Logo
Logo
×

Advertisement

সুস্থ থাকুন

বিভিন্ন ধরনের পানীয়

Advertisement

Icon

আখতারুন নাহার আলো

প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

বিভিন্ন ধরনের পানীয়

Advertisement

দৈনন্দিন জীবনে আমরা অনেক রকম পানি পান করে থাকি। এ পানীয় বেশ কয়েক রকম হয়। যেমন-সতেজ ও শীতলীকরণ পানীয়, পুষ্টিকর পানীয়, উত্তেজক পানীয়, প্রশান্তিদায়ক পানীয়, ক্ষুধাবর্ধক পানীয়। সতেজ ও শীতলীকরণ পানীয়ের মধ্যে রয়েছে সাদা পানি, ফলের রস, আইস টি বা কফি, ঘোল, লেবুর শরবত। এগুলো শরীরে একটা শীতল ভাব আনে। দুধ ও স্যুপ পুষ্টিকর পানীয়র মধ্যে পড়ে। ক্ষুধাবর্ধক পানীয় হলো স্যুপ ও ফলের রস। উত্তেজক পানীয়ের মধ্যে রয়েছে চা, কফি, কোক মিশ্রিত পানীয় এবং অ্যালকোহল। আর প্রশান্তিদায়ক পানীয় হচ্ছে গরম দুধ, গরম চা, গরম স্যুপ ইত্যাদি। পানীয় তৈরি করতে যেসব উপাদান দরকার হয়, সেগুলো হলো-দুধ, ডিম, ফল ও সবজির রস, চকলেট, পানি, বরফ, চিনি, গ্লুকোজ ইত্যাদি।

▶ দুধ : অন্য সব উপকরণের চেয়ে দুধ বেশ পুষ্টিকর। বিভিন্নভাবে দুধ পান করা হয়। যেমন এককভাবে বা সুঘ্রাণ মিশিয়ে অথবা মল্টযুক্ত করে বা ফলের রস মিশিয়ে। আবার ঘোল, মাঠা, বোরহানি অথবা মিল্ক শেক করেও পানীয় তৈরি করা হয়।

▶ ডিম : আমাদের দেশে পানীয়তে ডিমের ব্যবহার খুব কম হয়। ডিম স্যুপ ও এগলগ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এগলগ তৈরি হয় কফি অথবা ফলের রস দিয়ে। ডিমের সাদা অংশ ফলের রসের সঙ্গে খুব ভালোভাবে মেশানো হয়।

▶ ফল ও সবজি : ফল ও সবজি দিয়ে বিভিন্ন ধরনের পানীয় তৈরি হয়। এ পানীয় স্বাস্থ্যকর ও সহজে হজম হয়। ফলের রসের পানীয় দেহে শীতল ভাব আনে। এটি দেহে তরলের ঘাটতি দূর করে। সাধারণভাবে যেসব ফল দিয়ে জুস তৈরি হয়, সেগুলো হলো-কমলা, মালটা, আম, লেবু, বেল, আপেল, আনারস, তরমুজ, পাকা পেঁপে, ড্রাগন ইত্যাদি। আঙুর, আপেল ও আমের জুস দিয়ে পানীয় তৈরি করা হয়। কাঁচা আম সিদ্ধ করে খোসা ও আঁটি ফেলে চিনি বা গুড় এবং পানি দিয়ে শরবত করা হয়। আঁখের টাটকা রসের সঙ্গে লেবু ও আদা দিয়ে পানীয় তৈরি করা হয়। সবজির মধ্যে বেশির ভাগ টমেটোকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। সবজির জুস বানাতে গেলে গাজর, বিট, কমলার রস একত্রে ব্লেন্ড করে, এতে এক চিমটি লবণ দিলে ঘ্রাণ বাড়বে। টমেটোর জুস বানাতে গেলে টমেটো সিদ্ধ করে খোসা ও বীজ ফেলে অল্প লবণ ও চিনি মেশাতে হবে। আবার শরবত বানাতে হলে টমেটো পিউরির সঙ্গে পানি, লবণ, গোলমরিচ ও লেবুর রস দিয়ে বানাতে হবে।

▶ ডাবের পানি : ডাবের পানি শরীরকে ঠান্ডা রাখে। এটি পানিস্বল্পতা দূর করে প্রস্রাবের সংক্রমণ রোধ করে। জন্ডিস, ডায়রিয়া, হৃদরোগ ও পোস্ট অপারেটিভ রোগীর জন্য ডাব ভালো।

▶ চা ও কফি : উত্তেজক পানীয়র মধ্যে এগুলো বেশ জনপ্রিয়। এর ক্যাফেইন মনোউদ্দীপক হিসাবে কাজ করে। এর বেশ কিছু গুণাগুণ আছে। যেমন-এটি স্নায়ুতন্ত্রকে উত্তেজিত করে। গ্যাসট্রিক অ্যাসিড ও পেপসিন নিঃসরণ করে। টাইপ টু ডায়াবেটিস কমায়, ডিমেনশিয়া রোধ করে। ব্রেস্ট ও প্রোস্টেট ক্যানসার প্রতিরোধক হিসাবে কাজ করে। উচ্চতাপে পানি বেশিক্ষণ গরম করে সেটাতে কফি দিলে তিতা ভাব বেড়ে যায় ও সুঘ্রাণ কমে যায়। যদি বরফযুক্ত কফি খাওয়া হয়, সেটাতে সুঘ্রাণ বজায় থাকে। এছাড়া ব্ল্যাককফি ফ্যাটি লিভারের জন্য উপকারী। অপর পানীয় চা শরীরকে সতেজ রাখার জন্য অব্যর্থ। এ কারণে সব দেশেই চা বেশ জনপ্রিয়। চা বিভিন্নভাবে তৈরি করা হয়। আদা-দারুচিনি-লবঙ্গ-এলাচ গোলমরিচ, তেজপাতা, কালোজিরা দিয়ে মসলা চা তৈরি হয়। আবার আদা-লেবু দিয়েও চা বেশ উপাদেয়। পুদিনা পাতা ও তুলসী পাতা দিয়েও চা করা হয়। গ্রিন টি শুধু গরম পানিতে চা-পাতা দিয়ে তৈরি করা হয়। কেউ কেউ আইসটি খেতে পছন্দ করেন। এতে দেহে একটা শীতলভাব আসে। শুকনা চা-পাতা, লেবুর ফুল, চা-পাতার ফুল ও গোলাপের পাপড়ি দিয়ে বিশেষ এক ধরনের ভেষজ চা তৈরি করা হয়। এটা বেশ সুস্বাদু ও উপকারী।

▶ কোকো ও চকলেট : দুধের সঙ্গে কোনো পাউডার মিশিয়ে পানীয় তৈরি করা হয়। সুঘ্রাণের জন্য এতে দেওয়া হয় দারুচিনির গুঁড়া। যাতে কোকোর তিতা ভাব কমে যায়। এদিকে কোকোর চেয়ে চকলেট যুক্ত পানীয়তে চর্বি বেশি থাকে। কারণ চকলেট তৈরি করতে কোকো, চিনি, দুধ ছাড়াও অন্য উপকরণ মেশানো হয়। কোনো কোনো চকলেট যুক্ত পানীয়তে বাদামের গুঁড়া ও মাখন মেশানো হয়। তখন তাকে নাট চকলেট ড্রিঙ্কস বলা হয়। অনেক সময় ভেজালকারীরা কোকো ও চকলেটে আটা, আলুর গুঁড়া, ভাত ও ডেক্সট্রিন মিশিয়ে থাকে। চকলেট ও কোকো দিয়ে পানীয় তৈরি করতে প্রথমে ঠান্ডা পানিতে এগুলো গুলে নিতে হবে। এরপর পানি সিদ্ধ করে এতে জিলাটিন ও স্টার্চ মেশাতে হবে।

স্যুপ : এটা স্বাস্থ্যকর ও ক্ষুধাবর্ধক হিসাবে কাজ করে। যখন রোগীকে তরল খাবার দিতে বলা হয় তখন ক্লিয়ার স্যুপ দেওয়া হয়। এতে খুব সামান্য পরিমাণে প্রোটিন ও ক্যালরি থাকে। তবে সোডিয়াম ক্লোরাইড, পটাশিয়াম ও অন্যান্য খনিজ পদার্থ ঠিকই থাকে। এটা তৈরি হয় মাংসের নির্যাস দিয়ে। এজন্য এতে পুরো ঘ্রাণ থাকে। কোনো কোনো স্যুপ বেশ পুষ্টিকর। এতে থাকে মাংসের টুকরা, ডিম, সবজি, নডুলস, ম্যাকারনি, ভাতের মণ্ড, বার্লি ইত্যাদি। আবার থাকতে পারে হোয়াইট সস এবং পনিরের কুচি। বার্লির পানি-অল্প আঁচে ২০ মিনিট বার্লির গুঁড়া সিদ্ধ করতে হবে। তারপর ছেঁকে ঠান্ডা করে লেবুর রস মিশাতে হবে। সাধারণত রোগীর জন্য এ পথ্য ব্যবহৃত হয়।

▶ জিরা পানি : চিকন জিরা, তেতুলের ক্বাথ, চিনি, পানি, বিট লবণ, কাঁচামরিচ সব একসঙ্গে ব্লেন্ড করে এ পানি তৈরি হয়। এটি হজমের সহায়ক।

▶ মিষ্টি পানীয় : মিষ্টি পানীয় তৈরির ক্ষেত্রে চিনি, ঝোলা গুড়, মধু, গ্লুকোজ, ল্যাক্টোজ ব্যবহার করা হয়। এতে অতিরিক্ত ক্যালরিযুক্ত হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এ ধরনের পানীয় তৈরিতে কৃত্রিম চিনি ব্যবহার করা হয়। সুঘ্রাণযুক্ত করা হয়।

▶ সুঘ্রাণযুক্ত উপাদান : পানীয় তৈরি করতে বিভিন্ন ধরনের সুঘ্রাণ যুক্ত করা হয়। যেমন-ভ্যানিলা, ফলের সুঘ্রাণ, গোলাপ জল, এসেন্স, আদা, জায়ফল, দারুচিনি, এলাচ, পুদিনাপাতা ইত্যাদি।

লেখক : চিফ নিউট্রিশন অফিসার, পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, শ্যামলী ও অ্যাডভান্স হাসপাতাল, ঢাকা।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

শিশুর মস্তিষ্ক বিকাশে যে ভুল বাধা সৃষ্টি করে

শিশুর মস্তিষ্ক বিকাশে যে ভুল বাধা সৃষ্টি করে

অস্টিওপোরোসিস হাড়ের নীরব ক্ষয়

হাড়ের নীরব ক্ষয়

বিভিন্ন ধরনের পানীয়

বিভিন্ন ধরনের পানীয়

অপারেশন নিয়ে ৩টি প্রচলিত ভুল ধারণা : বাস্তবতা কী জানুন

অপারেশন নিয়ে ৩টি প্রচলিত ভুল ধারণা : বাস্তবতা কী জানুন

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম