হামজা দর্শক টানবেন, ধরে রাখবেন কে?
Advertisement
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
একসময় ফুটবল দেখতে মানুষ স্টেডিয়ামে যেতেন। আবাহনী-মোহামেডান দ্বৈরথ, পতাকা, সমর্থকদের স্লোগান আর ম্যাচ শেষে পাড়ায় পাড়ায় আলোচনা এখন স্মৃতি। অথচ, ফুটবলের প্রতি মানুষের ভালোবাসা হারায়নি। বিশ্বকাপ এলেই তার প্রমাণ মেলে। প্রশ্ন, সেই ভালোবাসা দেশের মাঠে ফিরবে কীভাবে? সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ সেই প্রশ্ন সামনে এনেছে। হামজা চৌধুরী, শমিত সোমদের ঘিরে জাতীয় দল নিয়ে আগ্রহ বেড়েছে। তবে কয়েকজন তারকার আগমনে গ্যালারি পূর্ণ হবে না। প্রয়োজন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফুটবল, সাধ্যের মধ্যে টিকিট, ক্লাবের সঙ্গে সমর্থকদের সম্পর্ক এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ।
গত বছরের ১০ জুন সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে জাতীয় স্টেডিয়ামের ম্যাচটি ফিরিয়ে দিয়েছিল পুরোনো দিনের ছবি। সাদা জার্সিতে ছেয়ে গিয়েছিল গ্যালারি। সাবেক গোলকিপার বিপ্লব ভট্টাচার্যের মনে হয়েছিল, পরিবেশটা ২০০৩ সালের সাফ ফাইনালের মতো। হামজা, শমিত ও ফাহামিদুল ইসলামের মতো প্রবাসী ফুটবলাররা মানুষের স্বপ্ন জাগিয়েছেন। মুন্সীগঞ্জ, সাতক্ষীরা ও কুমিল্লা থেকেও দর্শক এসেছিলেন। হামজাকে দেখার আকর্ষণ ছিল অনেকের। সাধারণ গ্যালারির ৪০০ টাকার টিকিট দ্রুত বিক্রি হয়ে যায়। চাহিদা এত বেশি ছিল যে কালোবাজারে দাম কয়েকগুণ বেড়েছিল। তবে আগ্রহ ধরে রাখার চ্যালেঞ্জও রয়েছে। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক জাহিদ হাসান এমিলির মতে, ‘সাফে সাধারণ গ্যালারির এক হাজার টাকার টিকিট অনেকের জন্য বেশি। টিকিটের দাম ৫০০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে রাখা উচিত।’
সাফে প্রতিদিন দুটি ম্যাচ দেখতে এক হাজার টাকার ডে-পাস কিনতে হবে। সমর্থকদের আপত্তি, একটি ম্যাচ দেখতে চাইলেও দুটি ম্যাচের টিকিট কিনতে হচ্ছে।’
ইউনিয়ন বেঙ্গলের প্রতিষ্ঠাতা মেহেদী হাসান ওভি এবং ‘রেড অ্যান্ড গ্রিন আর্মি’র প্রতিষ্ঠাতা রাফি ইকবালের মতে, ‘শিক্ষার্থী ও সাধারণ দর্শকের জন্য এই দাম খুবই বেশি।’ টিকিট ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা টিএসএ স্পোর্টস অ্যান্ড এন্টারটেইনমেন্টের প্রধান নির্বাহী সাজিব রশিদ জানিয়েছেন, ‘একই দিনে দুটি ম্যাচ আয়োজনের লজিস্টিক সীমাবদ্ধতায় ডে-পাসের বিকল্প কঠিন।’
সাফ সাধারণ সম্পাদক পুরুষোত্তম কাটেলের যুক্তি, ‘এক হাজার টাকায় দুটি ম্যাচ মানে প্রতিটি ম্যাচের জন্য ৫০০ টাকা। স্পন্সরদেরও দায়িত্ব রয়েছে।’ বহুজাতিক কোম্পানির সিওও আব্দুর রউফ মনে করেন, ‘মাঠে দর্শক না এলে স্পন্সরের ব্র্যান্ড দৃশ্যমানতা ও ফুটবলের বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সিঙ্গাপুর ম্যাচের ফ্যান জোন, সেলফি কর্নার ও বিনোদনমূলক আয়োজন ঘরোয়া ফুটবলেও চালু করা প্রয়োজন।’
সাবেক তারকা ফুটবলার আশরাফ উদ্দিন আহমেদ চুন্নুর মতে, ‘আবাহনী-মোহামেডান দ্বৈরথের জৌলুস কমার পেছনে শুধু দর্শকের অনাগ্রহ নয়, প্রতিদ্বন্দ্বিতার মান, দুর্বল ক্লাব সংস্কৃতি, অনিয়মিত সূচি ও জাতীয় দলের পারফরম্যান্সও দায়ী।’ মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের পরিচালক সৈয়দ রুম্মান বিন ওয়ালি সাব্বির বলেন, ‘ফুটবলারদের ভালো খেলতে হবে, ক্লাবগুলোকে প্রতিযোগিতা আকর্ষণীয় করতে হবে। বাফুফেকে নিশ্চিত করতে হবে নির্ভরযোগ্য সূচি, মানসম্মত মাঠ ও সম্প্রচার। স্পন্সরদের বিনিয়োগ করতে হবে বয়সভিত্তিক ফুটবল ও স্থানীয় লিগে।’
সাব্বিরের মন্তব্য, ‘হামজা দর্শক টানতে পারেন; কিন্তু দর্শক ধরে রাখবে নিয়মিত ভালো ফুটবল। সাফে গ্যালারি ভরলেই সাফল্য নয়, টুর্নামেন্টের পরও দর্শক ঘরোয়া লিগে ফিরছে কি না, সেটিই বড় পরীক্ষা। ফুটবল উন্মাদনা ফেরাতে দর্শককে রাখতে হবে ফুটবলের কেন্দ্রে।’

