আবুধাবি টেস্ট
হাসানের পর নাজমুল-মুশফিক
Advertisement
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
হ্যাটট্রিকসহ পাঁচ উইকেট হাসান মাহমুদের। ইবাদত হোসেনের শিকার চার উইকেট। দুই পেসারের তোপে আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংস থেমেছে ২৪০ রানে। এরপর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিমের ১৫৯ রানের জুটি। আবুধাবি টেস্টের তৃতীয়দিন শেষে চালকের আসনে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে ছয় উইকেটে ২২৩ রান তুলে সফরকারীরা এগিয়ে ৩২৯ রানে। হাতে চার উইকেট।
রোববার চার উইকেটে ২১১ রান নিয়ে দিনের খেলা শুরু করে আফগানিস্তান। দ্বিতীয় ইনিংসে রহমত শাহ ও ইকরাম আলিখিলের পঞ্চম উইকেট জুটি ৮০ রানে ভাঙেন ইবাদত। তার দুর্দান্ত ডেলিভারিতে বোল্ড হন ইকরাম। ১০৩ বলে চারটি চারে ৩২ রান করেন তিনি। এরপরই বল হাতে ঝড় তোলেন হাসান। আফগানিস্তানের ইনিংসের ৮৩তম ওভারে টানা তিন বলে তিন উইকেট নিয়ে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন হাসান। প্রথম বলে নিচু হয়ে ভেতরে ঢোকা ডেলিভারিতে বোল্ড করেন ইসমাত আলমকে। পরের বলে কায়েস আহমাদের ব্যাটের কানায় লেগে আসা ক্যাচ ডান দিকে ঝাঁপিয়ে এক হাতে ধরেন উইকেটকিপার লিটন দাস। হ্যাটট্রিক বলে জিয়া-উর-রেহমানের বিপক্ষে এলবিডব্লুর আবেদনে আম্পায়ার সাড়া না দিলেও শেষ মুহূর্তে রিভিউ নিয়ে সফল হন অধিনায়ক নাজমুল। তাতেই ইতিহাস গড়েন হাসান। বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসাবে টেস্টে হ্যাটট্রিক করার পাশাপাশি পূর্ণ করেন পাঁচ উইকেট। পরে ইয়ামিন আহমাদজাইকে ফিরিয়ে টেস্টে নিজের ৫০তম উইকেটও তুলে নেন তিনি।
৫১ রানে পাঁচ উইকেট নেন হাসান, ৫৬ রানে চারটি ইবাদত। বাংলাদেশের দুই পেসারের অন্তত চারটি করে উইকেট নেওয়ার ঘটনাও টেস্টে প্রথম। আফগানিস্তানের হয়ে অধিনায়ক রহমত শাহ ১০৫ রানে অপরাজিত থাকেন।
প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসের মতো এবারও মোহাম্মদ সালিমের বলে পুল করতে গিয়ে ক্যাচ দেন সাদমান ইসলাম। এরপর ইয়ামিন আহমাদজাইয়ের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মুমিনুল হক ও তানজিদ হাসান। দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় সফরকারীরা। সেই চাপ সামলে দলকে এগিয়ে নেন নাজমুল ও মুশফিক। দুজনের ব্যাটিং ছিল ভিন্ন মেজাজের। মুশফিক শুরু থেকেই বাউন্ডারি মেরে রান তুলেছেন। চা-বিরতির আগে সাতটি বাউন্ডারি হাঁকান তিনি। অন্যদিকে শুরুতে ধীরগতিতে খেললেও বিরতির পর হাত খোলেন নাজমুল। কায়েস আহমাদের বলে কভার ড্রাইভে চার মেরে ইনিংসে প্রথম বাউন্ডারি পান ৭৫তম বলে। পরে তিনিও দ্রুত রান তুলতে থাকেন। দুজন মিলে চতুর্থ উইকেটে যোগ করেন ১৫৯ রান। মুশফিক ১৪৮ বলে ৮১ এবং নাজমুল ১৯১ বলে ৮২ রান করেন। মুশফিকের এটি আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট অর্ধশতক, সব মিলিয়ে ৩০তম। তবে দিনের শেষ দিকে আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে আফগানিস্তান। জিয়া-উর-রেহমানের স্পিনে মুশফিক ফেরেন ৮১ রানে। দিনের খেলা শেষ হওয়ার ছয় মিনিট আগে কায়েস আহমাদের বলে বোল্ড হন নাজমুল। তার ইনিংসে ছিল পাঁচটি বাউন্ডারি। দিনের শেষ ওভারের আগের বলে জিয়ার শিকার হন হাসান মাহমুদও। শেষ সাত ওভারে তিন উইকেট হারালেও ততক্ষণে বড় লিড গড়ে ফেলেছে বাংলাদেশ। তৃতীয়দিন শেষে ৩২৯ রানে এগিয়ে থাকা সফরকারীদের লক্ষ্য আজ ব্যবধান আরও বাড়িয়ে আফগানিস্তানের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস : ৩৪৬। আফগানিস্তান প্রথম ইনিংস : ২৪০ (রহমত শাহ ১০৫*,
আব্দুল মালিক ৬২, ইকরাম আলীখিল ৩২।
হাসান মাহমুদ ৫/৫১, ইবাদত হোসেন ৪/৫৬)।
বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস : ২২৩/৬, ৭২ ওভারে (নাজমুল হোসেন ৮২, মুশফিকুর রহিম ৮১, তানজিদ হাসান ৩১, সাদমান ইসলাম ১৩। ইয়ামিন আহমাদজাই ২/৪২, জিয়া-উর-রেহমান ২/৫৫, মোহাম্মদ সালিম ১/৩৯, কায়েস আহমাদ ১/৩৬)।
