Logo
Logo
×

Advertisement

খেলা

হাডুডুর মাঠে এখন স্মৃতির ধুলো

Advertisement

মোজাম্মেল হক চঞ্চল

মোজাম্মেল হক চঞ্চল

প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

হাডুডুর মাঠে এখন স্মৃতির ধুলো

Advertisement

বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামছে। গ্রামের মাঠের এক পাশে দাঁড়িয়ে কয়েকটি শিশু। মাঠের মাঝখানে শুকনো ঘাস, কোথাও মাটির বুকে ফাটল। অথচ এই মাঠেই একদিন বিকাল হলেই নামত মানুষের ঢল। দুই দলের খেলোয়াড়রা কোমরে গামছা বেঁধে নেমে পড়তেন লড়াইয়ে। চারদিকে চিৎকার, হাততালি, উত্তেজনা। প্রতিপক্ষের সীমানায় ঢুকে একজন খেলোয়াড় নিঃশ্বাস ধরে বলতে থাকতেন, ‘হাডুডু, হাডুডু, হাডুডু।’ তাকে আটকাতে ঝাঁপিয়ে পড়তেন প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়রা। প্রতিটি সফল অভিযানে উল্লাসে ফেটে পড়তেন দর্শক। সেই দিনগুলো এখন কোথায়?

শরীয়তপুরের ডামুড্যার আব্দুল কাইয়ুম রুপন একসময় ছিলেন হাডুডুর মাঠের পরিচিত মুখ। তার খেলার দক্ষতা ছিল অসাধারণ। নিজের এলাকার গণ্ডি পেরিয়ে বিভিন্ন জায়গা থেকে ডাক আসত তার। এক মাঠের লড়াই শেষ হতে না হতেই হয়তো অন্য কোথাও খেলার আমন্ত্রণ। গ্রামের মানুষের কাছে তিনি ছিলেন গর্বের নাম, আয়োজকদের কাছে আকর্ষণীয় খেলোয়াড়। নড়াইলের আমিন উদ্দিনের জীবনেও জড়িয়ে আছে সেই মাঠের স্মৃতি। একসময় শক্তি, সাহস আর ক্ষিপ্রতায় যারা মাতিয়ে রাখতেন দর্শকদের, বয়সের ভারে আজ তাদের অনেকেই নুয়ে পড়েছেন। তখন গ্রামের মানুষের বিনোদনের সুযোগ ছিল সীমিত। অনেক বাড়িতে টেলিভিশন ছিল না, হাতে হাতে মুঠোফোন পৌঁছায়নি, ইন্টারনেটও ছিল না। স্কুল ছুটির পর কিংবা ফসল ঘরে তোলার মৌসুম শেষে মাঠে মাঠে বসত খেলার আসর। হাডুডু ছিল সেই আনন্দের অন্যতম কেন্দ্র। দামি সরঞ্জাম কিংবা ঝলমলে স্টেডিয়ামের প্রয়োজন হতো না। সামান্য সমতল জমি, সীমানার রেখা আর খেলতে চাওয়া কয়েকজন মানুষেই তৈরি হয়ে যেত প্রতিযোগিতার মঞ্চ। হাডুডুতে শুধু শারীরিক শক্তি নয়, প্রয়োজন ক্ষিপ্রতা, কৌশল, সাহস ও দম ধরে রাখার ক্ষমতা। প্রতিপক্ষের এলাকায় ঢুকে স্পর্শ করে ফিরে আসার পাশাপাশি বিপদের মুহূর্তে মাথা ঠান্ডা রাখাও জরুরি। দলগত বোঝাপড়া ও সহখেলোয়াড়ের ওপর আস্থা ছাড়া জয় পাওয়া কঠিন। এ খেলার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা প্রবীণ খেলোয়াড়দের স্মৃতিতে তাই শুধু জয়-পরাজয়ের হিসাব নেই। আছে কাদা-মাটির মাঠে পড়ে গিয়ে উঠে দাঁড়ানো, প্রতিপক্ষের সঙ্গে লড়াই শেষে একসঙ্গে চা খাওয়া এবং গ্রামের মানুষের ভালোবাসা পাওয়ার আনন্দ। বাংলাদেশের জাতীয় খেলা কাবাডির সঙ্গে হাডুডুর ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক যোগ রয়েছে। আধুনিক নিয়মে কাবাডি প্রতিযোগিতামূলক ক্রীড়াঙ্গনেও জায়গা করে নিয়েছে। কিন্তু গ্রামের মানুষের জীবনে হাডুডুর যে স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ছিল, তা ক্রমেই ফিকে হচ্ছে। এই সংকটের পেছনে শুধু ক্রিকেট-ফুটবলের জনপ্রিয়তা কিংবা বিনোদনের পরিবর্তনকে দায়ী করলে পুরো ছবিটি দেখা হবে না। মাঠের অভাব, নিয়মিত প্রতিযোগিতার স্বল্পতা, প্রশিক্ষণ ও সংগঠনের ঘাটতি এবং স্থানীয় পৃষ্ঠপোষকতার অভাবও খতিয়ে দেখা দরকার। নতুন প্রজন্মের কাছে খেলাটিকে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজন নিয়মিত আয়োজন, স্কুলভিত্তিক প্রদর্শনী ম্যাচ, গ্রাম বা ইউনিয়ন পর্যায়ে হাডুডু উৎসব এবং পুরোনো নিয়ম নথিভুক্ত করার উদ্যোগ।

বিভিন্ন গ্রামে ছড়িয়ে আছেন এমন আরও অনেক মানুষ, যাদের নাম আজ নতুন প্রজন্ম জানে না। তাদের খুঁজে বের করে স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা সংরক্ষণ করা জরুরি। কারণ, তাদের জীবনের গল্পের সঙ্গে জড়িয়ে আছে গ্রামীণ ক্রীড়ার ইতিহাস। মাঠের মাটি এখনো আছে, বাতাসও বয়। কিন্তু কোথাও কোথাও কমে গেছে সেই পরিচিত ডাক-‘হাডুডু, হাডুডু।’ সেই ডাক আবার ফিরবে কি না, তার উত্তর লুকিয়ে আছে আমাদের উদ্যোগে। একটি খেলা হারিয়ে যাওয়া মানে হারিয়ে যায় একটি জনপদের স্মৃতি, শৈশব আর নিজস্ব পরিচয়ের এক টুকরো।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

২০ বছরেও যা হয়নি, সে কীর্তি গড়ার খুব কাছে বাংলাদেশ

২০ বছরেও যা হয়নি, সে কীর্তি গড়ার খুব কাছে বাংলাদেশ

কোরিয়াকে হারিয়ে এশিয়ান গেমসে শুভসূচনা বাংলাদেশের

কোরিয়াকে হারিয়ে এশিয়ান গেমসে শুভসূচনা বাংলাদেশের

বাংলাদেশকে হারিয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল নেপাল

বাংলাদেশকে হারিয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল নেপাল

সিরিজে ফিরল নেপাল, বাংলাদেশকে হারিয়ে ১-১ সমতা

সিরিজে ফিরল নেপাল, বাংলাদেশকে হারিয়ে ১-১ সমতা

প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বোনাস থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ ফেডারেশনের বিরুদ্ধে

প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বোনাস থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ ফেডারেশনের বিরুদ্ধে

থাইল্যান্ডকে হারিয়ে শুভ সূচনা বাংলাদেশের মেয়েদের

থাইল্যান্ডকে হারিয়ে শুভ সূচনা বাংলাদেশের মেয়েদের

আরও পড়ুন

আবুধাবি টেস্ট হাসানের পর নাজমুল-মুশফিক

হাসানের পর নাজমুল-মুশফিক

হাডুডুর মাঠে এখন স্মৃতির ধুলো

হাডুডুর মাঠে এখন স্মৃতির ধুলো

বাংলাদেশের হার রেকর্ড সেঞ্চুরি সোবহানার

রেকর্ড সেঞ্চুরি সোবহানার

সব ছাপিয়ে ভিনির লাল কার্ড

সব ছাপিয়ে ভিনির লাল কার্ড

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম