Logo
Logo
×

Advertisement

সুস্থ থাকুন

ডেঙ্গু টেস্ট নেগেটিভ আসার পরও কি ডেঙ্গু হতে পারে

Icon

অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আজিজুর রহমান

প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

এনএস১ অ্যান্টিজেন (NS1 Antigen) টেস্টটি অবশ্যই জ্বর শুরুর প্রথম ১ থেকে ৫ দিনের মধ্যে করতে হবে। যদি এ টেস্টটি জ্বর শুরু হওয়ার ৫-৬ দিন পর করা হয়, তবে রক্তে অ্যান্টিজেনের পরিমাণ কমে যায়, যার ফলে ডেঙ্গু থাকা সত্ত্বেও রিপোর্ট নেগেটিভ আসতে পারে। অন্যদিকে, আইজিএম অ্যান্টিবডি (IgM Antibody) টেস্টটি ৫ দিন পার হওয়ার পর করা উচিত; যদি জ্বরের প্রথম ১ থেকে ৫ দিনের মধ্যে এটি করা হয়, তবে শরীরে এখনো অ্যান্টিবডি তৈরি না হওয়ার কারণে রিপোর্ট নেগেটিভ আসতে পারে।

এ ছাড়াও ডেঙ্গু ভাইরাসের কিছু নির্দিষ্ট ভ্যারিয়েন্ট বা সেরোটাইপের কারণে (যেমন Den-2 ইনফেকশন), এনএস১ অ্যান্টিজেন টেস্টের রিপোর্ট প্রায়ই নেগেটিভ আসতে পারে। যদিও রক্তে ভাইরাস উপস্থিত থাকে, এনএস১ টেস্ট নেগেটিভ ফল দেখাতে পারে, যা একটি ফলস নেগেটিভ। সেই ক্ষেত্রে ডেঙ্গু জ্বর নির্ণয়ে রিভার্স ট্রান্সক্রিপশন-পলিমারেজ চেইন রিঅ্যাকশন (RT-PCR) হলো তীব্র পর্যায়ে ডেঙ্গু ভাইরাস (DENV) শনাক্তকরণের জন্য একটি দ্রুত, অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং নির্দিষ্ট পরীক্ষা। এটি গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড আণবিক কৌশল, সাধারণত লক্ষণ শুরু হওয়ার প্রথম ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে, যখন ভাইরাল লোড সর্বোচ্চ থাকে। ৫ থেকে ৭ দিন পরে RT-PCR নেগেটিভ এলেও ডেঙ্গু পুরোপুরি বাতিল করা যায় না। তাই IgM ELISA-এর মতো সেরোলজিক্যাল টেস্টে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

* ডেঙ্গু টেস্ট নেগেটিভ হলে করণীয়

▶ লক্ষণ পর্যবেক্ষণ করুন : রিপোর্ট নেগেটিভ হলেও, যদি উচ্চ/মৃদু জ্বর, চোখের পেছনে ব্যথা, তীব্র শরীর ব্যথা বা বমি বমি ভাব থাকে, তবে ডেঙ্গুর আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

▶ সিবিসি (CBC) টেস্ট : চিকিৎসকরা সাধারণত ডেঙ্গু টেস্টের রিপোর্টের চেয়ে রক্তের প্লেটলেট এবং WBC কাউন্টকে বেশি গুরুত্ব দেন। যদি প্লেটলেট দ্রুত কমতে থাকে, তবে ডেঙ্গু ধরে নিয়েই চিকিৎসা করা হয়।

▶ ওষুধের সতর্কতা : রিপোর্ট নেগেটিভ হোক বা পজিটিভ, জ্বর এবং ব্যথার জন্য শুধু প্যারাসিটামল খাবেন। কোনো অবস্থাতেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া আইবুপ্রোফেন, অ্যাসপিরিন বা ডাইক্লোফেনাকের মতো NSAIDs খাবেন না, কারণ এগুলো রক্তপাতের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বাড়িয়ে দেয়। মনে রাখবেন, প্রথমবার ডেঙ্গু হলে সাধারণত লক্ষণগুলো মৃদু থাকে এবং সঠিক বিশ্রামে রোগী সুস্থ হয়ে যায়। তবে, দ্বিতীয়বার ভিন্ন সেরোটাইপ দ্বারা আক্রান্ত হলে অ্যান্টিবডি-ডিপেনডেন্ট এনহ্যান্সমেন্ট (ADE)-এর কারণে ভাইরাসটি অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে ওঠে।

* জ্বরের ৩ থেকে ৭ দিন পর সবচেয়ে বিপজ্জনক সময় (Critical Phase)

জ্বর কমে যাওয়ার পর ৩ থেকে ৭ দিন সবচেয়ে বিপজ্জনক। এ সময়ে নিচের যে কোনো লক্ষণ দেখা দিলে টেস্ট রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা না করে অবিলম্বে হাসপাতালে ভর্তি করুন-

▶ মাড়ি বা নাক থেকে রক্তপাত

▶ অবিরাম বমি বা রক্তবমি

▶ কালো রঙের পায়খানা

▶ তীব্র পেট ব্যথা

▶ তীব্র ত্বকের ফুসকুড়ি বা দাগ

▶ রক্তচাপ কমে মাথা ঘোরা

▶ শরীর, হাত বা পা হঠাৎ অতিরিক্ত ঠান্ডা ও ভেজা হয়ে যাওয়া

▶ দীর্ঘ সময় প্রস্রাব না হওয়া বা প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া

লেখক : অতিথি অধ্যাপক, শ্রী বালাজি মেডিকেল কলেজ, চেন্নাই, তামিলনাড়ু, ভারত।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

ফ্যাটি লিভার : নীরব রোগ অবহেলায় বাড়ে বিপদ

ফ্যাটি লিভার : নীরব রোগ অবহেলায় বাড়ে বিপদ

ডেঙ্গু টেস্ট নেগেটিভ আসার পরও কি ডেঙ্গু হতে পারে

ডেঙ্গু টেস্ট নেগেটিভ আসার পরও কি ডেঙ্গু হতে পারে

যোনিপথের শিথিলতা ও টানটান ভাব : মিথ ও বাস্তবতা

যোনিপথের শিথিলতা ও টানটান ভাব : মিথ ও বাস্তবতা

ডায়াবেটিস রোগীর যৌন দুর্বলতা

ডায়াবেটিস রোগীর যৌন দুর্বলতা

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম