শিরোপা স্বপ্ন নিয়ে ঢাকায় ভারত
Advertisement
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বাড়িতে অতিথি এলে গৃহকর্তাকে সমীহ করাই রেওয়াজ। ভারতীয় ফুটবল দলের কোচ নওশাদ মুসা অতিথির সেই শিষ্টাচার পালন করেছেন পুরোদস্তুর। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকায় পৌঁছে দরাজ দিলে তিনি সনদপত্র দিয়ে দিলেন, ‘এবারের সাফে সবচেয়ে শক্তিশালী দল বাংলাদেশ।’
এদিকে এসেছে শ্রীলংকা দলও। রাতে আসার কথা পাকিস্তানের। সোমবার সবার আগে এই শহরের আতিথ্য গ্রহণ করেছে ভুটান। আগামীকাল বৃহস্পতিবার ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে ছয় দলের সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ। উদ্বোধনী দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে স্বাগতিক বাংলাদেশ ও ভুটান। ১৭ নভেম্বর ফাইনাল। সব ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে।
গত বছরের নভেম্বরে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের ম্যাচ খেলতে ঢাকায় এসেছিল ভারতীয় ফুটবল দল। এবার এলো সাফে সর্বোচ্চ নয়বারের চ্যাম্পিয়নরা।
নভেম্বরে ফিফা উইন্ডোতে নিউজিল্যান্ডে ম্যাচ রয়েছে ভারতের। সেজন্য সাফে মূল জাতীয় দলের পরিবর্তে দ্বিতীয় সারির দল নিয়ে এলেন কোচ নওশাদ মুসা। ঢাকায় পৌঁছে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘এই দল নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ব্যাপারে আমি আশাবাদী।’
ভারত ২০০৯ ও ২০১৮ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সাফে দ্বিতীয় সারির দল পাঠিয়েও চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। এবারও সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করতে চান নওশাদ। যদিও প্রতিপক্ষ হিসাবে বাংলাদেশকে আগের চেয়ে অনেক শক্তিশালী মনে হচ্ছে তার। হামজা চৌধুরী ও শমিত সোমের মতো ফুটবলার দলে যুক্ত হওয়ায় লাল-সবুজের শক্তি বেড়েছে। গত বছর এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে ভারতকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়েছে বাংলাদেশ।
এদিকে মাঠের লড়াই শুরুর আগে আয়োজনে ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিযোগিতা শুরুর মাত্র দুদিন বাকি। অথচ রাজধানীতে নেই তেমন প্রচার-প্রচারণা। আয়োজনের দায়িত্ব ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে সাফ এবং বাফুফের অবস্থানও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। দুই সংস্থার মধ্যে যেন চলছে ইঁদুর-বিড়াল খেলা। বাফুফে বলছে, তারা আয়োজক নয়। অন্যদিকে স্বাগতিক দেশের ফুটবল ফেডারেশন হিসাবে নানা বিষয়ে তাদের সম্পৃক্ততাও চোখে পড়ছে না। এ প্রসঙ্গে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল বলেন, ‘সব কিছু সাফ করছে। স্বাগতিক দেশ হিসাবে বাফুফে তাদের সহায়তা করছে। এখানে কোনো বিরোধ বা দূরত্ব নেই।’
২০০৩ সালে ঢাকায় প্রথম ও একমাত্র সাফ শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। এরপর দীর্ঘ ২৩ বছর কেটে গেলেও দ্বিতীয় শিরোপার দেখা মেলেনি। সাফ শুরুর আগে কোনো উল্লেখযোগ্য প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ হয়নি বাংলাদেশ দলের। বিষয়টি স্বীকার করে বাফুফে সভাপতি বলেন, ‘এশিয়ান কাপের আগেই আমাদের ম্যাচ খেলা দরকার ছিল। সেটা হয়নি। এই উইন্ডোর আগেই টুর্নামেন্ট শুরু হচ্ছে। তবে আমাদের প্রস্তুতি হয়েছে।’
