেশের জাল কাঁপান স্টেয়ার্ট। শ্রাবণের আর কিছুই করার ছিল না। এগিয়ে গেল সিঙ্গাপুর।
গোলের রেশ কাটার আগেই ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ। ৩৭ মিনিটে সিঙ্গাপুরের একটি আক্রমণ বাংলাদেশের ক্রসবারে প্রতিহত হয়। প্রথমার্ধে বাংলাদেশের পায়ে বলের দখল থাকলেও গোলমুখে সেই দখলের কোনো ছাপ ছিল না। লক্ষ্যে একটি শটও রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। বিপরীতে সিঙ্গাপুর পাঁচটি শট নিয়েছে, চারটিই ছিল লক্ষ্যে।
বিরতির পর বদলে যায় দৃশ্যপট। এবার গতি বাড়িয়ে জামাল-হামজারা মাঝমাঠ থেকে আক্রমণের সুতো টেনে ধরার চেষ্টা করেন। কিন্তু গোলের দরজাটা খোলেনি।
সময় গড়িয়ে যায়। ৬০ মিনিট, ৭০ মিনিট, ৮০ মিনিট। বাংলাদেশের আক্রমণ বাড়ল, সিঙ্গাপুরের রক্ষণ আরও নিচে নামল। শেষ পাসে সেই ধার নেই, শেষ শটে সেই নিশ্চয়তা নেই। জাকার্তার আলো তখন ক্রমেই ফিকে হচ্ছে, সঙ্গে বাংলাদেশের সমতার আশাও। শেষ বাঁশি বাজল ১-০তেই। দুই ম্যাচে বাংলাদেশের ঝুলিতে শূন্য পয়েন্ট। প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০, দ্বিতীয় ম্যাচে সিঙ্গাপুরের কাছে ১-০ গোলের হার।
