অপারেশন নিয়ে ৩টি প্রচলিত ভুল ধারণা : বাস্তবতা কী জানুন
Advertisement
ডা. মো. আব্দুল হাফিজ শাফী
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
অস্ত্রোপচার বা অপারেশন নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা ধরনের ভয় ও ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে। এসব ধারণার কারণে কেউ প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার করাতে দেরি করেন, কেউ অপারেশনের পর পুষ্টিকর খাবার এড়িয়ে চলেন, আবার কেউ ক্ষত পরিচর্যা নিয়ে অযথা দুশ্চিন্তায় ভোগেন। অথচ অস্ত্রোপচারের আগে ও পরে সঠিক তথ্য জানা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা নিরাপদে সুস্থ হয়ে ওঠার অন্যতম শর্ত। অপারেশন নিয়ে প্রচলিত এমন তিনটি ধারণা এবং সেগুলোর বাস্তব সম্পর্কে জানুন।
* শীতকালে অপারেশন করলে কি ক্ষত শুকাতে দেরি হয়
শীতকালে অস্ত্রোপচারের ক্ষত সারতে দেরি হয়, এমন কোনো সাধারণ বৈজ্ঞানিক নিয়ম নেই। ক্ষত নিরাময়ের গতি নির্ভর করে রোগীর শারীরিক অবস্থা, ক্ষতস্থানে রক্ত চলাচল, পুষ্টি, সংক্রমণ এবং অস্ত্রোপচারের ধরনসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর। অবশ্য অস্ত্রোপচারের সময় শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। শরীরের তাপমাত্রা অতিরিক্ত কমে গেলে ক্ষতস্থানে রক্ত সরবরাহ ও ক্ষত নিরাময়ের প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। তাই শুধু শীতের কারণে প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার পিছিয়ে দেওয়া উচিত নয়।
* অপারেশনের পর ডিম, মাছ কিংবা মাংস খেলে কি ঘা শুকাতে চায় না
এর পক্ষে সাধারণভাবে গ্রহণযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বরং ক্ষত নিরাময়ের জন্য শরীরের পর্যাপ্ত প্রোটিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান প্রয়োজন। প্রোটিন নতুন কোষ ও টিস্যু গঠন, ক্ষতস্থানের মেরামত এবং রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ডিম প্রোটিনের একটি সহজলভ্য উৎস। তাই ডিমে অ্যালার্জি বা অন্য কোনো চিকিৎসাগত নিষেধাজ্ঞা না থাকলে অস্ত্রোপচারের পর ডিম খাওয়ায় সাধারণত বাধা নেই। পাশাপাশি মাছ, মাংস, দুধ, ডাল, শাকসবজি ও ফলমূলসহ সুষম খাবার গ্রহণও সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য সহায়ক। অন্যদিকে, প্রয়োজনের তুলনায় কম খাবার গ্রহণ কিংবা প্রোটিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি থাকলে ক্ষত সারতে দেরি হতে পারে। বিশেষ কিছু রোগ, অস্ত্রোপচারের ধরন কিংবা চিকিৎসাগত অবস্থার কারণে খাদ্যতালিকায় পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে।
* অপারেশনের পর গোসল করলে কি সেলাইয়ের ক্ষতি হয়
অস্ত্রোপচারের পর গোসল করলে সেলাই নষ্ট হয়ে যায় কিংবা ক্ষতস্থানে সংক্রমণ হয়-এমন আশঙ্কা অনেকের মধ্যে রয়েছে। কিন্তু সব ধরনের অস্ত্রোপচারের পর একই সময় পর্যন্ত গোসল বন্ধ রাখতে হবে, এমন কোনো সর্বজনীন নিয়ম নেই। কখন গোসল করা যাবে, তা নির্ভর করে অস্ত্রোপচারের ধরন, ক্ষতের অবস্থান, ব্যবহৃত ড্রেসিং এবং রোগীর চিকিৎসাগত অবস্থার ওপর। কিছু অস্ত্রোপচারের পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গোসল করা যায়। আবার কিছু ক্ষেত্রে ক্ষত বা বিশেষ ড্রেসিং শুকনো রাখা জরুরি হতে পারে। তাই কখন গোসল করা যাবে এবং ক্ষতস্থানে পানি লাগানো যাবে, সে বিষয়ে চিকিৎসক নির্দেশনা দিয়ে থাকেন। গোসলের সময় ক্ষতস্থানে জোরে ঘষাঘষি করা, নির্দেশনা ছাড়া ড্রেসিং খুলে ফেলা কিংবা ভিজে যাওয়া ড্রেসিং দীর্ঘক্ষণ রেখে দেওয়া উচিত নয়। ক্ষত পরিষ্কার রাখা এবং সংক্রমণ প্রতিরোধে সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করা জরুরি।
লেখক : সহকারী অধ্যাপক, নাক-কান-গলা বিভাগ, সিলেট এম.এ.জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।
