মিরপুরে হার, ফাইনালের পথ এখন অন্ধকার!
বাংলাদেশ ২৭২ ও ১৪২ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২৪৫ ও ১৭০/২
Advertisement
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
প্রথম তিনদিন বৃষ্টির খুনসুটি, আলো-আঁধারির খেলা দুষ্টুমি করেছে। চতুর্থদিনে বজ পাত। ১৭০ তাড়া করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ যখন বিনা উইকেটে ৮৭, ম্যাচটা বেরিয়ে গেছে বাংলাদেশের হাত ফসকে, তখনই আকাশে বিদ্যুৎ চমকাল। খেলা বন্ধ। আর শুরু না হলেই ভালো হতো। কিন্তু চিত্রনাট্যকার যে লিখে রেখেছিলেন ক্যারিবীয়দের জয়। দ্বিতীয় ইনিংসে ছন্নছাড়া ব্যাটিংয়ে নিজেদের দুর্দশা ডেকে আনা বাংলাদেশকে বাঁচাতে পারত বৃষ্টি-বজ বৃষ্টি কিংবা স্পিনারদের অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স। মিরপুরের উইকেটের আচরণও কম রহস্যজনক নয়। অগত্যা প্রথম টেস্টের একদিন বাকি থাকতে আট উইকেটের বড় হার বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে বাংলাদেশের খেলার স্বপ্ন বিবর্ণ করে দিল।
৭৯/৬-এ চতুর্থদিন শুরু করা বাংলাদেশ শেষ চার উইকেটে ৬৩ যোগ করে ১৪২-এ থামে রোস্টন চেজের (৫/৩৬) ফাইফারে। ম্যাচসেরা জোমেল ওয়ারিক্যান নেন চার উইকেট। ম্যাচে তার শিকার নয় উইকেট। এরপর বলপ্রতি রানের হিসাবে ক্যাম্পবেলের সঙ্গে ব্রেন্ডন কিংয়ের ১২১ রানের উদ্বোধনী জুটি উইন্ডিজকে ১৭০ এর সীমানায় নিয়ে যায়। কিং ৮১ ও কাভেম হজ ৩১ রানে অপরাজিত থেকে দিনের তৃতীয় সেশনে সফরকারীদের পৌঁছে দেন ১৭০/২ পর্যন্ত। দুই আউট হওয়া ব্যাটার ক্যাম্পবেল (৪৯) ও তেজনারায়ণ চন্দরপল (১)। সিলেটে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হবে ৫ নভেম্বর।
৭৯/৬ নিয়ে কাল শুরু করা বাংলাদেশকে অল্প পুঁজি এনে দিয়েছিলেন নাঈম হাসান। আট নম্বরে ব্যাট করতে নেমে টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি তুলে নেন তিনি। শেষ পর্যন্ত তার ৫২ রানের ইনিংসে ১৪২ রানে থামে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস। ওয়েস্ট ইন্ডিজের লক্ষ্য ১৭০। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে জয়ের ভিত গড়ে দেন দুই ওপেনার ব্রেন্ডন কিং ও জন ক্যাম্পবেল। প্রথম ওভারে মেহেদী হাসান মিরাজের বলে তিনবার এলবিডব্লুর আবেদন থেকে বেঁচে যান ক্যাম্পবেল। এরপর নাঈম ও শরীফুল ইসলামকে চার মেরে রানের গতি বাড়ান তারা। কিং ছিলেন আরও আগ্রাসী। শরীফুলের বলে টানা তিনটি চার মেরে পূর্ণ করেন পঞ্চম টেস্ট অর্ধশতক। এর মধ্যে দ্বিতীয় স্লিপে তার ক্যাচ ছাড়েন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। আঙুলে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে।
প্রথম উইকেটে ১১২ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন কিং ও ক্যাম্পবেল। ক্যাম্পবেল ৪৯ রানে শরীফুলের বলে বোল্ড হলে ভাঙে সেই জুটি। তেজনারায়ণ চন্দরপলকে এক রানে ফিরিয়ে দেন হাসান মাহমুদ। ততক্ষণে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান ১২০। শেষদিকে কিংয়ের আরেকটি ক্যাচ ছাড়েন ইবাদত হোসেন। তখন ৭১ রানে এই ওপেনার। ১১৫ বলে ১০ চার ও এক ছক্কায় ৮১ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। কাভেম হজ অপরাজিত ৩১ রানে। তৃতীয় উইকেটে তাদের অবিচ্ছিন্ন ৫০ রানের জুটিতে জয় নিশ্চিত হয়। বাংলাদেশের আফসোস, পাঁচটি এলবিডব্ল–র আবেদনে আম্পায়াররা সাড়া দেননি।
এই হারে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পাঁচ নম্বরে নেমে গেছে বাংলাদেশ। রেটিং পয়েন্ট ৪৭.৬২। তবে সিলেটে দ্বিতীয় টেস্টে জিততে পারলে আবারও চতুর্থ স্থানে উঠে যাবে বাংলাদেশ। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের এই চক্রে আরও পাঁচটি টেস্ট বাকি নাজমুলদের। এর মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে দুটি কঠিন ম্যাচ রয়েছে।

