Logo
Logo
×
   

সুস্থ থাকুন

পরীক্ষা চলাকালীন কী খাবেন

Icon

আখতারুন নাহার আলো

প্রকাশ: ২৭ মে ২০২২, ০৬:০০ পিএম

প্রিন্ট সংস্করণ

স্কুল-কলেজে পরীক্ষার সম্মুখীন হয়নি এমন শিক্ষিত মানুষ নেই বললেই চলে। আর এ পরীক্ষার সময় সবার মধ্যে একটা ভীতি ও নার্ভাসনেস কাজ করে। এ কারণে এ সময় এমন কোনো খাবার খাওয়া উচিত নয় যাতে দুশ্চিন্তা বেড়ে যায়, মেজাজ খারাপ হয় এবং নার্ভাস হয়ে পড়ে। দেখ যায় বেশকিছু খাবার আমাদের শরীরের ওপর এ ধরনের প্রভাব ফেলে। যেমন অত্যধিক চা-কফি পান, কোলাজাতীয় পানীয়। লবণ, চিনি, গুরুপাক খাবার এবং অধিক চর্বিজাতীয় খাবার। চা-কফিতে যে ক্যাফিন আছে, তা আমাদের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়িয়ে দেয়। এগুলো স্নায়ুতন্তুকে এমন উত্তেজিত করে যে, এর ফলে দুশ্চিন্তা বেড়ে যায়। কারণ অত্যধিক চা-কফি অনিদ্রা বাড়িয়ে দেয়। কার্যত দেখা যায়, পরীক্ষার সময় রাত জাগতে হবে বলে অনেকেই বেশি বেশি চা পান করে থাকে। এতে রাত জাগা হয় ঠিকই কিন্তু এতে গ্যাসট্রাইটিসের আশংকা যেমন বাড়ে, তেমনি ক্ষুধামন্দা ও দুর্বলতা দেখা দেয়। পরীক্ষার চাপে অনেক সময় মাথার যন্ত্রণা, পেশিতে ব্যথা হতে দেখা যায়। অনেকের মধ্যে পেটব্যথা এমনকি ডায়রিয়া হতেও দেখা যায়। যদিও এ সমস্যাগুলো সাময়িক। তারপরও এ ধরনের সমস্যা নিয়ে পরীক্ষা দিতে যাওয়া কষ্টকর হয়ে পড়ে। মাথাব্যথা উপশমের জন্য চা-কফি-চকলেট, পাস্তা, টেস্টিং সল্ট, সয়াসস, সোডাজাতীয় পানীয়, ডুবো তেলে ভাজা খাবার বাদ দিতে হবে। খেতে হবে লেবুর শরবত, কমলা-মাল্টার রস, তরমুজ, আম, ডাবের পানি ইত্যাদি।

পেশি শক্তি বাড়ানোর জন্য খেতে হবে খাদ্য, মাংস, ডিম, বাদাম, দুধ ও শাকসবজি। ডায়রিয়া প্রতিরোধের জন্য চিড়ার পানি, পাকাকলা, সাগু খাওয়া যেতে পারে। খাবারের ব্যাপারে দুই ধরনের পরীক্ষার্থী দেখা যায়। একদল আছে যারা নার্ভাসনেসের জন্য খুব কম খেয়ে থাকে। অন্যদল এ সময় খুব বেশি খায় যাতে পরীক্ষার মতো কর্মযজ্ঞকে শারীরিক কাজ মনে করে শক্তি লাভের উপায় মনে করে। দুটিই খারাপ। যা-ই খাওয়া হোক না কেন চাহিদা-রুচি অনুযায়ী সীমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত।

খাবারের চিনির মাত্রা বেশি হলে শরীরে ক্লান্তির ঢল নামে। চিনি ক্ষণিকের জন্য শক্তি জোগালেও পর মুহূর্তে তা শেষ হয়ে যায়। তারপরই ক্লান্তি বোধ হয়। এদিকে খুব বেশি লবণাক্ত খাবার খেলে সব সময় মেজাজ খারাপ থাকে। অল্পতেই মানুষ অসহিষ্ণু হয়ে ওঠে, মাথা গরম হয়ে যায়, রক্তচাপের মাত্রা তো বাড়েই।

আবার বেশি দুধ, কলা, মুরগির মাংস, দই খেলে ট্রিপটোফচান নামক অ্যামাইনো অ্যাসিডের জন্য ঘুম ঘুম ভাব হয়। তখন পরীক্ষার সময় সমস্যা হতে পারে।

পরীক্ষার সময় ডাবের পানি উত্তম পানীয়। পটাশিয়ামের জন্য এতে শরীর ঠান্ডা ও সতেজ থাকে। পানিস্বল্পতাও দূর হয়। পেটও ভালো থাকে। এ সময় চা-কফি না খেয়ে ডাবের পানি, কমলা-মাল্টার জুস, লেবুর শরবত খেলে ভালো হয়। তবে বাজারচলতি জুস নয়। এতে সোডিয়াম থাকে প্রচুর। এ ছাড়া সবজি স্যুপও এ সময় উপকারী। সুতরাং পরীক্ষার সময় চিন্তাভাবনা করে সীমিত পরিমাণে খাবার খেতে হবে। যাতে নির্বিঘ্নে পরীক্ষা দেওয়া যায়। কোনো সময়ই পরীক্ষার হলে উপবাস অর্থাৎ না খেয়ে যাওয়া উচিত নয়।

লেখক : চিফ নিউট্রিশন অফিসার ও বিভাগীয় প্রধান (অব.), বারডেম। সভাপতি, ডায়াবেটিস নিউট্রিশনিস্ট সোসাইটি অব বাংলাদেশ, পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, শ্যামলী ও অ্যাডভান্স হাসপাতাল, ঢাকা

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম