হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি ও করণীয়
Advertisement
ডা. মারুফ রায়হান খান
প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বাংলাদেশসহ এ উপমহাদেশীয় অঞ্চলের মানুষের প্রথম হার্ট অ্যাটাক হওয়ার বয়স সাধারণত ৫১/৫২ বছর। যদিও বাংলাদেশে চল্লিশের আগেও এখন হৃদরোগ অনেক কমন। দেশে এখন ২৫ কিংবা তারও কম বয়সি অনেকেই গুরুতর হার্ট অ্যাটাক নিয়ে ভুগছেন। এদের না আছে ডায়াবেটিস, না আছে হাই ব্লাড প্রেশার, না আছে রক্তে অত্যধিক কোলেস্টেরল। তাহলে কেন এমন বড় হার্ট অ্যাটাক? এর মূল কারণ ধূমপান। তাই ধূমপান ছাড়ার কোনো বিকল্প নেই। ধূমপান ছাড়ার দুই বছরের মধ্যে হৃদরোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসে। কায়িক পরিশ্রম, ব্যায়াম হৃদরোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এছাড়া এক সপ্তাহে কমপক্ষে ১৫০ মিনিট হাঁটতে হবে। অর্থাৎ, কেউ যদি ৩০ মিনিট করে হাঁটে, তবে সপ্তাহে ৫ দিন হাঁটতে হবে। ১ দিন পরপর হাঁটলে ৫০ মিনিট করে হাঁটতে হবে। একনাগাড়ে কমপক্ষে ১০ মিনিট না হাঁটলে সাধারণত সেটাতে কোনো উপকার হয় না। একটা বিষয় খেয়াল রাখতে হবে, হাঁটা শুরু করার সঙ্গে সঙ্গেই খুব জোরে হাঁটা শুরু না করতে বলা হয়ে থাকে। কেউ যদি ৩০ মিনিট হাঁটে, তাহলে প্রথম ৫-৭ মিনিট ওয়ার্ম আপ করে নেবে, তারপরের ১৫-২০ মিনিট জোরে জোরে হাঁটবে, আবার তারপরের ৫-৭ মিনিট ধীরে ধীরে গতি কমিয়ে নিয়ে আসবে। সকালে ঘুম থেকে উঠে শরীরকে অ্যাডজাস্ট হওয়ার সময় না দিয়ে সঙ্গে সঙ্গেই হাঁটা শুরু করা যাবে না। এতে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে। সকালের চেয়ে বিকাল/সন্ধ্যায় হাঁটাকে অনেক গবেষণা বেশি উপকারী হিসাবে বিবেচনা করে।
* কখন ঝুঁকি বেশি থাকে
রাত তিনটা থেকে সকাল নয়টা-এই সময়টুকুতে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে।
* হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ কী
বুকে তীব্র ব্যথা, কিংবা এমন বুকে চাপ যেন বুকের ওপর একটা পাথর বসে আছে, ব্যথা/চাপ কিছুতেই কমে না, ব্যথা ছড়িয়ে যাচ্ছে চোয়ালে, গলায়, বাহুতে, পিঠে, পেটের উপরিভাগে। প্রচণ্ড ঘাম দিচ্ছে শরীর। খুব বমি বমি ভাব। শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। আগে বুকে ব্যথা উঠলে বিশ্রাম নিলে বা জিহ্বার নিচে স্প্রে দিলে কমে যেত আজ কিছুতেই কমছে না। মনে হচ্ছে মারাই যাবে। এগুলো সবই হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ। এমন লক্ষণ দেখা দিলে প্রথম কাজটিই হবে, যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে গিয়ে একটি ইসিজি করা।
* চিকিৎসা
হার্ট অ্যাটাক হওয়ার পর যত সময় যায়, তত হার্টের মাংসপেশি নষ্ট হয়ে যেতে থাকে। যত তাড়াতাড়ি চিকিৎসা শুরু করা যায়, ততই সফলতার সম্ভাবনা বাড়ে এবং কম্পিকেশান্সের আশঙ্কা কমে। সর্বাধুনিক চিকিৎসা হচ্ছে সঙ্গে সঙ্গে ক্যাথ ল্যাবে রোগীকে নিয়ে ব্লক থাকলে রিং স্থাপন করে ফেলা। হার্টের রোগ থেকে বাঁচতে ডায়াবেটিস, হাই প্রেশার, ডিজলিপিডেমিয়া (অতিরিক্ত কোলেস্টেরল) ও ওবেসিটির যথাযথ চিকিৎসা করতে হবে।
লেখক : হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল।
